শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

খুলনায় একই রাতে বিএনপি’র ৫ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৫টি ‘গায়েবি’ মামলা

খুলনা অফিস : সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, পুলিশের কাজে বাধা ও হামলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে খুলনা মহানগরীর ৫টি থানায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর রাতে নগরীর সদর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়। সবগুলো মামলার বাদিই পুলিশ। এসব মামলায় মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। এর মধ্যে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, খানজাহান আলী থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম লাভলু, নগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আল আমিন লিটন, নগর যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক কামরান হাসান আরশাদ ও ছাত্রনেতা শেখ সানিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তবে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, যে সব ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে-এমন ঘটনা আদৌ ঘটেনি। বিএনপিকে চাপে রাখতে সারাদেশে যে গায়েবি কাল্পনিক মামলা চলছে-তারই অংশ হিসেবে নেতাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলা করা হচ্ছে। নগরীর ৫টি থানা ও এজাহার থেকে জানা গেছে, খুলনা সদর থানায় দায়ের করা মামলার বাদি এস আই দেলোয়ার হোসেন। তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ‘৪ অক্টোবর বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে পিকচার প্যালেস মোড়ে আসামীরা একত্রিত হইয়া বিক্ষোভ, ইজিবাইক ভাঙচুর, পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলা করেছেন’। এই মামলায় মহানগর যুবদলের সভাপতি মাহাবুব হাসান পিয়ারু, নগর বিএনপির সহ-প্রকাশনা সম্পাদক হাসানুর রশিদ মিরাজ, ২১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নাজির উদ্দিন আহমেদ নান্নু, সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ, সদর থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় ৪০/৫০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামী যুবদল সভাপতি মাহাবুব হাসান পিয়ারু বলেন, ‘শুধু পিকচার প্যালেস মোড় কেন-বৃহস্পতিবার সারা শহরে কোথাও কোনো মিছিল হয়নি, ভাংচুর হয়নি। সম্পূর্ণ কাল্পনিক গল্প সাজিয়ে এই মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পিকচার প্যালেস মোড়ে পুলিশের একাধিক সিসি ক্যামেরা আছে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্যামেরা আছে। সেগুলো দেখলেই পুলিশের মিথ্যা গল্প ফাঁস হয়ে যাবে।’ তবে, খুলনা সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, ঘটনা ঘটেছে বলেই মামলা হয়েছে।

একইভাবে নগরীর সোনাডাঙ্গা সিএন্ডবি কলোনী এলাকায় বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্র ধ্বংস ও নাশকতা চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেছে। মামলা নং-৬। এই মামলায় সোনাডাঙ্গা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম আসাদুজ্জামান মুরাদ, মহানগর যুবদলের সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারু, মহানগর ছাত্রদল সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাবু, শরিফুল ইসলাম সাগর, শাকিল আহম্মেদ, মিজানুর রহমান শাকিল, সাইফুল ইসলাম সাদী, শফিকুল ইসলাম তুহিনসহ ১৬ জনের নাম রয়েছে। অজ্ঞাত আসামী আরও ১৫০ জন। পুলিশ ৫টি লোহার রড, ১২টি বাঁশের লাঠি, ১৭টি ভাঙা ইটের টুকরা জব্দ করে।

সোনাডাঙ্গা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম আসাদুজ্জামান মুরাদ বলেন, পুলিশ সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও গায়েবি মামলা করেছে। ঘটনাস্থলে বিএনপির নেতাকর্মীদের কেউই উপস্থিত ছিল না। আর এ ধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। পুলিশ আগামী নির্বাচনে মাঠ ফাঁকা করতে এ ধরনের মিথ্যা মামলা করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মমতাজুল হক জানান, গত ৩ অক্টোবর রাত ৯টা ৪০ মিনিটের সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার একটি কেপিআই এলাকা ধ্বংসের চেষ্টা ও সহায়তায় অভিযোগে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার বাদি সোনাডাঙ্গা থানার এস আই রণজিত কুমার বিশ্বাস।

দৌলতপুর থানায় দায়ের করা মামলার বাদি আসাদুজ্জামান নূর। এই মামলায় নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, দৌলতপুর থানা সভাপতি শেখ মুশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক নান্নু, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ আহসান তোতন, বিএল কলেজ ছাত্রদল সভাপতি রিয়াজ শাহেদসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত পরিচয় আসামী করা হয়েছে আরও ১৪০/১৫০ জনকে।

দৌলতপুর থানার ওসি কাজী মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘৪ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৫টায় দৌলতপুর শশিভুষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মারামারি, যানবাহন ভাংচুরের চেষ্টা এবং বাধা দিতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা করেছেন আসামীরা। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।’

খানজাহান আলী থানা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের ২০ নেতাকর্মীর নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে খানজাহান আলী মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও অজ্ঞাত ৭০ জনকে আসামী করা হয়েছে। খানজাহান আলী থানার এসআই বিধান চন্দ্র সানা বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে খানজাহান আলী থানা বিএনপির সভাপতি মীর কায়সেদ আলী, সাধারণ সম্পাদক শেখ আমজাদ হোসেন, থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মিজানুর রহমান, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ ইকবাল হোসেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকারিয়া মাহমুদ পিটু, মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শরিফ ওবায়দুর রহমান চয়ন, মো. মোমিনুল ইসলাম, মো. রাসেল আহম্মেদ, মো. রবিউল ইসলাম সবুজ, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এস এ রহমান বাবুল, খানজাহান আলী থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোল্যা সোহরাব হোসেন, মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি মোল্যা সোলায়মান, মো. বাপ্পি শেখ, খানজাহান আলী থানা ছাত্রদলের আহবায়ক শেখ বিল্লাল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব হোসেন, মো. মতিয়ার রহমান, বাচ্চু শেখ হুমাউন শেখকে আসামী করেছে। এছাড়াও মামলায় আরও ৭০ জনকে আসামী করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিএনপি কর্মীরা খুলনা-যশোর মহাসড়কের ফুলবাড়ীগেট বাসস্ট্যান্ডের সামনে রাস্তা অবরোধ করে নাশকতার উদ্দেশে গাড়ি ভাংচুর করে। এ ব্যাপারে বিশেষ ক্ষমতা আইনে খানজাহান আলী থানায় মামলা হয়েছে (মামলা নং-১, তাং-৪/১০/১৮)। নগরীর খানজাহান আলী থানায় দায়ের করা মামলার বাদি এস আই বিধান চন্দ্র সানা। এই মামলা ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় ৬০/৭০ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘৪ অক্টোবর বিকাল ৫টা ২৫ মিনিটে ফুলবাড়িগেট সোহাগ কাউন্টারের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মিছিল করে গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। নগরীর খালিশপুর থানায় দায়ের করা মামলার বাদি এস আই হাতিম আলী। এই মামলায় ৮/৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৪০/৫০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ