বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সাউথ এশিয়ার ফুটবল ও লক্ষ্য

মোহাম্মদ সুমন বাকী : ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলংকা, ভুটান এবং মালদ্বীপ। ২০১০ সালে ক্রীড়ার মিলন মেলার প্রতিদ্বন্দ্বিতার উৎসবে (এস এ গেমস)। যাদের সঙ্গে শরীক হয় আফগানিস্তান। এই ৮টি দেশ সাউথ এশিয়া অঞ্চলের ভরসা। যে কোনো খেলায় সাফল্য কুড়িয়ে আনার ক্ষেত্রে বার বার ফুটে উঠেছে তা। যা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ক্রিকেট, হকি, দাবা, স্কোয়াশ, এ্যাথলেটিকস, শ্যুটিং, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, সাঁতার, টেনিস, কাবাডিসহ অন্য ক্রীড়াগুলোর সাফল্য পাবার বিবেচনায় এই অঞ্চলের অবস্থানটা খুবই মজবুত। সেটা এশিয়া এবং বিশ্বের প্রেক্ষাপটে। তা জানা আছে সবার। যা শতভাগ সত্য কথা। আর সে সব খেলা সোনালী সাফল্য ভরা। এর বিনিময়ে প্লেয়াররা পেয়েছেন কোটি কোটি দর্শকের কাছ থেকে উত্তেজনার ফুটন্ত গোলাপের একরাশ ভালোবাসা। সেটা বিনা স্বার্থে স্বাভাবিক ধারাতে। তা বজায় রয়েছে শত শত বছর ধরে। খেলার জগৎ এর জনপ্রিয়তাকে বুকে জড়িয়ে। যা মায়া-মমতার স্পর্শ পাইয়ে দেয় সকলের মাঝে। সেটা কিন্তু গ্যালারির আসনের দৃশ্যটি উপস্থাপন করে প্রমাণ রাখে। নিঃসন্দেহে তা ভরপুর থাকে। এমন পরিস্থিতিতে আলোর ঝলক ছড়ায় ক্রীড়া ভুবনে। অবশ্যই পারফর্মারকে উৎসাহ যোগাতে। যা সবার বোধগম্য। সে কথা বলাবাহুল্য। ক্রিকেটে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী টিম। যেখানে বাংলাদেশ নয়া সংযোজন। কলম-কালির লেখা নয়, পারফরম্যান্স ও সাফল্য এর বার বার আভাস দিয়ে চলেছে। ট্রেনের লম্বা বগির ন্যায় সেটা। পর্যালোচনার বিশ্লেষণে তা আছে অনেক। খেলার উত্তেজনায় মেতে থাকা ভক্তরা কি বলেন? এই অবস্থায় ক্রিকেট (গাংগুটি) ভুবনে আফগানিস্তান নয়া চমক! ক্রীড়াটির মধুর লড়াইয়ে বিশ্ব শাসনে দক্ষিন এশিয়ার দল বৃদ্ধি!! যা কেউ কল্পনাও করেনি!!! এমন ক্ষেত্রে হঠাৎ আগমন তাদের। সেটা বাস্তবতাকে আকড়ে ধরে। তা স্বচ্ছ পানির ন্যায় দৃশ্যমান। হকিতে ভারত, পাকিস্তানের দাপট। যা দেখা গেছে। সেটা মাঠ, টার্ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বৃত্তে। এশিয়া ও বিশ্ব স্ট্যান্ডার্ডকে পুঁজি করে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণ মজবুত আকারে রূপ পায় যেখানে।
স্টিক-বলের সমন্বয়ে সাউথ এশিয়ার হকির আকর্ষন ফুটিয়ে তুলে। অবশ্যই হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়ে। দাবার ভুবনে ভারত (ইন্ডিয়া) একমাত্র ভরসা। লাল-সবুজ পতাকায় ঘেরা বাংলাদেশও কম নয়। তাইতো নেই ভয়! বলেন কি? স্কোয়াশ মানেই সাফল্য ঘেরা পাকিস্তান। খেলার যুদ্ধে যারা দুর্বার। তাদের সঙ্গী হিসেবে দল ইন্ডিয়া অন্যতম উপহার। তা বিশ্ব ভুবনের মাপকাঠিতে। এ্যাথলেটিকস পিছিয়ে নেই এমন ধারাতে। যা আলোর পথে হেঁটে চলেছে। ভারত এবং শ্রীলংকা টিমের নৈপূন্যের গুনে। সেটা ফুটে উঠেছে এশিয়া ও বিশ্ব লেবেলের আকর্ষনীয় প্রতিযোগিতাগুলোর ছায়াতলে। তা বজায় রয়েছে ধারাবাহিকতার সাথে। যা পাইয়ে দিয়েছে তাদেরকে। সেটা ইতিহাসের পাতায় আলোকিত হয়ে আছে। এ সকল ক্রীড়ার পাশাপাশি শ্যুটিং এর অবস্থান মন্দ নয়।
সাফল্যের আস্থা ভারত। ফাঁকে ফাঁকে টিম বাংলাদেশ অন্যতম চমক। ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, সাঁতার এবং টেনিসের বিশ্ব রাজ্যে দাপট সো করার বেলায় আর কেউ নেই, ইন্ডিয়া ছাড়া। তা অপ্রিয় সত্য কথা। নতুন করে না বললেও হয় যা। কাবাডিতে তারাই সেরা। লাগাতার পাওয়া শিরোপাগুলো আভাস দিয়েছে সেটা। ইন্ডিয়ার পাশাপাশি পারফর্মের স্পর্শে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মাঝে মাঝে রেখেছে আস্থা। ব্যস, এটুকু পর্যন্ত দু’টি দলের সাফল্য। তাছাড়া অন্যান্য ক্রীড়ায় ভারতের আধিপত্যটাই বেশি। যা বলাবাহুল্য। দক্ষিণ এশিয়ার এমন ইর্ষনীয় প্রাপ্তির রেজাল্টে শুধুমাত্র ব্যতিক্রম গোটা পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে সবার উপরে সেরা ও উত্তেজনার খেলা ফুটবল। সেটা জনপ্রিয়তার বিচারে। যার মাঝে দর্শকরা ভালোবাসার জোয়ারে ডুবে আছে যুগ যুগ ধরে। ক্রীড়ার রাজ্যে গোল বলের প্রতিদ্বন্দিতা খুবই আকর্ষনীয়। তা কি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে?
এরপরও সাউথ এশিয়ার ফুটবল অঙ্গনে লক্ষ্য নেই! যা অবাক করেছিলো সবাইকে!! সেটা বুঝা গেছে এই খেলার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজনের চিত্র দেখে!!! বাস্তব ধারায় তা হাস্যকরই বটে। বর্তমান সময়ে যা থেকে বের হবার জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে সাবেক এশিয়া চ্যাম্পিয়ন ভারত। সেটা পেতেই উন্নয়নের পথে নানা পরিকল্পনা গ্রহণকরে তারা। বর্তমান সময়ে ভেসে উঠেছে তা। ফুটবলের এশিয়া চ্যাম্পিয়ন ইন্ডিয়া গত শতাব্দীর আশির দশকে হঠাৎ খেই হারিয়ে ফেলে। তাদের এমন অধঃপতন হয়, কল্পনা করা তো দূরের কথা রাতে ঘুমের ঘুরে স্বপ্ন দেখবে সেটা ভাবেননি কেউ! কি বলেন আপনারা? এখন সেই ফুটবলে টিম ইন্ডিয়া আবার উঠে দাঁড়াবার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৭ যুব বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এবং সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আলোচিত জয় এর বড় উদাহরন। বিংশ শতাব্দীতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ছোঁয়ায় (হিরো লীগ) ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে তারা।
এ বিষয়ে আনোয়ার-আতিয়া বেগম স্মৃতি সংসদ কর্মকর্তা ও তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়া সংগঠক দারিছ মাহমুদ দিপু বলেন, বর্তমানে শেলটেক কোম্পানীতে কর্মরত আমি। লক্ষীপুর জেলায় ক্রিকেট খেলেছি গত শতাব্দীর নব্বই দশকে। অনেক টুর্নামেন্টে অংশ নেই। তখন ভারতকে ক্রিকেট, হকিসহ অন্য খেলায় সেরা দল মনে হতো আমার। যা সাফল্য পাবার বিচারে। সে কথা বলাবাহুল্য। কিন্তু ইন্ডিয়া হিরো লীগ তাদের ফুটবলকে আবার জাগ্রত করেছে। যেখানে রবার্তো ব্যাজিও, মাতরাজ্জির মতো বিশ্ব তারকা খেলেছেন। সেটা থেকে উৎসাহ পাচ্ছে ভারতের তরুন প্লেয়াররা। তাই ভারতের এই ক্রীড়া আবার আলোর পথ পাবে নিঃসন্দেহে। যা স্বাভাবিক। সেটা মনে করি আমি। কারণ এশিয়া চ্যাম্পিয়ন ইতিহাস কম নয়। তা পুঁজি করে তাদের লক্ষ্য ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের মূল পর্ব। দিপুর স্পষ্ট ভাষ্যে প্রশ্ন জাগে দক্ষিন এশিয়ার অন্য দলগুলোর লক্ষ্য কি? উত্তর তলাবিহীন ঝুরি! চলতি মাসে ঢাকা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম শেষ হয়েছে ২০১৮ সাফ ফুটবল প্রতিযোগিতা। ভারত যুব টিম পাঠায় এখানে। তাতে একটু আকর্ষন কমে যায়! এটা কি তরুন খেলোয়াড়ের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের কৌশল? আপাতত যা মনে হচ্ছে। কি বলেন? সাফ ফুটবল লড়াইয়ে ভারতের যুবারা রানার্স আপ হয়েছে এবার। শিরোপা জিতে নেয় মালদ্বীপ।
তাদের পরবর্তী লক্ষ্য কি? দুঃখের কথা, চ্যাম্পিয়ন আশফাকরা জানেন না। এ পরিস্থিতিতে সাফের বৃত্তে ঘুর-পাক খাওয়া ধারাবাহিক টার্গেটে পরিনত হয়েছে। তাদের এটা দ্বিতীয় শিরোপা জয়। এই ক্ষেত্রে অনেকদূর এগিয়ে আছে ইন্ডিয়া। যারা চ্যাম্পিয়ন হয় সাতবার। এ প্রতিযোগিতার সাবেক শিরোপাধারী দল বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের লক্ষ্য কি? প্রশ্নের উত্তর অজানা থেকে গেছে। কারণ কর্তাবাবুদের ভরসা নেই বাজে পারফরম্যান্সের কারণে। সেটাই আসল কথা।
এমন প্রসঙ্গে মোহামেডান ক্লাবের সাবেক গোলরক্ষক এবং কক্সবাজার জেলা ফুটবল টিমের কোচ বিপ্লব বড়–য়ার মন্তব্য, বর্তমানে বাংলাদেশ ভালো পারফর্ম করে চলেছে। এশিয়ান গেমসে চমক দেখিয়েছে। সাফ লড়াইয়ে পর পর দু’টি জয় পেয়েও দুঃখজনক বিদায় নিয়েছে। তা ঘটে বাজে গোল হজম করার কারণে। যা দেখেছেন সকলে। সেটা নিয়ে দুঃখ করে লাভ নেই এখন। সামনের পথে নজর দেয়া উচিত বাফুফের। তা মনে করি আমি। পরিশেষে বিপ্লবের এই কথা অনায়াসে আভাস দেয়, এটা হচ্ছে সাউথ এশিয়ার ফুটবল ও লক্ষ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ