শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

সুখ আর শান্তি

-আহসানুল আজিম শাহ্
মানুষের জন্য মহান আল্লাহর অগণিত নেয়ামতসমূহের মাঝে অন্যতম একটি নেয়ামতের নাম হলো সুখ-শান্তি। সমগ্র পৃথিবীর মানুষের সর্বাধিক আকাক্সক্ষার বস্তুটির নামও সুখ-শান্তি। সুখ আর শান্তি চায় না এমন মানুষ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া দুষ্করই নয়, বরং অসম্ভব। সুখ আর শান্তির জন্যই এই পৃথিবীর মানুষগুলোর ছুটে চলা পৃথিবী থেকে চাঁদের দেশে এবং পাতাল থেকে মহাকাশে। পৃথিবীর মানুষের সকল চেষ্টা, সাধনা, ত্যাগ, আন্দোলন, যুদ্ধ এবং সর্বোপরি সকল কর্মই সুখ আর শান্তির আশায়।  সুখ আর শান্তি অর্জন নিয়ে আজ সারা পৃথিবী ঘুরপাক খাচ্ছে। অর্থ-সম্পদ, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং সাধ্যের সকল সামর্থ্য নিয়ে ছুটে চলছে অবিরাম। কিন্ত সুখ আর শান্তি পৃথিবীর মানুষগুলো আসলে কি যথার্থভাবে পেয়েছে বা পাচ্ছে? বরং বর্তমান আধুনিক বিশ্বে মানুষ শিক্ষা-দীক্ষায়, অর্থ-সম্পদে যত বেশি উন্নত হচ্ছে মানসিক শান্তির গন্ডি থেকে ততই দূরে ছিটকে পড়ছে। ক্রমবর্ধমান বিজ্ঞান আজ মানুষের শারীরিক আরাম-আয়েশ, আমোদ-প্রমোদ এবং সুখে থাকার অগণিত উপকরণ আবিষ্কার করছে। কিন্তু যাদের অট্টালিকা, ধন-সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি এবং শারীরিক সুখে থাকার অগণিত উপকরণ আছে, তাদেরকে কি বর্তমান আধুনিক পৃথিবী মানসিকভাবে শান্তি দিতে পেরেছে? আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কি শান্তির পথে হেঁটে চলছে? শান্তি আসলে আমরা কিভাবে পেতে পারি? এই প্রশ্নের বিশালতা এবং গভীরতা অনেক বিস্তৃত।
সাধারণত ‘সুখ’ আর ‘শান্তি’ শব্দ দুটি শুনতে একই রকম এবং ব্যবহারগত দিক দিয়ে অনুরূপ মনে হলেও উপভোগে ও অনুভবে এবং অর্থগতভাবে বিশদ ভিন্নতা রয়েছে।
সুখ কী?
সুখ বলতে শাব্দিকভাবে বুঝায় উপভোগ, খুশি, আনন্দ, আরাম-আয়েশ, কামনা-বাসনা পূর্ণ করা ইত্যাদি। ইংরেজিতে বলা হয় Happy, Cherful, Glad, Joyful. আর আরবীতে سعيد, فرح  ইত্যাদি।
সুখ হলো বাহ্যিক, যা দৃশ্যমান। মানুষ তার চর্ম শরীর বা দেহ দিয়ে যে আরাম-আয়েশ উপভোগ করে আনন্দ পায় তাই সুখ। যেমন মানুষ তার দেহ বা শরীরকে সুখ দেওয়ার জন্য অনেক টাকা দিয়ে বাড়ি করে। দামী আসবাবপত্র দিয়ে ঘর সাজায়। আরামদায়ক খাট-পালঙ্ক, নাতিশীতোষ্ণ শয়নকক্ষ, পরিচর্যা-পারিপাট্য এবং পরিচ্ছন্নতার জন্য কর্মচারী-এই সবকেই আমরা সুখ বলে থাকি। বলা যায় প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা পূরণের নামই ‘সুখ’। বাহ্যিক দৃষ্টিতে যার যত বেশি টাকা, ধন-সম্পদ আর প্রাচুর্য আছে আমরা তাকে তত বেশি সুখী মনে করি।
সুখ হলো আপেক্ষিক, অর্থাৎ যে যেভাবে চিন্তা করে অথবা যার যেমন চাহিদা থাকে। সুখ অনেক সময় মানুষের শারীরিক চাহিদার উপর নির্ভর করে। যেমন যে মানুষটার থাকার কোনো জায়গা বা ঘর নেই রাস্তায়-ফুটপাথে রাত্রিযাপন করে, সেই মানুষটা যদি একটি কুঁড়েঘর পায় তখন সেটাই তার জন্য অনেক সুখ। আবার যে মানুষটার থাকার মতো একটা কুঁড়েঘর আছে, সেই মানুষটা যদি ভালো টিনের ঘর পায় থাকার জন্য, তখন তার জন্য সেটাই বড় সুখ। একইভাবে সুখী হওয়ার জন্য টিনের ঘরে থাকা মানুষটা একটা পাকা ঘর চায়, আবার পাকা ঘর যার আছে সে চায় রাজপ্রাসাদ।
সুখ পরিবর্তনশীল এবং অস্থায়ী
সুখ অবস্থা আর সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল এবং অস্থায়ী। যেমন একটা মানুষ যদি মাসে দশ হাজার টাকা আয় করে, সে আশা করে আমার যদি বিশ হাজার টাকা আয় আসতো তাহলে আমি আরো ভালোভাবে চলতে পেরে সুখী হতে পারতাম। কিন্তু যখন কিছুদিন পর তার আয় বেড়ে সেই প্রত্যাশিত বিশ হাজার টাকা হবে, তখন সে হয়তো কিছুদিন নিজেকে সুখী মনে করে উপভোগ করবে। আবার কিছু দিন পরে তার মনে হবে তার বিশ হাজার টাকায় সে পরিপূর্ণ সুখী হতে পারছে না, ত্রিশ হাজার হলে মনে হয় সে পরিপূর্ণ সুখী হবে। এভাবে সময় এবং চাহিদার সাথে তার সুখ পরিবর্তিত হতে থাকবে।
তেমনিভাবে তরুণদের তারুণ্যের প্রথম দিকে চাহিদা থাকে। যার একটা সাইকেল নেই, সে একটা সাইকেল নিতে পারলে অনেক খুশি হয়ে নিজেকে সুখী মনে করে। কিন্তু সাইকেল পেয়ে যাওয়ার পর আবার কিছুদিন পর তার মনে হবে সাইকেল তার ভালো লাগে না। একটা মটর সাইকেল হলে সে অনেক সুখী হতে পারবে। মটর সাইকেল পাওয়ার পর কিছুদিন নিজেকে ভাগ্যবান বা সুখী মনে হবে। তারপর আবার কিছুদিন পর সে পিছনের সুখ ভুলে গিয়ে তার মনের ভিতর নতুন চিন্তা জাগবে, একটা দামী মোবাইল বা একটা আইফোন না হলে সে সুখী হতে পারবে না। এ রকম অস্থায়ীভাবে তাদের বয়স এবং অপরিপক্ব আবেগের কারণে সুখের এবং খুশির চাহিদা পরিবর্তিত হতেই থাকবে। আসলে সুখের আকর্ষণ মানুষের মনে ততক্ষণ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার প্রত্যাশিত সুখের উপকরণটা অর্জন করতে না পারে। উপকরণটা পেয়ে যাওয়ার পর তখন তার মন পূর্বের আকর্ষণ থেকে পরিবর্তিত হয়ে আরো উন্নত সুখের উপকরণে আকৃষ্ট হতে থাকে।
মানুষের মাঝে সাধারণত যার যত বেশি অর্থ-সম্পদ এবং প্রাচুর্য আছে সে তত বেশি সুখী হতে পারে। সুখের সম্পর্ক অনেকাংশেই অর্থ, প্রাচুর্য এবং ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত। যার যত বেশি অর্থ, প্রাচুর্য এবং ক্ষমতা আছে, সে ইচ্ছে করলেই তত বেশি সুখ উপভোগ করতে পারে।
আবার আপনি খুব অল্পতেই সুখ উপভোগ করতে পারবেন, যখন খেটে খাওয়া ঘরহীন, খাদ্যহীন এবং অভাবী মানুষগুলোর দিকে তাকাবেন। নিম্নবিত্ত বা যার কিছুই নেই সেই অভাবী মানুষদের জীবনের দিকে তাকালে অথবা, তাদেরকে নিয়ে একটু চিন্তা করলে বুঝতে পারবেন আপনার এই অল্পতেই কত সুখী আপনি।
দুই ধরনের সম্পদের মধ্যে দুই ধরনের সুখ
ধন-সম্পদ, টাকা-পয়সা দুই প্রকারের বা দুইভাবে উপার্জিত হয়। এক, অবৈধ বা হারাম এবং দুই, বৈধ বা হালাল উপার্জন এবং সম্পদ। উভয় প্রকারের সম্পদ দ্বারাই সুখ কেনা যায় বা উপভোগ করা যায়। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় খুব সহজে তাড়াতাড়ি সুখের আশায় বা ধনীর হওয়ার লোভে অশুভ, অবৈধ তথা হারাম পথে উপার্জনের পথ খুঁজে নেয়। হারাম বা অবৈধ সম্পদের সুখ ক্ষণিকের এবং অল্প সময়ের। হারাম সম্পদ অথবা হঠাৎ করে পরিশ্রম ছাড়া অনেক সম্পদের সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয় না। এই ধরনের শারীরিক সুখের মাঝে আত্মার শান্তিও কখনও পাওয়া যায় না। হারাম অর্থের সুখ হচ্ছে শরীরকে সাময়িক তুষ্ট রেখে আত্মাকে সারা জীবনের জন্য ক্ষুধার্ত রাখা। আর ক্ষণিকের সুখ শেষে তার জন্য অপেক্ষায় থাকে দীর্ঘকালীন দুঃখ-কষ্ট আর পরকালীন কঠিন শাস্তি।
যারা অবৈধ বা হারাম পথে আয়-উপার্জন করে খায়, ঘুমায় আর ফুর্তি করে, তারা মনে করে সুখ শুধু একটি শারীরিক আনন্দ উপভোগ এবং কুপ্রবৃত্তির কামনা-বাসনা পূর্ণ করা। অথবা সুখ মানে অর্থ-সম্পদ, অথবা সুখ মানে সামাজিক অবস্থা, ক্ষমতা, ঐশ্বর্য। শুধু শারীরিক আনন্দ উপভোগের সুখ কখনওই মানুষের প্রকৃত সুখ হতে পারে না। এটা শুধু পশুর সুখ হতে পারে।
কারণ চিন্তা করে দেখুন, পশুদের বেঁচে থাকার জন্য কী দরকার হয়? পশুদের বেঁচে থাকার জন্য যা দরকার তা হলো খাদ্য আর বিভিন্ন ধরনের শারীরিক চাহিদা মেটানো। এতেই তারা সুখী। যদি শারীরিক আনন্দ উপভোগই মানুষের একমাত্র সুখ হত যেমন খেতে পারা, ঘুমাতে পারা, এবং জৈবিক চাহিদা মেটাতে পারা—তাহলে এটা পশুর সুখের মতোই। এতে পশু এবং মানুষের মধ্যে কোনো প্রকারের পার্থক্য থাকে না। কারণ একই জিনিস পশুরা করে বা তাদের চাহিদা থাকে।
কারণ পশুরা খাওয়ার আগে চিন্তা করে না এই খাবার কে দিয়েছে, কোথা থেকে এসেছে, এটা কি হালাল বা এটা কি আমার জন্য বৈধ? আর দুটো পশু জৈবিক চাহিদা পূরণের আগেও একে অপরকে জিজ্ঞাসা করে না এটা কি হালাল অথবা আমরা কি বিবাহিত? পশুদের এই চিন্তাশক্তি দেওয়া হয়নি বিধায় তারা পশু। তাই তাদেরকে এই প্রক্রিয়া বা নিয়ম-কানুনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় না। পশুদের কামনা-বাসনা এলেই তারা সেটা পূরণ করে নেয়। পশুরা যা চায় তাই করে। তেমনিভাবে অবৈধ পথে যে থাকে এবং যে আয় করে, তারা মনে করে তাদের মনে যা আসে অথবা শারীরিক চাহিদা পূরণের নামই সুখ। পশুর মতো হারাম কিনা বা অবৈধ কিনা অথবা বিবাহিত কিনা তা চিন্তা করার প্রয়োজন নাই। এই ধরনের পশুর মতো সুখ উপভোগকারীদের সম্পর্কে মহাশক্তিধর আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ ঈমান গ্রহণকারী ও সৎকর্মশীলদের সে জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন, যার পাদদেশ দিয়ে ঝরনাধারা বয়ে যায়। কিন্তু যারা কুফরি করে তারা পৃথিবীতে ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে এবং জন্তু-জানোয়ারের মতো উদর পূর্তি করে। তাদের চূড়ান্ত ঠিকানা জাহান্নাম।’ (আল-কোরআন, সূরা মুহাম্মদ, আয়াত : ১২)
আর বৈধ পথে বা হালাল পথে পরিশ্রমের মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদ দ্বারা অর্জিত সুখ আমরা উপভোগ করতে পারি তৃপ্তিমতো, চিন্তামুক্তভাবে, দীর্ঘকাল। আর সেই শারীরিক সুখের সাথে সাথে আত্মার শান্তিও লাভ করা যায়। তবে বৈধ বা হালাল পথের উপার্জিত সম্পদ দ্বারা অর্জিত সুখের মাঝে থাকে না হারাম পথে উপার্জিত সম্পদের সুখের মতো অপচয় এবং অতিরিক্ত জাঁক-জমক বা অতিরিক্ত বিলাসিতা। হালাল পথের অর্জিত সম্পদের সুখের মাঝে সবকিছুই থাকে শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী পরিমিত।
সুখ আর শান্তির অপেক্ষায়
অধিকাংশ মানুষই ভবিষ্যৎ গড়তে গিয়ে বর্তমানের সুখ-শান্তির কথা ভুলে যায়। মানুষ প্রথমে জীবনের সব কিছুই শুরু করে সুখে থাকার উদ্দেশ্য নিয়ে। যেমন যখন সে বুঝতে শুরু করে, তখন সে পড়ালেখায় মনোযোগী হয় জীবনে উচ্চ শিক্ষিত হয়ে সুখে থাকার জন্য। কর্মজীবনে এসে সে ব্যবসা বা চাকরি শুরু করে টাকা-পয়সা আয় করে সুখে থাকার জন্য। বিদেশ যাত্রা করে বেশি উপার্জন করে সুখে থাকার জন্য। তারপর বিয়ের চিন্তা মাথায় আসে, বিয়ে করে দাম্পত্য জীবন সুখী করার জন্য।
কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো মানুষ জীবনে যেগুলো প্রথমে শুরু করে সুখী হওয়ার জন্য, ঠিক সেগুলো পেয়ে যাওয়ার পরও আবার অপেক্ষা করতে থাকে সুখী হওয়ার জন্য। অধিকাংশ মানুষই সুখ আর শান্তির অপেক্ষা করতে করতে জীবনের অন্তিম সময় পর্যন্ত চলে আসে। কিশোর জীবনে অপেক্ষায় থাকে পড়ালেখা করে ডিগ্রি নিয়ে কর্মজীবনে অনেক টাকা-পয়সা আয়-উপার্জন করে সুখ-শান্তি উপভোগ করবে। আর কর্মজীবন এলে অপেক্ষা করে কর্মজীবনে বেশি করে টাকা-পয়সা জমা করে অবসর জীবনে সুখ-শান্তি উপভোগ করবে। কিন্তু যখনি কর্মজীবন শুরু করে তখন সুখে থাকার কথা ভুলে যায়। এক লক্ষ টাকা জমা করতে পারলে তখন চিন্তা শুরু করে দুই লক্ষ টাকা জমা করার। আবার যখন দুই লক্ষ হয় তখন তিন লক্ষ জমা করার চিন্তা। এভাবে যখন কোটি হয় তখন দুই কোটি, তিন কোটি-এভাবে টাকার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে একটা সময় তারা তাদের অস্তিত্বই ভুলে যায়।
আসলে সুখ আর শান্তির জন্য অপেক্ষায় থাকা মানুষগুলো জীবনের তিনটি অধ্যায়ে তিনটি বাধার সম্মুখীন হয়। ১. জীবনের প্রথম অধ্যায় ছাত্রজীবন বা কৈশোর কাল। ছাত্রজীবনে সময় এবং শক্তি থাকে, কিন্তু টাকা থাকে না। ২. জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় কর্মজীবন বা যৌবন কাল। কর্মজীবনে মানুষের শক্তি এবং টাকা থাকে কিন্তু সময় থাকে না। ৩. জীবনের শেষ অধ্যায় অবসর জীবন বা বৃদ্ধকাল। অবসর জীবনে মানুষের টাকা এবং সময় থাকে, কিন্ত শাক্তি থাকে না।
তাই শান্তির দূত মহানবী (স.) উক্ত বাধাগুলোর সমাধান দিয়ে বলেন, ‘পাঁচটি বিষয় আসার পূর্বেই পাঁচটি বিষয় থেকে সুবিধা গ্রহণ করো। বৃদ্ধ হওয়ার আগেই তারুণ্য-যৌবনাবস্থা থেকে সুবিধা গ্রহণ করো, অসুস্থ হওয়ার পূর্বেই সুস্বাস্থ্য থেকে সুবিধা গ্রহণ করো, দরিদ্রতা এসে যাবার আগেই সম্পদের সুব্যবহার করো, ব্যস্ততা এসে যাবার আগেই অবসর সময়কে কাজে লাগাও এবং মৃত্যু আসার আগেই জীবন নামক নেয়ামতের সঠিক ব্যবহার করো।’ (আল-হাদীস, মুস্তাদরাক-আল-হাকীম)
সুতরাং সুখ আসবে আসবে বলে এর অপেক্ষা করে থাকা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ সুখে থাকার জন্য ভবিষ্যৎ যে সময়টা নির্ধারণ করে আপনার পরিকল্পনা, শক্তি, যোগ্যতা এবং অর্থ-সম্পদ জমা করে রাখছেন, সেই ভবিষ্যৎ সময় আপনার জীবনে নাও আসতে পারে। কারণ আপনি জানেন না আপনার জীবনের কখন সমাপ্তি ঘটবে। তাই যখন যা আছে এবং যতটুকু আছে তার থেকে সুখ উপভোগ করে নেওয়াটাই বুদ্ধিদীপ্ততার পরিচয়।
শুধু সুখ জীবনকে পূর্ণতা দিতে পারে না
বয়স, সময়, পরিবেশ এবং চাহিদার ভিন্নতার কারণে সুখের উপকরণের ভিন্নতা রয়েছে। শুধু শারীরিক সুখ দিয়ে মানুষের জীবনের পূর্ণতা কখনওই আসবে না। কারণ মানুষের দ্বারা সুখ উপভোগের সীমা-পরিসীমা খুঁজে পাওয়া সম্ভবপর নয়। যেমন কারো সুখের উপকরণ যদি আরাম-আয়েশ, ভোগ-বিলাস এবং আনন্দ উৎসব হয়ে থাকে, তাহলে সে তার সীমা-পরিসীমা খুঁজে পাবে না। কারণ বিজ্ঞানের এই যুগে পৃথিবীতে আরাম-আয়েশের উপকরণ এবং ধরনের কোন শেষ নেই। হরেক রকমের বিলাসিতা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন মানে এবং স্থানে রয়েছে, যা তার কল্পনা বিলাসেরও বাইরে। যা খুঁজে উপভোগ করতে করতে শরীর রোগাক্রান্ত হয়ে একদিন হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠবে।
কারো সুখের উপকরণ যদি সুন্দরী নারী হয়ে থাকে, তাহলেও সে এই সুন্দরের শেষ খুঁজে পাবে না। সারা পৃথিবীতে সুন্দরী নারীর অভাব নেই। বিভিন্ন দেশে আর জাতিতে বিভিন্ন প্রকৃতির, আকৃতির এবং রংধনুর মতো অনেক রঙের সুন্দরী নারী আছে, যারা তার স্বপ্ন এবং চাহিদারও বাইরে। যাদের খুঁজতে খুঁজতে একদিন সে নিস্তেজ এবং নিথর দেহে মৃত্যুর প্রহর গুণবে।
আর কারো সুখের উপকরণ যদি হয় বেশি বেশি অর্থ-সম্পদ উপার্জন এবং জমা করা, তাহলেও সে সম্পদ অর্জনের কূলকিনারা পাবে না। কারণ পৃথিবীতে অর্থ সম্পদের কোনো শেষ নেই, তার পাহাড় পরিমাণ সম্পদ অর্জিত হলেও জীবনের পূর্ণতা আসবে না। আর একদিন এই সম্পদ ধরে রাখার দুশ্চিন্তায় এবং আরো অর্জনের লোভ-লালসায় হঠাৎ মৃত্যুর মাধ্যমে অগাধ অর্থ-সম্পদ অন্যের ভোগ-বিলাসের জন্য রেখে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে। তাই রাসুল (স) বলেন, ‘যদি আদম সন্তানের স্বর্ণপূর্ণ একটি উপত্যকাও থাকে তবে সে চাইবে যে, তার দুটি উপত্যকা হোক। আর মাটি ছাড়া কোন কিছুই তার মুখ বন্ধ করতে পারবে না।’ (হাদীস : বোখারী, মুসলিম) (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ