বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

যেখানে মাশরাফির পেছনে শোয়েব আক্তার

অরণ্য আলভী তন্ময় : বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনন্য এক নাম মাশরাফি বিন মর্তুজা। জাতীয় দলের এ ওয়ানডে অধিনায়ক প্রতিটা ম্যাচেই বিস্ময়ের জন্ম দিচ্ছেন। করে যাচ্ছেন ছোট-বড় অনেক রেকর্ড। আর তিন উইকেট পেলেই ওয়ানডে ক্রিকেটের ৪৪ বছরের ইতিহাসে মাশরাফি হবেন ২৫ নম্বর বোলার, যার ঝুলিতে থাকবে ২৫০ উইকেট। শুধু পেসারদের মধ্যে আড়াইশর মাইলফলক ছুঁতে পেরেছেন মাত্র ১৪ বোলার। বতর্মানে ক্রিকেট খেলছেন এমন পেসারদের মধ্যে আড়াইশ উইকেট আছে কেবল শ্রীলংকার লাসিথ মালিঙ্গার। বয়স ৩৫ ছুঁই ছুঁই। এরপরও মাঠের ক্রিকেটে মাশরাফি বিন মতুর্জার তেজোদীপ্ত পারফরম্যান্সে এখনো ভাটা পড়েনি। দুর্দান্ত গতিতে ছুটছেন ডানহাতি পেসার। তারই ধারাবাহিকতায় নতুন এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক। আর মাত্র ৫টি উইকেট পেলেই ওয়ানডেতে দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ২৫০ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়বেন নড়াইল এক্সপ্রেস। পেস বোলারদের ক্যারিয়ার সাধারণত দীঘর্ হয় না। চোটজজর্র হয়ে আন্তজার্তিক ক্রিকেট থেকে অঙ্কুরেই থেমে গেছেন অনেকেই। চোটের ধকল সইতে না পেরে ত্রিশের পরই অবসরে চলে যাওয়া বোলার অগণিত। সেদিক থেকে ব্যতিক্রম মাশরাফি। চোটজজর্রতা ও বয়সের সীমাবদ্ধতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিব্যি পারফর্ম করে চলেছেন তিনি। কিন্তু ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় তাকে যুদ্ধ করতে হয়েছে চোটের সঙ্গে। অবশ্য সেটাকে জয় করেই বারবারই দেশের টানে ২২ গজে ফিরেছেন এই পেসার। মাশরাফির দুই হাঁটুতে সাতবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। যে কারণে নড়াইল এক্সপ্রেসের বোলিংয়ে কমে গেছে গতি। লাইন-লেন্থ’ ও  বৈচিত্র্যকে সঞ্জীবনী করে এগিয়ে যাচ্ছেন এই পেসার। কঠোর পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে বোলিংয়ে যোগ করেছেন নতুন নতুন অস্ত্র। আর তাতেই সফলতা পাচ্ছেন। উইকেট দখলে ধারাবাহিকতা দেখিয়ে অনন্য এক মাইলফলক ছুঁয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা তার। ২০০১ সালে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মাশরাফির। এরপর দেশের জার্র্সিতে কেটে গেছে প্রায় দেড় যুগ। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে নিভর্রতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। বতর্মান সময়ে এ ডানহাতি শুধু ওয়ানডে ক্রিকেটেই মাঠ মাতান। বেশ আগেই টেস্ট ক্রিকেটকে গুডবাই বলেছেন। গত বছর ছেড়েছেন টোয়েন্টি-২০। ১৯০ ওয়ানডে খেলা মাশরাফির দখলে ২৪৫ উইকেট। তার ভা-ারে আর ৫টি উইকেট এলেই ছুঁয়ে ফেলবেন আড়াইশ। দুবাইয়ে বর্তমানে চলমান এশিয়া কাপে গ্রুপ পবের্ বাংলাদেশ পাবে দুটি ম্যাচ। প্রথম প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলংকা, পরে আফগানিস্তান। যদিও শ্রীলংকার বিপক্ষে ১৩৭ রানের জয়টা অনেকখানি এগিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। দ্বিতীয় পবের্ যেতে পারলে খেলার সুযোগ আরও তিনটি ম্যাচে। মাশরাফি বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে এশিয়া কাপের মঞ্চেই ছুঁয়ে ফেলতে পারেন মাইলফলক। তেমন হলে ওয়ানডে ক্রিকেটের ৪৪ বছরের ইতিহাসে মাশরাফি হবেন ২৫ নম্বর বোলার। শুধু পেসারদের মধ্যে আড়াইশর মাইলফলক ছুঁতে পেরেছেন মাত্র ১৪ বোলার। বতর্মানে ক্রিকেট খেলছেন এমন পেসারদের মধ্যে আড়াইশ উইকেটের মাইলফলক স্পশর্ করতে পেরেছেন কেবল শ্রীলংকার লাসিথ মালিঙ্গা। এ পর্যন্ত ২০৪ ম্যাচ খেলে ৩০১টি উইকেট নিয়েছেন এই লংকান। ওয়ানডে ক্রিকেটে সবোর্চ্চ উইকেট শিকারি শ্রীলংকার কিংবদন্তি স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরন। ৩৫০ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ৫৩৪। ওয়ানডেতে পাঁচশর (৫০২) উপরে উইকেট আছে আর শুধু ওয়াসিম আকরামের। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে পৌঁছে যাওয়া মাশরাফির সামনে অবশ্য তাদের ছোঁয়ার সুযোগ নেই। তবে ওয়ানডেতে উইকেট শিকারের দিক থেকে পাকিস্তানের সাবেক স্পিডস্টার শোয়েব আখতারকে পেছনে ফেলার সুযোগ রয়েছে। এজন্য মাশরাফির দরকার আর মাত্র ৩টি উইকেট।
১৯০ ম্যাচে নড়াইল এক্সপ্রেসের উইকেট ২৪৫টি। অপরদিকে ১৬৩ ম্যাচে ২৪৭ উইকেট শিকার করেছেন রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস খ্যাত শোয়েব। বাংলাদেশের জার্সিতে ওয়ানডেতে সবোর্চ্চ উইকেট স্বীকারে মাশরাফির পরই রয়েছেন সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি স্পিনারের বতর্মান উইকেট সংখ্যা ১৮৮ ম্যাচে ২৩৭। ২০৭ উইকেট নিয়ে তার পরই রয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক। আগামী মাসেই ৩৫-এ পা রাখতে যাচ্ছেন মাশরাফি। তবুও বিন্দুমাত্র ক্লান্তি নেই অধিনায়কের। এবার শিরোপা জয়ের মনচ্ছবি নিয়ে এশিয়া কাপ খেলতে গেছেন দুবাই। সেখানেই ক্যারিয়ারের ১৭তম বছরে এসে অনন্য মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে মাশরাফি।
২০১৯ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলার পরিকল্পনা আছে মাশরাফির। অবসরে যাওয়ার আগে হয়তো তিনশতেও চোখ থাকবে! তার আগে দেখার ২৫০’র মাইলফলক কখন কোন ম্যাচে ছুঁতে পারেন। চলমান এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার উপুল থারাঙ্গা ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার উইকেট পেয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। আর মাত্র ৩ উইকেট পেলেই প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ২৫০ উইকেট পাওয়ার কীর্তি গড়বেন তিনি। ২০০১ সালে ওয়ানডে অভিষেক হওয়া পেসার মাশরাফি এ পর্যন্ত নিয়েছেন ২৪৭ উইকেট। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট তার। বারবার ইনজুরিতে পড়া সত্ত্বেও মাশরাফি নিজের ক্যারিয়ার গুছিয়েছেন দারুণভাবে। বল হাতে দ্যুতি ছড়িয়ে বাংলাদেশকে উৎসবের একাধিক উপলক্ষ এনে দিয়েছেন। রঙিন পোশাকে তাই এখনও মাশরাফি বাংলাদেশের সেরা পেসার। বিশ্ব ক্রিকেটে ডানহাতি পেসারদের তালিকায় মাশরাফি খুব পিছিয়ে নেই। সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় রয়েছেন ১৪ নম্বরে।
 সেরা দশের পর তার উপরে রয়েছেন কপিল দেব (২৫৩), মাখায়া এনটিনি (২৬৬), জেমস অ্যান্ডারসন (২৬৯) ও আবদুল রাজ্জাক (২৬৯)। ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলার পরিকল্পনা মাশরাফির। পুরোপুরি ফিট হয়ে খেলতে পারলে তার পক্ষে সেরা দশে যাওয়া কঠিন নয়। নিজের মাইলফলক নিয়ে দেশ ছাড়ার আগে অধিনায়ক বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজের কোনো লক্ষ্য থাকে না। কখনও এমন লক্ষ্য নিয়ে খেলি না। আমি চেষ্টা করব অবদান রাখার, যতটুক পারি। এটা খারাপও হতে পারে ভালোও হতে পারে। এটা নিয়ে আসলে এত মাথাব্যথা নেই।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ