বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

বাংলাদেশের সামনে ২৫৬ রানের টার্গেট

রফিকুল ইসলাম মিঞা : গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ২৫৬ রানের টার্গেট দিয়েছে শ্রীলংকাকে হারানো আফগানিস্তান। গতকাল বৃহস্পতিবার আগে ব্যাট করতে নেমে টাইগার বোলাদের বোলিং আক্রমণে ৭ উইকেট হারিয়ে দলটি করে ২৫৫ রান। ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশকে করতে হবে ২৫৬ রান। অবশ্য দলীয় ১৬০ রানে আফগানদের ৭ উইকেট  ফেললেও অস্টম উইকেট জুটিতে গুলবাদিন আর রশিদ খান মিলে ৯৫ রান করে দলকে ২৫৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোরে নিয়ে যায়। না হলে দু’শত রানের আগেই অলআউট হতে পারে দলটি। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান উভয়েই প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকাকে হারিয়ে সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে। ফলে এই ম্যাচে জয় পরাজয় সুপার ফোরের ম্যাচে কোনো প্রভাব পড়বে না দল দুটির। তবে শেষ ম্যাচে জয় নিয়ে অপরাজিত থাকার জন্য মরিয়া দু’দলই।

গতকাল টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১০ রানে প্রথম উইকেট হারায় আফগানিস্তান। আর ২৮ রানে হারায় দ্বিতীয় উইকেট। দুটি উইকেটই নেন আবু হায়দার রনি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আফগানিস্তানের ওপেনার ইহসানুল্লাহকে ৮ রানে আউট করেন রনি। ৬ষ্ঠ ওভারে আবার রনির সফল দ্বিতীয় আঘাত। এবার ফিরিয়ে দেন আফগানদের আরেক ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান রহমত শাহকে। রনির বলে বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে রহমত শাহ করেন ১০ রান। ইনিংসের শুরুতে রনির ডাবল আঘাতে দলীয় ২৮ রানে প্রথম দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদার সাথে জুটি করে হাশমতউল্লাহ শহিদি দলকে বেশ এগিয়ে নেন। এই জুটি ভাংগার আগে ৫১ রানের দারুণ একটি পাটনারশীপ পায় আফগানিস্তান। টাইগার বোলাররা বার বার চেষ্টা করেও ভাঙন ধরাতে যেন পারছিলেন না শাহজাদ-শহিদি জুটির। শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভাঙতে সাকিবের ওপরই নির্ভর করতে হয়। অবশেষে সাকিব এই জুটির ভাঙন ধরান দলীয় ৭৯ রানে। বোলিংয়ে এসে নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট পান সাকিব। ওভারের তৃতীয় বলে মোহাম্মদ শাহজাদ উড়িয়ে মারেন সাকিবকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আফগান ওপেনারের। বাউন্ডারি লাইনে লাফ দিয়ে উঠে ক্যাচটি তালুবন্দী করে নেন আবু হায়দার রনি। শুরুতে দুই উইকেট নেয়ার পর রনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধরলেন দুর্দান্ত এক ক্যাচ। বাউন্ডারি লাইনের বলটি তিনি তালুবন্দী না করলে আফগানদের ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা জুটিটিরও হয়তো সমাপ্তি ঘটতো না। দলীয় ১০১ রানে আবার সাকিবের দ্বিতীয় আঘাত। এবার সাকিব বোল্ড করে বিদায় করেন আফগান অধিনায়ক আসগর আফগানকে। আউট হওয়ার আগে আসগর করেন মাত্র ৮ রান। অধিনায়কের বিদায়ে হাশমতউল্লাহ শহিদির সাথে জুটি করে দলকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন সামিউল্লাহ সেনওয়ারি। কিন্তু সাকিবের সামনে টিকতে পারলেন না তিনিও। দলীয় ১৩৯ রানে সামিউল্লাহকে বোল্ড করে ফিরিয়ে সাকিব নেন তার তৃতীয় উইকেট। আউট হওয়ার আগে সামিউল্লাহ করেন ২৮ রান। দলীয় ১৫০ রানে আফগানিস্তান হারায় দলটির গুরুত্বপূর্ণ হাশমতউল্লাহ শহিদির উইকেট। তবে তাকে ফিরান রুবেল হোসেন। রুবেলের বলে লিটনকে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়ার আগে হাশমতউল্লাহ শহিদি করে ৯২ বলে তিন চারে ৫৮ রান। ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ নবীও দলকে এগিয়ে নিতে পারেননি। সাকিবের বলে এলবি আউট হওয়ার আগে করেন ১০ রান। ফলে দলীয় ১৫৬ রানে ৭ উইকেট হারানো দলটির সামনে দু’শত রান করাটাই কঠিন ছিল। কিন্তু অষ্টম উইকেট জুটিতে ব্যাট করতে নেমে গুলবাদিন আর রশিদ খান মিলে ৯৫ রানের জুটি করে দলকে দু’শত রানের উপরে নিয়ে যায়। এই জুটির কারণে শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২৫৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর করতে পারে আফগানিস্তান। দলের পক্ষে গুলবাদিন ৩৮ বলে ৫ চারে ৪২ রানে আর রশিদ খান ৩২ বলে আট চার আর এক চক্কায় ৫৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে  সাকিব আল হাসান ৪টি, আবু হায়দার রনি দুটি আর রুবেল হোসেন নেন একটি করে উইকেট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ