সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

নির্দলীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো ছাড় হবে না -খন্দকার মাহবুব হোসেন

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণতন্ত্র ও খালেদা জিযার মুক্তি আইনজীবী আন্দোলন আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। অনেক খেলা হয়েছে। এবার রাজপথে হবে শেষ খেলা।
গতকাল শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলন’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার মাহবুব হোসেন এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি এ্যাডভোকেট মনির হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আবদুল আওয়াল মিন্টু ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব। বক্তব্য রাখেন গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলনের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার ও আশরাফ-উজ্জামান, এ্যাডভোকেট আইয়ুব আলী আশ্রাফী প্রমুখ।
প্রধান অতিথি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি খালেদা জিয়ার কারাগারের যাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। দুর্নীতির সঙ্গে তার কারাগারে যাওয়ার সম্পর্ক নেই। আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে মুক্ত করা কঠিন হবে। সরকার তাকে কারাগারে রেখে নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা দিয়েছে। যে মামলায় তিনি কারাগারে গেছেন সে মামলায় জামিন হলেও তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি। ২০১৫ সালের মামলায় তার জামিন হচ্ছে না। এ মামলায় আমি আদালতে শুনানি করেছি। হাইকোর্ট জামিন দিয়েছিলেন। পরে সরকার আপিল করলে হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করে বিচারিক আদালতকে নিষ্পত্তি করতে বলেছিলেন। বিচারিক আদালত জামিনের শুনানিতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছেন। এই দুটি মামলায় জামিন হলেও তারা কারামুক্তির নিশ্চয়তা দেখতে পাচ্ছি না। সরকার আরো মামলা দিবে না এর নিশ্চয়তা কে দেবে? তাই রাজপথের মোকাবেলায় তাকে কারামুক্ত করে আনতে হবে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলেল সাবেক এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তাকে বিদেশীরা অনেক পছন্দ করেন। যদি এতোই পছন্দ করে তাহলে দয়া করে বিদেশে চলে যান। আর উন্নয়নের জোয়ার দেখিয়ে জনগণের ঘাড়ে চড়ে থাকবেন না। জনগণ আপনার দু:শাসন আর দেখতে চায় না। তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসন থেকে মুক্তি চায়। প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন মানুষের প্রাণের দাবি। মানুষ চায় অবাধ ও নির্বিঘেœ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। জনগণকে এই সুযোগ দিয়ে জনগণের সরকার বেছে নেয়ার সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে জনগণ রাজপথে নেমে তাদের অধিকার অধিকার আদায় করে ছাড়বে। আমরা দেখেছি শিক্ষার্থীরা যখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজপথে নেমেছে তাদের অনেকের শ্লোগান ছিল এ সরকারের লাইসেন্স নেই। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বলে দিয়েছে লাইসেন্স ছাড়া সরকার ক্ষমতায় আছে। একদিন এ জন্য তাদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে ভারতের নাক গলানো বন্ধ করতে হবে। তাদের হাইকমিশনার বলেছে বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না। তার মানে অতীতে হস্তক্ষেপ করেছে। ভারতকে বলতে হবে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার জন্য তাদের ৭০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, সেই টাকা আগেই শোধ করেছে বাংলাদেশ। আপাতত আমাদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ কর। নির্বাচনকালীন সরকারের আকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ছোটো মন্ত্রী সভা হবে। সেখানে বিএনপির দুই তিনজনের প্রতিনিধিত্ব থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বিএনপিকে দেয়া হলে এ নিয়ে প্রশ্ন থাকবে না।
সরকারের দু:শাসন বিএনপির জন্য শাপে বর হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা বিএনপির জন্য ভাল হয়েছে। আমি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনেকের চেহারায় পরিবর্তনের চাপ লক্ষ্য করেছি। তারা নতুনধারার চিন্তা ভাবনা করছেন। এখন সময় এসেছে তাদের চিন্তার উপযুক্ততা প্রমাণের। আজকে যে জাতীয় ঐক্যের শুরু হয়েছে এর পেছনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও অবদান রয়েছে। তিনি কারাগারে যাওয়ার আগে নেতাকর্মীদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পরামর্শ দিয়ে গেছেন।
আবদুল আওয়াল মিন্টু বলেন, দেশে একটি বৈধ সরকার দরকার। যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবে এবং দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য পাবে। এ জন্য দরকার সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। একইসঙ্গে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, পনেরশ শতকে গায়ের জোরে ক্ষমতা দখলের রাজনীতির চর্চা ছিল। গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করা শক্তি জনগণকে তাদের বশ্যতা মানতে বাধ্য করতো। বর্তমান শাসক গোষ্ঠী সে পনেরশ শতকে বসবাস করছেন। তাদের আমলে একটি নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়নি। এবারো তারা গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে চায়। কিন্তু জনগণ সেটা মেনে নিবে না। জনগণ সেটা হতে দিবে না। যারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিরর মতো আরেকটি নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছেন তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। 
সভাপতির বক্তব্যে এ্যাডভোকেট মনির হোসেন অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল এবং নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের সাত দফা দাবি পেশ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ