শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

সেপ্টেম্বর মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : ­[তিন]
যুবলীগ : ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার সাভারে স্ত্রী হত্যা মামলায় যুবলীগ উপজেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য সেলিম মন্ডলকে আটক করে পুলিশ। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর সদরে জাতীয় পার্টির মিছিলে বাধা দেয় যুবলীগ-ছাত্রলীগ। তাদের দাবী জাপা, বিএনপি-ছাত্রদল নিয়ে মিছিল করে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করে। ১০ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে জৈনসার ইউনিয়ন যুবলীগ সহ-সভাপতি শাকিলকে ১৬২টি বিয়ারসহ কাঁঠালতলী মুজাহিদপুর গ্রাম থেকে আটক করে পুলিশ। ফেনীর সোনাগাজীতে তাকিয়া বাজার-কাজিরহাট সড়কে আলমপুরে এক কিশোরীকে গনধর্ষণের অভিযোগে বগাদান ইউপি মেম্বর ও ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মঈন উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, নজরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও অটোচালক আলমগীর হোসেনকে আটক করে পুলিশ। ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার আশুলিয়ায় নবীনগর-কালিয়াকৈর সড়কে যানজট সৃষ্টি করে যুবলীগ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আহমেদ নাবিলের নির্বাচনী শোডাউন করা হয়। ফলে এলাকায় বিরাট যানজট সৃষ্টি ও জনদূর্ভোগ হয়। পরে আশুলিয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে যানজট নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন- প্রতি মুহুর্তে তিনি সাংবাদিক সৃষ্টি করতে পারেন। ১৫ সেপ্টেম্বর ফেনী শহরের ডাহাম গলির চাঁন মিয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় জেলা ছাত্রদল নেতা শরীফুল ইসলাম রাসেলের উপর হামলা করে যুবলীগ-ছাত্রলীগ। ১৬ সেপ্টেম্বর বগুড়ার শাহজানপুরে বগুড়া শহর যুবলীগের ১৩ নং ওয়ার্ড সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাদিম প্রামানিককে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশ। ২২ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ পুলিশ কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান এবং জাপা নেতা কে.এম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলায় যুবলীগ ইউনিয়ন সভাপতি ও ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার ফজলু গাজীকে আটক করে। ২৭ সেপ্টেম্বর পাবনার ভাঙ্গুরা স্টেশনের পাশে উপজেলা তাঁতী লীগ সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরদারকে পিটিয়ে জখম করে যুবলীগ কর্মী গোলাম মওলা, ইউসুফ ও ওয়াজেদসহ ১০-১২ জন।
মহিলা আওয়ামী লীগ : ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার আশুলিয়ায় নারী পাচারের অভিযোগে সদর ইউপি মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী নাজমা আক্তারকে নিজ বাড়ী থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তার ছেলে নাকিব মিয়া, নাইমুর রহমান দূর্জয়, ফারুক আহমেদ জয় ও আল-আমিনকেও আটক করে।
যুব মহিলা লীগ : ২৬ সেপ্টেম্বর ফেনী দাগনভূঁয়ার মমারিজপুর থেকে উপজেলা যুব মহিলা লীগ সাধারণ সম্পাদিকা ও মাতুভূঁয়া ইউনিয়ন মেম্বার নাজমা আক্তারের ছেলে রাতুলকে ২০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ।
শ্রমিক লীগ : ৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা জাপা যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক কে.এম মোশাররফ হোসেনকে যুবলীগ অফিসে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় শ্রমিক লীগ নেতা ও একই ইউপি মেম্বার আব্দুল জলিল গাইনসহ ৩৯ জনের নামে মামলা দায়ের হয়। ১ নং আসামীর গাড়ী ও হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ। আসামী খোকন ঢালী, ১০ নং আসামী মোজাফ্ফর হোসেন বিশ্বাস ও ১৪ নং আসামী মন্টু ঘোষকে আটক করে পুলিশ। আসামী মোজাফ্ফর হোসেন বিশ্বাস আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মতে জবানবন্দী দেয়। চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনের সাথে শ্রমিক লীগ নেতা আব্দুল জলিলের দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ : ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ২৫তম ও ২৬তম কিলোমিটার বাগধনিয়া মৌজায় বনায়নের নামে সড়ক ও জনপদের জমি থেকে অবৈধ চাঁদাবাজী করছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আশুলিয়া থানা সহ-সভাপতি লেহাজ উদ্দিন ও তার লোকজন। তারা ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদাদাবী করে। ১৪ সেপ্টেম্বর কানাডা স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটিতে ঢাকা মহানগর কমিটির অপর নেতা কাউছার আলী হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী সোহেল শাহরিয়ার ওরফে শর্টগান সোহেল কানাডা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। গত ২০০৮ সালে ৪ মার্চ কাউছার আলীকে শাহজানপুরে হত্যা করা হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার আশুলিয়ায় ডিইপিজেড গেটের কাছে দলীয় কোন্দলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ থানা যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল সিকদার আহত হওয়ায় ১১ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। ৩০ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে হরিরামপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ আহবায়ক শাহীন মিয়াকে ৫১ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ।
বিএনপি : ৩০ আগস্ট যশোরের ঝিকরগাছায় মোবারকপুর গ্রামের বিএনপি নেতা মুজিবুল এলাহী মিঠু দীর্ঘ ৪ বছর মালয়েশিয়ায় অবস্থান করেও ঝিকরগাছায় থানায় এক মামলার ১২ নং আসামী। ১ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলায় ২৪ নং আসামী হাড়িয়া গ্রামের বাবলুর রহমানও ঘটনার সময় হজ্জ্ব পালন করতে সৌদীতে ছিল। তাকেও ওই মামলায় আসামী করা হয়। রাজশাহীর চারঘাট থেকে বিএনপি নেতা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁনকে আটক করে পুলিশ। ২ সেপ্টেম্বর খুলনা মহানগরী থেকে বিএনপির ২০ নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে। পিরোজপুর সদর থেকে পুলিশ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম কিসমত, জেলা ছাত্রদল সাবেক সভাপতি শেখ হাসানুল কবীর লীন, মৎসজীবি দল জেলা সভাপতি তরিকুল ইসলাম নজিবুল, জব্বার মোল্লা, ছাত্রদল জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন কুমার ও ছাত্রদল নেতা রায়হান রাজুকে আটক করে। বগুড়ার শাহজানপুরে হজ্জ্ব পালনরত বিএনপির নেতা খায়রুল বাশারসহ ৬০ নেতা-কর্মীর নামে অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলা করে এবং ২৪ জনকে আটক করে পুলিশ। ২ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত উপজেলা সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন মাসুদকে আটক করে পুলিশ। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ থেকে বিএনপির ৬ নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে। আটককৃতরা হলো- সদর ইউনিয়নের যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম কাঞ্চন, খালেদুন, ছাত্রদল নেতা হাবিবুল্লাহ, মধ্যনগর থানা ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান মিনু ও তৌফিক খন্দকারসহ ৬ জন।
৩ সেপ্টেম্বর বরিশাল মহানগরী থেকে বিএনপি নেতার ছেলে ইত্তেসাফ রাফিসহ ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। সিলেট শহরের খাসদবির ইলাশকান্দি এলাকা থেকে যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মামুনকে আটক করে পুলিশ। ৪ সেপ্টেম্বর সিলেটের ওসমানীনগর থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মোতাহার আলী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও দয়ামী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এস.টি এম ফখর উদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ ভাইস-চেয়ারম্যান গিয়াস মিয়া, গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ কাওছার আহমেদ, থানা বিএনপি নেতা কয়েস চৌধূরী, আবুল কালাম, ইরশাদ রশীদ জিলু, সিরাজুল ইসলাম, হাদিস খান, আব্দুল মান্নান, সার্জন মিয়া, কমরু মিয়া, শফিক আহমেদ চৌধূরী, ছাত্রদল নেতা রকিব আলী, আতিকুল ইসলাম ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কামাল আহমেদ পারভেজকে আটক করে পুলিশ। নাটোরের বড়াইগ্রাম থেকে ৮ বিএনপি নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- বড়াইগ্রাম পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ সরকার, উপজেলা ছাত্রদল সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক সরকার, শহর ছাত্রদল সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম, বিএনপি কর্মী আশরাফুল ইসলাম আকাশ, আক্তার হোসেন শেখ, টিটু শেখ, সজীব হোসেন ও সাজদার হোসেন। ৫ সেপ্টেম্বর বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পুলিশ বিএনপি নেতা হুমায়ুন সরদার, যুবদল নেতা হুমায়ুন কবীর ও শামসুল শাহকে আটক করে।
৭ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল সদরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ ফরহাদ ইকবালকে বেপারী পাড়ায় নিজ বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। টাঙ্গাইলের সখীপুর পুলিশ পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনি, নাছির উদ্দিন, পৌর যুবদল সহ-সভাপতি সেন্টু মিয়া, উপজেলা কৃষক দল সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক ও ছাত্রদল মুজিব কলেজ সভাপতি একাব্বার হোসেনকে আটক করে। চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানায় বিএনপি সভাপতি আব্দুস সাত্তার সেলিম, সহ-সভাপতি শহীদ উল্লাহ ভূঁইয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া গোলাপকে পুলিশ আটক করে। বগুড়ার গাবতলীতে আওয়ামী লীগ অফিসে ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় বিএনপি নেতা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর ছেলে সাজ্জাদুজ্জামান সিরাজ জয়কে অভিযুক্ত করে আওয়ামী লীগ। নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম সরকারকে আটক করে পুলিশ। ৮ সেপ্টেম্বর পিরোজপুরের নেছারাবাদ থেকে স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিচুজ্জামান, যুবদল নেতা আসলাম হোসেন ও উপজেলা ছাত্রদল যুগ্ম-আহবায়ক আল-আমিন সিকদারকে পুলিশ আটক করে। রাজবাড়ী সদর থেকে পুলিশ বিএনপির ২ কর্মীকে আটক করে।
৯ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠি থেকে বিএনপির ১৭ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- জেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন তুহীন, জেলা স্বেচ্ছাসবকর দল সভাপতি শফিকুল ইসলাম লিটন, যুবদল নেতা জাহিদ হোসেন, ইয়াসিন আরাফাত মিঠু, কাঁঠালিয়া থেকে উপজেলা যুবদল সভাপতি কিশোর মাহমুদসহ ৩ জন ও নলছিটি থেকে ৫ জনসহ ১৭ জন। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে জেলা বিএনপির অফিস সম্পাদকসহ ৭ জনকে আটক করে পুলিশ। ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর পুলিশ বিএনপির ৬ নেতা-কর্মীকে আটক করে। আটককৃতরা হলো- উপজেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক শহীদ আল-মামুন অভি, শুক্তগড় ইউনিয়ন যুবদল নেতা নাজমুল হুদা তালুকদার চমন, বিএনপি নেতা আলমগীর হায়দার, কামরুল ইসলাম চুন্নু, আব্দুল করীম মৃধা বাবুল ও সাদ্দাম হোসেন ফারাজী। নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম সরকারকে পুলিশ নয়াপুর থেকে আটক করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ