সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চোটগ্রস্ত আঙুলটি পুরোপুরি ঠিক হবে না --------সাকিব

স্পোর্টস রিপোর্টার : আঙুলের চিকিৎসা করানোর উদ্দেশে অস্ট্রেলিয়া গেলেন সাকিব আল হাসান। বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন সাকিব। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত হ্যান্ড সার্জন গ্রেগ হয়ের পরামর্শ নেবেন তিনি। তারপরই ঠিক হবে কখন অস্ত্রোপচার হবে তার বাঁ হাতের কনিষ্ঠায়। অস্ট্রেলিয়ান চিকিৎসককে দেখিয়ে পাঁচ দিন পর ফিরে আসার কথা সাকিবের। ইনফেকশন শূন্যতে নেমে আসলেই আঙ্গুলের অপারেশনে যেতে পারবেন তিনি। দেশ ছাড়ার আগে সাকিব সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। জানিয়েছেন, তার চোটগ্রস্ত আঙুলটি আর কখনোই স্বাভাবিক হবে না। অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে এই দুঃসংবাদই দিয়ে সাকিব বলেন, ‘ইনজুরির দিক থেকে এটা সব থেকে বড়। এর আগে যে সার্জারিটা হয়েছিল ওটা খুব বেশি দিনের না। যদি ওটা প্রথমেই সঠিক ট্রিটমেন্ট পেত, তাহলে অনেক কম সময়ে ঠিক হয়ে যেত। এই মুহূর্তে হাতটা পুরোপুরি তো আর ওইভাবে ঠিক হবে না, ক্রিকেট খেলার মতো ঠিক করতে হবে আঙুলটা। কারণ, এটা নরম হাড্ডি। এটা আর কখনও জোড়া লাগার সম্ভাবনা নেই। তাই পুরোপুরি ঠিক হবে না। কিন্তু সার্জারির মাধ্যমে ওরা এমন একটা সিচুয়েশনে এনে দেবে, যেখান থেকে আমি ব্যাট ভালোভাবে ধরতে পারব, ক্রিকেট খেলাটা চালাতে পারব।’ চিকিৎসার অংশ হিসেবে সাকিবকে বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়েছে। যার সবশেষটি দেয়া হয়েছে গত মঙ্গলবার। বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছেন তেমনটাই, ‘আপাতত আমরা অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসার মধ্যেই আছি। এভাবে আরও সপ্তাহখানেক চলার পর ওর ইনফেকশনের জায়গা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’ এই ইনজুরির কারণে এ বছর আর মাঠে নামা হচ্ছে না সাকিবের। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফর দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা আছে তার। এর আগে জানুয়ারিতে বিপিএল দিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরতে পারেন তিনি। সাকিব বলেন, ‘তিন মাসের যে সময়সীমা, তার এক সপ্তাহের বেশি হয়ে গেল। এখন পর্যন্ত তো আমি আশাবাদী যে (নতুন বছরের) প্রথম থেকেই খেলতে পারব। এখন অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি, ওরা যদি ভালো কোনও ট্রিটমেন্ট দিতে পারে, তাহলে আরও তাড়াতাড়ি হয়তো সারার সম্ভাবনা থাকবে। এখন ইনফেকশনটা দূর করতে হবে। ওটা চলে গেলেই আসলে বোঝা যাবে কত সময় লাগবে। আর মূল সার্জারি হয়ে গেলে ছয় থেকে আট সপ্তাহ লাগবে। আশা করি বিপিএলের বেশ আগেই ফিট হয়ে যাব।’ গত জানুয়ারিতে মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলংকার বিপক্ষে খেলার সময়ই আঙুলের ইনজুরিতে পড়েন সাকিব। এরপর বেশ কিছুদিন খেলার বাইরে ছিলেন এবং আঙুলের চিকিৎসা করিয়ে মাঠে ফেরেন তিনি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার সময়ই জানা গেছে, পুরোপুরি সুস্থ হতে হলে আঙুলে অস্ত্রোপচার করাতে হবে। সাকিব চেয়েছিলেন এশিয়া কাপ না খেলে অস্ত্রোপচারটা করে ফেলতে। কিন্তু বিসিবি সভাপতি চেয়েছিলেন সাকিব এশিয়া কাপটা খেলুক। যদিও তিনি সিদ্ধান্তের ভার সাকিবের ওপর ছেড়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ফিজিওর রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই সাকিব এশিয়া কাপ খেলার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যথানাশক ইনজেকশন দিয়ে এবং ওষুধ খেয়ে সাকিব এশিয়া কাপ খেলে যান। কিন্তু সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার আগেই আঙুলের ব্যথা এতটাই তীব্র যে তিনি ব্যাটই ধরতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত সে অবস্থায়ই দেশে ফিরে আসেন সাকিব। খেলতে পারেননি পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের শেষ ম্যাচ এবং ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল। দেশে আসার পর ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার পর বুঝতে পারেন, মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গেছে। সংক্রমণ এতটাই হয় যে, পুরো আঙুল পুঁজে ভরে গেছে। অস্ত্রোপচার করে আগে সেই পুঁজ বের করা হয়। সাকিব বলেন, আরেকটু হলেই সেই সংক্রমণ হাতের কব্জি ধরে ফেলতো এবং পুরো হাতই নষ্ট হয়ে যেত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ