বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার  বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল  -- ডা. শফিকুর রহমান

 

সম্পাদক পরিষদ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, সকল বিরোধী দল ও বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করে বহুল সমালোচিত তথাকথিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশ করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যখন থেকে সরকার বহুল সমালোচিত তথাকথিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তখন থেকেই সম্পাদক পরিষদ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, সকল বিরোধী দল ও বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই আইন পাশ না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার সকলের মতামত উপেক্ষা করে গত বুধবার তথাকথিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাশ করেছে। তিনি এই আইনের তীব্র নিন্দা জানান।  

গতকাল বৃহস্পতিবার দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, তথাকথিত এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বহু সমালোচিত ও বিতর্কিত ৩২ ধারা বহাল রাখা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে ‘যদি কোনো ব্যক্তি অফিসিয়াল সিক্রেসি এ্যাক্ট-এর আওতাভুক্ত অপরাধ কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে সংঘটন করেন বা করতে সহায়তা করেন তাহলে তিনি অনধিক ১৪ বছরের কারাদ- বা অনধিক ২৫ লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত হবেন।’ ৩২ (২) ধারায় বলা হয়েছে ‘যদি কোন ব্যক্তি উপধারা-১ এ উল্লেখিত অপরাধ দ্বিতীয়বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন তাহলে যাবজ্জীবন বা অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত হবেন।’ এ থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, তথাকথিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ একটি কুখ্যাত কালো আইন। 

তিনি বলেন, সরকার এই কুখ্যাত কালো আইন পাশ করে জাতিকে ১৯৭৫ সালে তৎকালীন সরকারের সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে ৪টি সংবাদপত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে বাকী সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বাকশালের সেই কালো আইন জাতি ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যান করেছিল। বর্তমান সরকারের তথাকথিত এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনও জাতি ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যান করছে। এই আইন দেশের মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। শুধু তাই নয়, এ আইন দেশের সংবিধানের সাথেও সাংঘর্ষিক। এই আইন পাশ করার মাধ্যমে সরকার গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রের এবং মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করেছে। এই আইন পাশ করা মূলতঃ দেশের মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। এই কালো আইনের বিরুদ্ধে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তিনি জাতি-ধর্ম-পেশা নির্বিশেষে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।  

তিনি বলেন, দেশের জনগণ এই কালো আইন মানবে না। তাই অবিলম্বে এই কালো আইন বাতিল করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ