বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

অভিযোগ প্রমাণের পরও বহাল তবিয়তে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা : শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে আদায়কৃত অর্থ আত্মসাৎ ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেলেও এখনো পর্যন্ত স্বপদে বহাল রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অষ্টগ্রাম মুর্শিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিন। দুই বছর আগে গঠিত তদন্ত কমিটির ওই প্রতিবেদনে শিক্ষক মাহতাব উদ্দিনকে অভিযুক্ত করা করা হয়। তবে রহস্যজনক কারণে এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সম্প্রতি ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুর্শিদ আলম ও স্থানীয় এলাকবাসী পৃথকভাবে আবারও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে শিক্ষক মাহতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে এবং এই মামলার প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে শিক্ষার্থীদের পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার প্রশংসাপত্র বিতরণ ও ২০১৬ সালে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত কমিটি এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে শিক্ষক মাহতাব উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। ওই তদন্ত কমিটি অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগের প্রমাণ পায়।

তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেলেও এখনো পর্যন্ত শিক্ষক মাহতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সর্বশেষ গত ২৯ আগস্ট জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন একটি তদন্ত কমিটি ওই বিদ্যালয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসী শিক্ষক মাহতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে দুর্নীতির আরও অভিযোগ এনে তাকে অপসারণের দাবি জানান। তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হক (ওসমান) বলেন, তদন্ত কমিটির আসলে স্থানীয় চেয়ারম্যান হিসেবে আমি আমার বক্তব্য পেশ করেছি। তবে গ্রামে অধিকাংশ লোক চায় না তিনি এই বিদ্যালয়ে বহাল থাকুন। 

এসব অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি কোনো অনিময়-দুর্নীতির সাথে জড়িত নই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক বলেন, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এবং সেখান থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। তদন্তে শিক্ষক মাহতাব উদ্দিন দোষী প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ