বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

 সাংবাদিকদের এত উদ্বেগ কেন?

সংসদ রিপোর্টার: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সমগ্র দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাংবাদিকরা শুধু তাদের স্বার্থ দেখে এ আইনের বিরুদ্ধে মতামত দিচ্ছে। শুধু কোন গোষ্ঠীর স্বার্থ দেখলে হবে না, শুধু সাংবাদিকরা এতটা সংবেদনশীল হয়ে উঠলো কেন? এত বেশী উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন কেন? এ কারণ কি? এর কোন যৌক্তিকতা  নেই বলে তিনি মনে করেন। কারো কোন কন্ঠরোধ করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২২তম সমাপনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল সর্ম্পকে বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলটা অনেক কতগুরুত্বপূর্ণ। এই বিলটি পাস হওয়ার সাথে সাথে অনেকে মতামত দিয়েছে। সব থেকে দু:খ লাগে, কেউ কেউ ব্যক্তিস্বার্থ থেকে, নিজেদের প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ থেকে তারা মতামত দিয়েছে। কিন্তু এটা তারা চিন্তা করেনি, সমগ্র সমাজ, সমগ্র দেশের জন্য যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা  তাদের মাথায় আসেনি। কয়েকজন স্বনামধন্য সম্পাদক, সাংবাদিক ও সমাজের কয়েকজন বিজ্ঞজন এটার বিরুদ্ধে মতামত দিয়েছে। তারা শুধু তাদের কন্ঠরোধ হলো কিনা সেটাই দেখে, কন্ঠ তো  রোধ হয়নি। এ জন্যই মতামত দিতে পারছেন। 

তিনি বলেন, কন্ঠরোধ করলেও তো আর মতামত দেয়ার ক্ষমতা থাকতো না। আর কন্ঠরোধটা কী। হ্যাঁ, এদেশে মার্শাল ল ছিল, অবৈধ ক্ষমতায় আরোহনকারী ছিল, যারা তাদের পদলেহন করেছে, তাদেও অসুবিধে হয়নি। কিন্তু যারা অন্যায়ের কথা বলতে চেয়েছে, তাদের অসুবিধা হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সময়ে সাংবাদিকরা নির্যাতন হয়েছে সেটাও তারা ভুলে গেছেন। এখন তারা ডিজিটাল আইন করার পরেই কন্ঠরোধ করার কথা বললেন। কন্ঠরোধ কোথায়? এ দেশে একটি টিভি ছিল। কোন সরকার সাহস পেয়েছে টিভিকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে। আমরা সাহস করেছি। টিভিতে মধ্য রাত পর্যন্ত যা খুশি আলোচনা করছে। কেউ তো তাদের গলা চিপে ধরছে না। কেউ তো বাধা দেয়নি। তারা শুধু তাদের সাংবাদিকতার বিষয়টিই দেখছে।

তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকতা হবে গঠনমূলক। সাংবাদিকতা থাকবে দায়িত্বশীল। সমাজের জন্য, দেশের জন্য, মানুষের জন্য। নিশ্চয়ই সাংবাদিকতা সংঘাত লাগানোর জন্য হবে না, দেশের অকল্যানের জন্য হবে না। এমন সাংবাদিকতা থাকবে, যা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সাংবাদিকতা সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ উস্কে দেয়ার জন্য হবে না। দেশের উন্নয়নের জন্য সাংবাদিকতা হবে। এ জন্য সংবাদপত্রের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এত পত্রিকা কোন দেশে আছে। বিশ্বেও কোথাও নেই। সেই সাথে ডিজিটাল বাংলাদেশে অনলাইন পত্রিকাও আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটালের ভালো দিক আছে, খারাপ দিকও আছে। ল্যাপটপ, প্যাড, স্মার্ট হাতে আছে। এর মাধ্যমে ভালো জিনিস জানা যায়, আবার খারাপ দিকও আছে। ছোট শিশু, যুব শ্রেণী, পর্ণো জিনিস, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদের জিনিস প্রচার হয়ে থাকে। এগুলো সমাজের জন্য খারাপ বয়ে আনে। যার কারণে শিশুরা আসক্তি হয়ে যায়। এমনভাবে সম্পৃক্ত হয়ে যায়, যা সমাজে ও পরিবারে নানা প্রভাব ফেলে। এমনভাবে অপপ্রচার হয়, যা পরিবারের অঘটন ঘটে যায়। শিশু থেকে যুবক সবাই সম্পৃক্ত হয়ে যায়। এগুলো তো আমাদের দেখতে হবে, কাজ করতে হবে। এ ধরনের অশ্লিল ও পর্ণো জিনিস যাতে না দেখে। এগুলো দেখে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আত্মহত্যা করে। আবার কেউ অবৈধ সর্ম্পকে জড়িয়ে সমাজের জন্য বার্ডেন হয়ে যায়। এর কু প্রভাবের ফলটা আমাদের সমাজের জন্য ভালো না। সেই সাথে রাজনৈতিক দিকও আছে।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক সামাজিক সকল দিকই আছে। সকল দিকে ভালো ব্যবহার হলে ভালো হবে। আবার সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। ছাত্র-ছাত্রৗ, যুব সমাজ সকলের জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে। সবাই সুফল ভোগ করুক, কুফল বর্জন করুক। এজন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস করা হয়েছে। শুধু গোষ্ঠী স্বার্থ দেখলে হবে না, শুধু সাংবাদিকরা কেন এতটা সংবেদনশীল হয়ে উঠলো কেন? এত বেশী উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন কেন? এ কারণ কি? এর কী কোন যৌক্তিকতা আছে?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা অর্জন করেছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে যে কোন সমস্যা হলেই তা চিহ্নিত করে সমাধান করে যাচ্ছি। সড়ক ও রেল পথের উন্নয়ন করেছি। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগে কবলিত দেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্যও প্রস্তুতি নিয়েছি। জলবায়ুর সমস্যা মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। মানুষের স্বাস্থ্যের প্রতিও নজর দিয়েছি। মাতৃমৃত্যুর হার করেছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের সংসদে গুরুত্বপূর্ণ কতগুলো বিল পাস করেছি। এক্ষেত্রে কৃষিসহ বেশকিছু বিল পাস করেছি। সামাজিক সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। যৌতুক বিল পাস করেছি। প্রত্যেকটি উন্নয়নের জন্য দক্ষ জনশক্তি দরকার। সুপরিকল্পিত উন্নয়ন করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ