সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে  অতিষ্ঠ খুলনা মহানগরবাসী

 

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীতে দফায় দফায় বিদ্যুতের বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। ঘন ঘন বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নগরবাসী। তাপদাহের সাথে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে গ্রাহকরা। সাত সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ছন্দপতন হচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। বিদ্যুতের সঞ্চালন ব্যবস্থায় ত্রুটি ও ট্রান্সফরমার ওভার লোডেড হওয়ার কারণে বিদ্যুতের বিভ্রাট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

ওজোপাডিকোর সূত্র মতে, খুলনায় বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৬৭৫ জন। এসব বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য চারটি বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র রয়েছে। খুলনায় ৭১টি ফিডার রয়েছে। এর মধ্যে গ্রাহক ফিডার ৪৮টি এবং এক্সপ্রেস ফিডার ২৩টি। বিতরণ লাইন রয়েছে এক হাজার পাঁচ কিলোমিটার। ট্রান্সফরমার রয়েছে ১ হাজার ৩৪৩টি। এসব ট্রান্সফরমার ওভার লোডেড ও সঞ্চালন লাইনের ত্রুটির এবং উন্নয়ন কাজের জন্য ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে বিভ্রাটও বেড়ে যায়। এতে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।  সূত্র জানায়, শুক্রবার খুলনাসহ দক্ষিণের ২১ জেলায় বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি ছিল না। ১ হাজার ৫৩৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহও একই ছিল। তবে সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। এর মধ্যে দেয়াড়া ফিডারে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট থেকে ৯টা ২২ মিনিট পর্যন্ত ট্রান্সফরমার ত্রুটি সংক্রান্ত কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। কমিশনার ফিডারে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সংরক্ষণ কাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। একই ফিডারে রাত ৮টা ৫৫ মিনিট থেকে ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত, ফুলতলা ফিডারে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৫ মিনিট পর্যন্ত, ট্রান্সফরমারের লুপ লাগানোর জন্য, ইসলামাবাগ ফিডারে বিকাল ৫ টা ২৭ মিনিট থেকে ৫ টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত ফিউজ লাগানোর জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এছাড়া ৫ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। 

খালিশপুর মুজগুন্নী এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাচ্ছে। অবশ্য ১৫ থেকে ৩০ মিনিট বন্ধ থেকে ফের বিদ্যুৎ চলে আসে। সেই সাথে রয়েছে লো ভোল্টেজ। এতো ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া এবং বিদ্যুতের ভোল্টেজ আপ-ডাউন করার কারণে ফ্রিজ, টিভি, ফ্যান, লাইটসহ ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া গরমের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। শুক্রবার জুম্মা এর নামাজের প্রায় শেষ মুহূর্তে বিদ্যুৎ আসে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী বিদ্যুৎ ছিল না। এছাড়া সন্ধ্যায়ও এক দফা বিদ্যুৎ যায়। 

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন, ফল্ট, ট্রান্সফরমারের ফিউজ ও লুপ লাগানোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। ফলে কিছুটা বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। তবে কোন লোডশেডিং নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ