বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

অন্তরজ্বালা থেকেই মনগড়া বই লিখেছেন সিনহা ----------ওবায়দুল কাদের

 

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের  বলেছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সাবেক হওয়ার অন্তর জ্বালা থেকেই মনগড়া বই লিখেছেন ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী বঙ্গবন্ধু এভিনিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে  বৈঠক পূর্ব সময়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন দাবি করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান,  সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী,  তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন প্রমুখ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি সাবেক হয়ে গেছেন। সাবেক হওয়ার অন্তর্জ্বালা আছে। কি পরিস্থিতিতে সাবেক হয়েছেন তা সবাই জানে। বই লিখে মনগড়া কথা বলবেন বিদেশে বসে, সেটা নিয়ে কথা বলার কোন প্রয়োজন আছে? ক্ষমতা যখন থাকে না তখন অনেক অন্তরজ্বালা গড়ে উঠে।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় এখন বইতে যা লিখেছেন, তখন বলার সৎ সাহস একজন বিচারপতির কেন ছিলো না? এখন বিদায় নিয়ে কেন পুরানো কথা নতুন করে বলছেন, যা খুশি তাই বলছেন। এটা হয়, এটা হতেই পারে। এ নিয়ে আমরা কোন মন্তব্য করতে চাই না। তিনি যদি সত্যই বলতেন, তাহলে যখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন তখন বললেন না কেন? সত্য কথা দেশের জনগণের মাঝে এসে বললেন না কেন? এখন বিদেশে বসে আপন মনে ভূতুড়ে কথা চাপছে। এটা আমাদের ও দেশের মানুষের বিশ্বাস করতে হবে? এর যৌক্তিকতা নাই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলে দলে জনে জনে যে ঐক্যের কথা  আসছে। এতে করে কি জনমনে কোন প্রভাব ফেলবে? শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কি জনপ্রিয়তা কমে যাবে? আমার বিশ্বাস তাদের এ দলের সংখ্যা বাড়িয়ে, এদেশে এক সময় ৭৬ পার্টির ঐক্য হয়েছিলো। এটা কি জনমনে কোন প্রভাব ফেলতে পেরেছে ? আমাদের আস্থা আছে, বাংলাদেশের জনমত শেখ হাসিনার পক্ষে রয়েছে।

তিনি বলেন, নেতায় নেতায় ঐক্য হলে জনতার মধ্যে কোন প্রভাব ফেলবে না। দেশের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী এই মুহূর্তে জনমনে কোন প্রতিফলন হবে না। নেতায় নেতায় ঐক্য,  দলে দলে ঐক্য যতই হোক জনগণ প্রভাবিত হবে না। এটাই আমাদের অভিজ্ঞতা।

কাদের বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিবও তাদের ডেকে ছিলেন। কিন্তু পরে জানাগেলো, জাতিসংঘের মহাসচিব তাদের আমন্ত্রণ করেন নি এটা এখন দিবালোকের মতো পরিষ্কার। তারা জাতিসংঘের প্রধান ফটকে গিয়ে বারবার অনুরোধ করে,  একটা তৃতীয় পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে এটা আজকে একটা সিরিয়াস প্রশ্ন যে বিএনপি জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণপত্র নিয়ে যে মিথ্যাচার করেছে, প্রতারণা করেছে। এতে দেশের জনগণকে অপমানিত করেছে। গণতন্ত্রকে অসম্মান করা। যাদের জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণ ভুয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমন্ত্রণ সেই রকমের ভুয়া।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য গড়বেন সর্বাত্মক আন্দোলন করার জন্য। আমাদের কাছে মনে হয়, তারা ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়কের নামে যে একটা পার্টিজান নির্বাচনকালীন সরকার করেছিল সেই চিন্তা-ভাবনা আবার তারা করছে। আবার তারা নিজেদের ছক কূটকৌশলের প্রয়োগে একটা নির্বাচন করতে চাচ্ছে। ২০০১ সালের মতো একটা নির্বাচন তারা চায়। কিন্তু তারা ভুলে গেছে ২০০১ আর ২০১৮ সাল সময় বদলে গেছে। 

কাদের বলেন, আমার বিশ্বাস তাদের এই দলের সংখ্যা বাড়িয়ে, এই দেশে এক সময় ৭৬ পার্টির ঐক্য হয়েছে। এটা কি জনমতে কোনো প্রভাব ফেলতে পরেছে? কাজেই বিএনপির এই সব হুমকী-ধামকীর পরোয়া আমরা করি না। আমাদের আস্থা আছে বাংলাদেশের জনগণের ওপর। জনমত শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ