সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গা নিপীড়কদের শাস্তি নিশ্চিত চায় মার্কিন কংগ্রেস

 রোহিঙ্গ নিপীড়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

২৬ সেপ্টেম্বর, রয়টার্স : মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত অপরাধে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের দ্বিপক্ষীয় একটি মানবাধিকার কমিশন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালিকে লেখা এক চিঠিতে এই আহ্বান জানিয়েছে টম ল্যান্টোস হিউম্যান রাইটস কমিশন নামের কমিশনটি। কমিশনের দুই কো-চেয়ার’র স্বাক্ষরিত কড়া ভাষার ওই চিঠিতে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি করতে জাতিসংঘের চলমান সাধারণ অধিবেশনে ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ণ কূটনৈতিক শক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি জেমস পি ম্যাকগভার্ন ও রিপাবলিকান সদস্য র‌্যান্ডি হাল্টগ্রিন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে একটি বিশ্বাসযোগ্য আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া তৈরির পদক্ষেপে সমর্থন করতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। যাতে এই প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যত বিচারে দায়ীদের বিরুদ্ধে অপরাধের মামলা তৈরির প্রমাণ সংরক্ষণ করা যায়।

চিঠিতে লেখা হয়েছে, মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের কাছে যন্ত্রণাদায়ক কোনও বার্তা পাঠানো এবং অন্য কোনও সরকারকে তার জনগণের প্রতি একই ধরনের সহিংস আচরণ করা ঠেকাতে যেকোনও কিছু করা যেতে পারে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই মিয়ানমারে ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার পক্ষে দাঁড়াতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো সহিংসতা ও নৃশংসতাকে ‘সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত সহিংসতা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও কংগ্রেসের চিঠিতে একে বলা হয়েছে, ‘গণহত্যার কার্যক্রম সংগঠিত হয়েছে বলে এখন বিশ্বাস করা হচ্ছে।’ এর আগে মার্কিন সরকার ওই সহিংসতাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ আখ্যা দিয়েছে।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মার্কিন কংগ্রেসের ল্যান্টোস কমিশন। মানবাধিকারের বিশ্বজনীন ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার ঘোষণার আলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষা এবং তার পক্ষে অবস্থান নিতে এই কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের লেখা চিঠিতে রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়ানক আক্রমণ চালানোর নিন্দা এবং বিগত কয়েক মাসে মিয়ানমারের কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রশংসা করা হয়েছে। তবে চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা আরও অনুপ্রেরণা তৈরির আহ্বান জানাই কারণ আরও অনেক কিছু করার বাকি রয়েছে।’

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ওই অভিযানে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় সাত লাখ রোহিঙ্গা। বেশ কয়েকটি তদন্ত প্রতিবেদনে ওই অভিযানকে মিয়ানমার সেনা ও নিরাপত্তাবাহিনীর চালানো সংঘবদ্ধ ও পদ্ধতিগত অভিযান আখ্যা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের গ্রুপটির লেখা চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংসতার শিকার একমাত্র রোহিঙ্গারাই নয়। কাচিন ও উত্তরাঞ্চলীয় শান প্রদেশের নৃতাত্তি¦ক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।

জাতিগত নিধনযজ্ঞ বা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বারবার বলেছে, ‘অভিযোগ করা খুবই সহজ, তবে আমরা কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ