বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

ইসরাইলের ফাঁকা হুমকিতে প্রতিরোধ আন্দোলন বন্ধ হবে না: হামাস

৬ অক্টোবর, আনাদুলো এজেন্সি ,পার্স টুডে : অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখা হলে এর পরিণাম ভোগ করতে হবে বলে তেল আবিব যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। একই সঙ্গে সংগঠনটি বলেছে, ফাকা হুমকি দিয়ে দখলদারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার স্পৃহা থেকে ফিলিস্তিনিদেরকে বিরত রাখা যাবে না।

গতকাল (শুক্রবার) হামাস বলেছে, অধিকৃত ভূখ-ে জন্মভূমিতে ফিরে আসার গণ বিক্ষোভ শীর্ষক যে প্রতিবাদ মিছিল চলছে তা নিজেদের ভূমি থেকে বিতাড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আরো জোরদার করা হবে। গাজা উপত্যকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রাখা হলে সেখানে তেল আবিব যুদ্ধ শুরু করবে বলে ইহুদিবাদী ইসরাইরের যুদ্ধমন্ত্রী এভিগদোর লিবারম্যান হুমকি দেয়ার পর হামাসের পক্ষ থেকে এসব বক্তব্য এলো।

গত বৃহস্পতিবার যুদ্ধমন্ত্রী লিবারম্যান গাজায় যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকতে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রতি নিন্দেশ দিয়েছেন। তবে হামাস বলেছে, ফিলিস্তিনি জনগণ ইসরাইলি মন্ত্রীর কোনো হুমকির প্রতি কর্ণপাত করবে না এবং তারা অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখবে।

হামাস আরো বলেছে, লিবারম্যানের হুমকি অন্তসারশƒণ্যএবং তার এসব ভাগাড়ম্বর ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিরোধকামীতার বিরুদ্ধে কোনো চিড় ধরাতে পারবে না। ফিলিস্তিনিদের জন্ম ভূমিতে ফিরে যাওয়ার আন্দোলন দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। তা কোনো হ্মুকির দ্বারা প্রভাবিত হবে না।

এছাড়া ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে হতাহত হয়েছেন শতাধিক ফিলিস্তিনি। শুক্রবার সীমান্তের বাফার জোন এলাকায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ সময় দখলদার বাহিনীর গুলিতে তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন। আহত হন আরও ১২৬ জন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কিদরা বলেন, নিহত তিনজনের মধ্যে একজনের বয়স খুব কম।

তিনি বলেন, দখলদার বাহিনীর গুলিবর্ষণ ও টিয়ারগ্যাসের তা-বে ১২৬ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ নারী ও ৩০ শিশুও রয়েছে। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর।

গাজা উপত্যকার ওপর থেকে ১১ বছরের ইসরায়েলি অবরোধের অবসান চান ফিলিস্তিনিরা। দখলদার বাহিনীর তা-বে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা যেন নিজ ভূখ-ে ফিরতে পারেন সেই দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।

২০১৮ সালের ৩০ মার্চ ভূমি দিবস উপলক্ষে ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দখলদার বাহিনীর হাতে অন্তত ১৯০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০ হাজার মানুষ।

হানাদার ইসরাইলিরা ত্রাণ বা উদ্ধার-কর্মী এবং অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ওপরও হামলা চালায়।

ফিলিস্তিনিরা গাজার ওপর ইসরাইলের অমানবিক অবরোধ তুলে না নেয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ