সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

সংবিধান পরিপন্থী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট হওয়া উচিত

 

খুলনা অফিস : সংবিধানে বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। অতএব সংবিধান পরিপন্থী জনস্বার্থ বিরোধী প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট হওয়া উচিত। এ আইনের মধ্যদিয়ে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ উপেক্ষা করা হয়েছে। ৩৯ ধারায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ আইন কার্যকর হলে অনুসন্ধানী সংবাদিকতা ধ্বংস হবে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে না। দুর্নীতিবাজদের আড়াল করতে এ আইন মন্ত্রিসভা ও সংসদে পাশ করা হয়েছে। এটি স্বাধীন দেশের উপযোগী নয়। এটি কালো আইন বলে চিহ্নিত। শনিবার বেলা ১১ টায় স্থানীয় উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়নে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। নাগরিক ঐক্য, খুলনা মহানগর শাখা এ সেমিনারের আয়োজক। খুলনায় এ ধরনের সেমিনার এই প্রথম। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য এডভোকেট মো. এনায়েত আলী বলেন, সংবিধান অনুসরণ করা হলে জনকল্যাণ বিরোধী আইন করা যায় না। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য স্বৈরশাসকরা কালো আইন করতে চায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংবিধান বিরোধী। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও দৈনিক অণির্বান সম্পাদক অধ্যক্ষ আলী আহমেদ বলেন, বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ক্ষুণœ হলে গণতন্ত্র পরিপূর্ণতা পায় না। গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ধ্বংস হলে সাংবাদিকতার অঙ্গহানি হবে। এই কালো আইনের বিরুদ্ধে খুলনা থেকে আন্দোলন গড়ে উঠবে। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট মো. আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু বলেন, সংবিধান পরিপন্থী ডিজিটাল আইনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করতে হবে। মানুষের গণতন্ত্রহরণকারী কালো আইন স্বাধীন দেশের মানুষ মেনে নেবে না। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ধ্বংস হলে সত্য জানা থেকে জাতি বঞ্চিত হবে। এ কালো আইনের বিরুদ্ধে সকল পেশার মানুষকে আন্দোলন করতে হবে। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআরপি ডিসিপ্লিনের সাবেক ডীন প্রফেসর ড. রেজাউল করিম বলেন, বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ হলে স্বৈরতন্ত্র জেকে বসবে, গণতন্ত্রের কবর হবে। গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে সকল দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করতে হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নগর নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক এডভোকেট ড. মো. জাকির হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ আব্দুল আজিজ, নগর মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আক্তার জাহান রুকু, নগর জেএসডির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক, মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের স্থানীয় সমন্বয়কারী সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান ও এডভোকেট অচিন্ত্য কুমার দাশ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্থানীয় সংবাদকর্মী কাজী মোতাহার রহমান বাবু। স্বাগত ভাষণ দেন নগর নাগরিক ঐক্যের সদস্য সচিব ক্রীড়া সংগঠক মো. মোস্তাকুজ্জামান। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন নাগরিক ঐক্যের সদর থানা আহ্বায়ক এডভোকেট জিএম সাইফুল ইসলাম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ