বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

বাম জোটের ইসি ঘেরাও পণ্ড পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ২০

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার গণতান্ত্রিক জোটের নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হলে পান্থপথ এলাকায় পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্য করে -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচন কমিশন সংস্কারের দাবিতে বাম রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় লাঠিচার্জে  অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার সোনারগাঁ রেল ক্রসিংয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্বাচন কমিশন সংস্কারের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক দলগুলো নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করার উদ্দেশে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে রওয়ানা হয়। পথে সোনারগাঁও রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে পুলিশের সঙ্গে বাম নেতাদের বাকবিতণ্ডা হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের হামলায় গণসংগতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিসহ ২০ জন আহত হন।

আহতরা হলেন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ছাত্র ইউনিয়িনের সভাপতি আব্দুল কাদের জিলানী শুভ, রাম রাজনৈতিক কর্মী ফয়জুর মেহেদী, রাশেদ, জলি তালুকদারসহ প্রায় ২০ জন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসি সংস্কারের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক দলগুলো নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করার উদ্দেশে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে নির্বাচন ভবনের দিকে রওয়ানা হয়। পথে কারওয়ান বাজার সোনারগাঁও রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে পুলিশের সঙ্গে বাম নেতাদের বাকবিতণ্ডা হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের হামলায় গণসংগতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিসহ অর্ধশতাধিক আহত হন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা চলছে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ ১০ দফা দাবি উত্থাপন করে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছিল বাম গণতান্ত্রিক জোট। আট বামপন্থী রাজনৈতিক দল নিয়ে গত ১৮ জুলাই বাম গণতান্ত্রিক জোট যাত্রা শুরু করে।

পরে প্রেস ক্লাবের সামনে জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কবাদী) নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু ও গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা ফিরোজ আহমেদ বক্তব্য দেন।

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে ‘নিরপেক্ষ তদারকি সরকার’ গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ ১০ দফা দাবি উত্থাপন করে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছিল বাম গণতান্ত্রিক জোট।

ইভিএম চালু ও ডিজিটাল ভোট ডাকাতির পাঁয়তারা বন্ধ করা, প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা ও নির্বাচনী ব্যয় ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করে কঠোরভাবে তা মেনে চলতে বাধ্য করা, অনলাইনে মনোনয়পত্র জমা দেওয়ার বিধান চালু করা, ভোটার ইচ্ছায় জনপ্রতিনিধি প্রত্যাহার করা এবং ‘না’ ভোটের বিধান চালু করা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক সইয়ের বিধান বাতিল করা প্রভৃতি রয়েছে বাম জোটের অন্য দাবির মধ্যে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ