মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২০
Online Edition

সেন্টমার্টিনকে নিজেদের দাবি করায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব

স্টাফ রিপোর্টার : নতুন করে মিথ্যা দাবি তুললো মিয়ানমার। মিয়ানমারের দাবি সেন্টমার্টিন দ্বীপের কিছু অংশ তাদের ভূখণ্ডের।
তবে মিয়ানমারের এ দাবিকে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করে গতকাল শনিবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও’কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। এ সময় মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি কূটনৈতিক পত্র দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ারস ইউনিটের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অবসারপ্রাপ্ত) মো. খুরশেদ আলমের দপ্তরে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয় এবং তাকে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানানো হয়।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও’কে ডেকে এনে বলা হয়, মিয়ানমার সরকার গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে চাচ্ছে। মিয়ানমার ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিনের কিছু অংশ বৈশ্বিক অঙ্গনে নিজেদের বলে প্রচার করছে, যা খুবই আপত্তিজনক। মিয়ানমার যদি এমন আপত্তিজনক কাজ চালিয়ে যেতে থাকে তবে বাংলাদেশ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।
এ সময় রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও’র হাতে একটি কূটনৈতিক চিঠি ধরিয়ে দেওয়া হয়। যাতে সেন্টমার্টিন যে বাংলাদেশের অংশ তার পূঙ্খানুপুঙ্খ প্রমাণ রয়েছে। পাশাপাশি ওই চিঠিতে মিয়ানমারের এমন আপত্তিকর কাজের জবাবও চাওয়া হয়।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লুইন এ ব্যাপারে বলেন, এটা ভুলবশত হয়েছে। মিয়ানমার ভুলবশত সেন্টমার্টিনকে  তাদের ভূখণ্ডে দেখিয়েছে।
 ইতিহাস অনুযায়ী, সেন্টমার্টিন দ্বীপ কখনোই মিয়ানমারের অধীনে ছিল না। ১৯৩৭ সালে এটা ব্রিটিশ ভারতের অধীনে ছিল।
বাংলাদেশ সরকারি এক কর্মকর্তা বলেন, ১৯৪৭ সালে সেন্টমার্টিন পাকিস্তানের অধীনে ছিল কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশ এর মালিক হয়। তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালে মার্চে যখন মিয়ামানের বিপক্ষে সামুদ্রিক সীমানা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে রায় হয় সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয় সেন্টমার্টিন পুরোপুরি বাংলাদেশ ভূখণ্ডের।
 মিয়ানমার নতুন করে কীভাবে এটার দাবি তুলে? তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করেছে তার কোনো সন্দেহ নেই, বলেন ওই কর্মকর্তা।
বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্র জানায়, খুরশেদ আলমের সঙ্গে মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতের প্রায় এক ঘণ্টার আলোচনা হয়েছে। সেখানে তিনি প্রতিবাদসহ সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনেক কাগজপত্র হস্তান্তর করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ