বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

আফগানিস্তানের কাছে বাংলাদেশের শোচনীয় পরাজয় 

 

আফগানিস্তান-২৫৫/৭

বাংলাদেশ-১১৯/১০

আফগানিস্তান ১৩৬ রানে জয়ী

রফিকুল ইসলাম মিঞা : শক্তিশালী শ্রীলংকাকে হারিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। অবশ্য শ্রীলংকাকে হারিয়ে শুরু করেছিল আফগানিস্তানও। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দু-দলেরই টার্গেট ছিল জয়ী হয়ে নিজেদের সেরা প্রমান করার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুপার ফোরের আগেই হার মানতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আর বাংলাদেশকে ১৩৬ রানে হারিয়ে জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। আগে ব্যাট করে আফগানিস্তান ৭ উইকেটে করেছিল ২৫৫ রান। জয়ের জন্য ২৫৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ১১৯ রানে অলআউট হলে আফগানিস্তান জয় পায় ১৩৬ রানে। এই জয়ের ফলে বাংলাদেশকে পিছনে ফেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলো দলটি। যদিও এই ম্যাচে জয়-পরাজয়ের উপর সুপার ফোরের কোন প্রভাব পড়বে না। কারণ আগেই দল দুটি পজিশনসহ সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে। তবে এই জয়ে আফগানিস্তান যে মানসিক ভাবে একটু এগিয়ে থাকবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আবার সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে আজ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামা বাংলাদেশ মানসিক ভাবে যে একটু পিছিয়ে থাকবে এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই। 

জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে টার্গেট ছিল ২৫৬ রান। টার্গেটটা যে খুব বড় ছিল তা কিন্তু নয়। কিন্তু এই টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব পালনে ছিলেন ব্যর্থ। কারণ প্রথম থেকেই উইকেট হারাতে থাকে টাইগাররা। তামিমের অনুপস্থিতিতে দলের হয়ে লিটনের সাথে ওপেন করতে নামেন নাজমুল হোনের শান্ত। কিন্তু দলীয় ১৫ রানে ওপেনিং জুটির পতন। নাজমুল হোসেন মাত্র ৭ রানে আউট হওয়ার পর আফতাব আহমেদ এর বলে এলবি আউট হয়ে অপর ওপেনার লিটন দাস মাঠ ছাড়েন ৬ রানে। ফলে দলীয় ১৭ রানে বাংলাদেশ হারায় প্রথম দুই উইকেট। তৃতীয় উইকেট জুটিতে মুমিনুলকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেস্টা করেন অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান। কিন্তু দলীয় ৩৯ রানে মুমিনুলকে ৯ রানে ফিরান গুলবাদিন। ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ মিথুন মাত্র ২ রানে আউট হলে ৪৩ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়ে বাংলাদেশ। মিথুনকেও ফিরান গুলবাদিন। মিথুনের বিদায়ে সাকিবের সাথে জুটি করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এই জুটি দলকে ৭৯ রানে নিয়ে বিচ্ছিন্ন হন। সাকিবের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। রশিদ খানের বলে এলবি আউট হওয়ার আগে সাকিব করেন ৫৫ বলে ৩২ রান। রিয়াদের সাথে জুটি করতে নেমে মোসাদ্দেক টিকে থাকতে চেয়েছেন। কিন্তু দলীয় ৯০ রানে রিয়াদের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। রশিদের বলে  বোল্ড আউট হওয়ার আগে রিয়াদ করেন ২৭ রান। দলীয় ১০০ রানে বাংলাদেশ হারায় ৭ম উইকেট। এবার মিরাজ বিদায় নেন ৪ রানে। ফলে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে টাইগাররা। তারপরও দলকে সন্মানজনক স্কোরে নিতে প্রানপন চেস্টা করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ অলআউট হয় ১১৯ রানে। ৪২.১ ওভারেই শেষ বাংলাদেশের ইনিংস। মোসাদ্দেক করেন ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। আফগানিস্তানের পক্ষে রশিদ খান ২টি, মুজিব উর রহমান ২টি ও গুলবাদিন ২টি করে উইকেট নেন। 

এরআগে, টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান ৭ উইকেটে করে ২৫৫ রান। অবশ্য দলীয় ১৬০ রানে ৭ উইকেট হারানো দলকে আর কোন উইকেট না হারেিয় ২৫৫ রানে নিয়ে যান দুই বোলার রশিদ খান আর গুলবাদিন। অস্টম উইকেট জুটিতে এই দুইজন দলকে ৯৫ রানের পার্টনারশীপ উপহার দেন। ফলে বাংলাদেশকে ২৫৬ রানের চ্যালেঞ্জ দিতে পারে আফগানিস্তান। দলের পক্ষে গুলবাদিন ৩৮ বলে ৫ চারে ৪২ রানে আর রশিদ খান ৩২ বলে আট চার আর এক ছক্কায় ৫৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। অবশ্য ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১০ রানে প্রথম উইকেট হারায় আফগানিস্তান। আর ২৮ রানে হারায় দ্বিতীয় উইকেট। দুটি উইকেটই নেন আবু হায়দার রনি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আফগানিস্তানের ওপেনার ইহসানুল্লাহকে ৮ রানে আউট করেন রনি। ৬ষ্ঠ ওভারে আবার রনির সফল দ্বিতীয় আঘাত। এবার ফিরিয়ে দেন আফগানদের আরেক ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান রহমত শাহকে। রনির বলে বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে রহমত শাহ করেন ১০ রান। ইনিংসের শুরুতে রনির ডাবল আঘাতে দলীয় ২৮ রানে প্রথম দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদার সাথে জুটি করে হাশমতউল্লাহ শহিদি দলকে বেশ এগিয়ে নেন। এই জুটি ভাংগার আগে ৫১ রানের দারুণ একটি পার্টনাশীপ পায় আফগানিস্তান। টাইগার বোলাররা বার বার চেস্টা করেও ভাংগন ধরাতে যেন পারছিলেননা শাহজাদ-শহিদি জুটির। শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভাংতে সাকিবের উপরই নির্ভর করতে হয়। অবশেষে সাকিব এই জুটির ভাংগন ধরান দলীয় ৭৯ রানে। বোলিংয়ে এসে নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট পান সাকিব। ওভারের তৃতীয় বলে মোহাম্মদ শাহজাদ উড়িয়ে মারেন সাকিবকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আফগান ওপেনারের। বাউন্ডারি লাইনে লাফ দিয়ে উঠে ক্যাচটি তালুবন্দী করে নেন আবু হায়দার রনি। শুরুতে দুই উইকেট নেয়ার পর রনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধরলেন দুর্দান্ত এক ক্যাচ। বাউন্ডারি লাইনে বলটি তিনি তালুবন্দী না করলে আফগানদের ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা জুটিটিরও হয়তো সমাপ্তি ঘটতো না। দলীয় ১০১ রানে আবার সাকিবের দ্বিতীয় আঘাত। এবার সাকিব বোল্ড করে বিদায় করেন আফগান অধিনায়ক আসগর আফগানকে। আউট হওয়ার আগে আসগর করেন মাত্র ৮ রান। অধিনায়কের বিদায়ে হাশমতউল্লাহ শহিদিও সাথে জুটি করে দলকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন সামিউল্লাহ সেনওয়ারি। কিন্তু সাকিবের সামনে টিকতে পারলেন না তিনিও। দলীয় ১৩৯ রানে সামিউল্লাহকে বোল্ড করে ফিরিয়ে সাকিব নেন তার তৃতীয় উইকেট। আউট হওয়ার আগে সামিউল্লাহ করেন ২৮ রান। দলীয় ১৫০ রানে আফগানিস্তান হারায় দলটির গুরুত্বপূর্ন হাশমতউল্লাহ শহিদির উইকেট। তবে তাকে ফিরান রুবেল হোসেন। রুবেলের বলে লিটনকে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়ার আগে হাশমতউল্লাহ শহিদি করে ৯২ বলে তিন চারে ৫৮ রান। ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ নবীও দলকে এগিয়ে নিতে পারেননি। সাকিবের বলে এলবি আউট হওয়ার আগে করেন ১০ রান। ফলে দলীয় ১৫৬ রানে ৭ উইকেট হারানো দলটির সামনে দু-শত রান করাটাই কঠিন ছিল। কিন্তু অস্টম উইকেট জুটিতে ব্যাট করতে নেমে গুলবাদিন আর রশিদ খান মিলে ৯৫ -রানের জুটি করে দলকে দুশত রানের উপরে নিয়ে যায়। এই জুটির কারণে শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২৫৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর করতে পারে আফগানিস্তান। রশিদ খান ৫৭ রানে আর গুলবাদিন ৪২ রানে অপরাজিত ছিলেন।  বাংলাদেশের পক্ষে  সাকিব আল হাসান ৪টি, আবু হায়দার রনি দুটি আর রুবেল হোসেন নেন একটি করে উইকেট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ