শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

৭-২৮ অক্টোবর প্রজনন মওসুম  ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ!

 

খুলনা অফিস : ইলিশের ভরা মওসুম চলছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে ইলিশের আমদানিও প্রচুর। দামও তুলনামূলক কম। আর এ সুযোগে রসনা বিলাসি বাঙালি ইলিশের স্বাদ নিতে মোটেও ভুল করেনি। অধিকাংশ পরিবারের খাবারের তালিকায় কমবেশি ইলিশ ছিল।

এদিকে, ইলিশের প্রধান প্রজনন মওসুম হওয়ায় আজ রোববার থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। মূলত পরিপক্ক ইলিশের নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং এর মধ্যদিয়ে ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উল্লিখিত সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অপরদিকে, ইলিশ আহরণ, পরিবহণ ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়ায় সাগর ও মোহনায় ইলিশ ধরায় নিয়োজিত জেলেরা আহরণকৃত ইলিশ নিয়ে স্ব-স্ব ঘাট ও মোকামে ফিরতে শুরু করেছে। যে কারণে খুলনার ৫ নম্বর ঘাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের ছড়াছড়ি চলছে। ফলশ্রুতিতে এ মোকামে পাইকারদের পাশাপাশি খুচরা ক্রেতারাও ভিড় করছেন। শনিবারও ইলিশের আমদানি এবং ক্রেতার ভিড় আরও বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

মৎস্য অধিদপ্তরের সূত্র জানান, আজ ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মওসুম। এ কারণে উল্লিখিত সময়ে আহরণ নিষিদ্ধ করে ইলিশের ডিম ছাড়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। মৎস্য সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ অনুযায়ী সরকার এ সময়ের মধ্যে সব ধরনের ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে সাগর ও মোহনায় ইলিশ ধরায় নিয়োজিত সকল ট্রলার, নৌযান, নৌকার মালিক ও জেলেদের রোববারের আগেই স্ব-স্ব ঘাট ও মোকামে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। এছাড়া ইলিশ আহরণ, পরিবহণ ও মজুদে নিয়োজিত জেলে ট্রলার, নৌকা, স্টিমার, লঞ্চ, বাস ও অন্যান্য পরিবহণের মালিক, আড়তদার ও বরফকল মালিকসহ জনসাধারণকেও আইন রক্ষায় সচেষ্ট থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।

খুলনা মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক রণজিৎ কুমার পাল বলেন, নিষিদ্ধ মওসুমে সরকার ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে। কেউ এ আইন অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিষিদ্ধ সময়ে মনিটরিং করা হবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

এদিকে, খুলনার ইলিশ অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের ব্যাপক আমদানি ঘটে। যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৫শ’ মণ। আড়তদার আয়ুব আলী ফিস ট্রেডাসের প্রোপাইটার শেখ সাইদুল ইসলাম জানান, আহরণ নিষিদ্ধের ঘোষণায় জেলেরা ফিরে আসতে শুরু করেছে। যে কারণে মোকামে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। শুক্রবার প্রায় ৫শ’ মণ ইলিশ আমদানি হয়। শনিবার বিক্রির শেষ দিনও ৫শ’ মণ ইলিশের সরবরাহ হয়েছে বলে তিনি জানান। দাম প্রসঙ্গে শুক্রবারের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ৬শ’ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত প্রতিমণ ২৬ হাজার টাকা এবং তার নিচের ওজনের ইলিশ মণপ্রতি ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তবে বিগত দিনের চিত্র উল্লেখ করে ইলিশের এই পাইকার বলেন, খুলনার মোকামে গত দশ বছরের তুলনায় এবারেই সব চেয়ে কম আমদানি হয়েছে। হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর ও পাথরঘাটা মোকাম থেকে ইলিশ আমদানির পরিমাণ খুবই কম ছিল।

অপর আড়তদার আলাউদ্দিন ফিস ট্রেডার্সের প্রোপ্রাইটার শেখ মাঈন উদ্দিন টোকন জানান, খুলনাঞ্চলে মহাজনের মালিকানাধীন ১৫ থেকে ২০টি ইলিশ ধরার ট্রলার রয়েছে। যাতে দুই শতাধিক জেলে রয়েছে। ইতোমধ্যেই ট্রলারসহ অধিকাংশ জেলে ঘাটে ফিরেছে। বাকিরা আজকের মধ্যেই ফিরে আসবে।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন, খুলনা অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, গতবারের তুলনায় এ মওসুমে ইলিশ আমদানির পরিমাণ ছিল কম। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ২৪৫ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হলেও এবছরের আগস্ট মাসে ১৪০ মেট্রিক টন আমদানি হয়েছে। ২০১৭ সালের পুরো মওসুমে ১ হাজার ৩ মেট্রিক টন আমদানি হলেও এ মওসুমের মধ্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬৬ মেট্রিক টন আমদানি হয়। তবে, শেষের দিকে এসে আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বঙ্গোপসাগরে ইলিশের উৎপাদন কমেছে। এছাড়া ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণে ইলিশ মাছের অবস্থান ও গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ