বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

খুলনার বাইপাস রোডের পাশে সরকারি খাল দখল করে কোটি টাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান!

খুলনা : খুলনার বাইপাস রোডে খালাসী সড়কের পাশের সরকারি খাল দখল করে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলছে চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা

খুলনা অফিস : খুলনার বাইপাস রোডে খালাসী সড়কের পাশের সরকারি খাল দখল করে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা। সরকারি এ খালটির ব্রীজের মুখ বন্ধ করার অপরাধে ২০১৬ সালের ২২ ফেরুয়ারি এক লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন বটিয়াঘাটা তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলাল হোসেন খান। এবার শুধু ব্রীজের মুখ বন্ধ করেই ক্ষ্যান্ত নেই ভূমিদস্যুরা; মাটি ভরাট করে সরকারি খালটি গিলে খাচ্ছেন গল্লামারীর বাসিন্দা মো. মোজাম্মেল হক। সরকারি সম্পত্তি জবর দখলের প্রতিবাদে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন সচেতন এলাকাবাসী। 

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, গল্লামারীর বাসিন্দা মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে মোজাম্মেল হক সরকারি খাল ও পথের জমি জবর দখল করছেন। মহল্লাবাসীর বাঁধার মুখে সেখানের পাকা ড্রেন বন্ধ করেই রাতারাতি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছেন। এলাকাবাসীর স্বার্থে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগপত্রে এলাকাবাসীর পক্ষে স্বাক্ষরকারীরা হলেন খান আমিনুর রহমান, মো. জাবের হোসেন, আলমগীর হোসেন, মো. জাকির হোসেন, মো. সাইফুর রহমান ও আব্দুল করিম প্রমুখ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাইপাসে খালাসী সড়কের পাশে খালের অংশবিশেষ দখল করতে পাইলিং করে মাটি ভরাট করছে শ্রমিকরা। তারা নিজেরাও স্বীকার করলেন এখানে খাল ছিল। স্থানীয়রা জানান, ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সরকারি এ খালটির ব্রীজের মুখ বন্ধ করার অপরাধে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন বটিয়াঘাটা তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলাল হোসেন খান। এসময় সুচতুর মো. মোজাম্মেল হক নিজে গাঢাকা দিয়ে তার আপন ভাই আব্দুল কাদের মোড়ল ও বোনের নামে জরিমানা একলাখ টাকার সরকারি রশিদ কাটেন। ফলে জরিমানার সরকারি নথিতে তার নাম উঠেনি। অথচ, সরকারি খালের কোটি টাকার সম্পত্তি জবর দখল করছেন তিনিই। ইতোমধ্যে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও হরিণটানা থানার ওসিসহ প্রশাসনের লোকজন জবর দখলকৃত জায়গাটি পরিদর্শন করেন।

হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাসিম খান বলেন, ‘একপক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। সে জন্য মোজাম্মেল হককে ডেকেছি; দুই পক্ষকে স্ব স্ব পক্ষের কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলেছি। তবে সরকারি সম্পত্তির বিষয়টি কোনপক্ষই উল্লেখ করেননি, আমারও জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

এদিকে সরকারি সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কোন সরকারি খাল বা সম্পত্তি আমি দখল করিনি। এটা আমার ক্রয়কৃত জমি। জমি কেনাবেচার দালাল আমিনুর রহমান বিভিন্ন সময় আমার কাছে টাকা দাবি করে; তার দাবিকৃত অর্থ না দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ