শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

চামড়া নিয়ে ভাবনা এতিম নিয়ে তামাশা

আমাদের জাতীয় সম্পদ চামড়া নিয়ে সরকারের ভাবনার শেষ নাই। ইতিমধ্যেই আধুনিক শিল্প নগরী গড়ে তুলেছেন, সফলতা আসবেই। সকল পরিকল্পনার কাঙ্খিত সফলতার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পরিকল্পনার অংশ হতে হবে কাঁচা চামড়া রক্ষা। কোরবানীর চামড়া বিশ্বমানের, সঠিক সময়ে লবন দিতে হবে। গরুর শরীর থেকে চামড়া ছাড়ানোর পর থেকে প্রতি ঘন্টায় চামড়ার মান কমতে থাকে। এক কোটি সাত লক্ষ চামড়া ৫০-৬০টি ট্যানারীর মালিক ও পোস্তার ২০০ আড়ৎদারের পক্ষে লবন দিয়ে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। কোরবানীর চামড়া এতিম, মিছকিনের হক হওয়াতে অনেক কোরবানী দাতা মাদ্রাসায় বা এতিমখানায় দান করেন। চামড়ার টাকায় অনেক মাদ্রাসা, এতিমখানার শিক্ষা ও খানাদানার ব্যবস্থা হয়ে থাকে। কোরবানীর চামড়া এতিমের জন্য টাকা হলেও দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনে চামড়ার গুরুত্ব অপরিসীম। কোরবানীর চামড়া ও এতিমের হক নিয়ে রং-তামাশার সুযোগ হয় চামড়া পঁচে যাওয়ার কারণে। চামড়া রক্ষার দায়িত্ব যাদের উপর ন্যস্ত হয় তাদের অবহেলার কারণে। কোরবানীর চামড়া কম মূল্যে ক্রয় করতে কে না চায়। কম মূল্যে চামড়া ক্রয় করতে হলে চামড়ার পচঁন ধরাতে হবে। সেক্ষেতে আড়ার, মজুতদার, ট্যানারীর মালিকের ঐক্য হতে হবে। প্রতিবছর পোস্তার আড়ঙ্গার যাকে আমাদের ভাষায় মধ্যস্বত্বভােগী বলা হয়, ট্যানারীর মালিক ও ব্যাংক লুটেরাদের অলিখিত চুক্তি হয়। আর এই চুক্তির সুযোগ করে দেন এতিমখানা, মাদ্রাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। এখানে উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রতিটি মাদ্রাসা, এতিমখানার কাঁচা চামড়া ট্যানারীর মালিকের কাছে বাকিতে বিক্রয় না করে যদি নিজেরা লবন দিয়ে রাখেন এবং যে লম্বা সময় ধরে পোস্তা ও ট্যানারীতে কাঁচা চামড়া বিক্রয়ের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তার অর্ধেক সময়ে চামড়ায় লবন দিয়ে নিশ্চিন্তে আরাম করতে পারবেন এবং কোরবানীর চামড়া নিয়ে হায়-হুতাশ থেকে মুক্তি পাবেন। প্রতিটি এতিমখানা, মাদ্রাসায় কোরবানীর চামড়ায় লবন দিয়ে চামড়া সংরক্ষন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কোরবানী পরবর্তী সময় রাস্তাঘাট যানজট মুক্ত হবে, চামড়ার পঁচন প্রতিরােধ হবে, চামড়ার গ্রেড রক্ষা পাবে, বিদেশে চামড়ার মান উন্নত হবে, পোস্তার আড়ৎদার ও ট্যানারীর মালিকদের সিন্ডিকেট বন্ধ করা যাবে ও দেশের অর্থনীতি মুক্তি পাবে। মাদ্রাসা ও এতিমখানার চামড়ার টাকা নগদ পাওয়া যাবে। কাঁচা চামড়া ব্যবসায় প্রতিযোগিতা আসবে। কোরবানী নিয়ে রং তামাশা বন্ধ হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এর অধীনে মাদ্রাসার ও এতিমখানার ছাত্রদের চামড়া রক্ষার প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং নিতে হবে মাংস শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মত। কাঁচা চামড়ার মান প্রতি ঘন্টায় নিম্নমুখী হয়, ৫০ জন ট্যানারীর মালিক ও ২০০ পোস্তার আড়ৎদারের পক্ষে এক কোটি সাত-আট লক্ষ কোরবানীর কাঁচা চামড়া ইচ্ছে করলেও রক্ষা করা সম্ভব নয়। তার উপর তাদের ইচ্ছে কোথায়। ইচেছ করে চামড়ার মান নষ্ট করেন একটু কম মূল্যে চামড়া ক্রয়ের আশায়। সরকার ইচ্ছে করলেও এই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারবে না। ভাঙতে চাইলে চামড়া খাতে বিদেশী বিনিয়োগ দরকার এবং কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতির প্রয়োজন হবে। তখন আবার চামড়ার অভাবে ট্যানারী বন্ধ হয়ে যাবে। যেহেতু চামড়া জাতীয় সম্পদ, বহুকষ্টে চামড়া শিল্প আমাদের দেশে গড়ে উঠেছে। ট্যানারী বন্ধ হয়ে গেলে মালিকরা পালিয়ে যাবে। ইচ্ছা করলেই সরকার সব সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এতিমখানা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের। কোরবানীর চামড়া নিয়ে আরো গবেষণা করতে হবে এবং এতিমের হক নিয়ে রং-তামাশা বন্ধ করতে হবে। এখানে আরো উল্লেখ্য যে, ৫০টি চামড়া নিয়ে পোস্তা ও ট্যানারীতে যেয়ে সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে চামড়া নষ্ট করছেন অথচ ৫০টি চামড়ায় লবন দিতে সময় লাগবে দুই ঘন্টা, সেই কাজটি করে চামড়ার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করছেন না। তাই আগে চামড়ায় লবন দিন পরে ভেবে-চিন্তে চামড়া বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিন।
-রবিউল আলম, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি

সড়কে অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্য
দীর্ঘদিন যাবৎ লক্ষ্য করে আসছি মিরপুর এক নম্বরের মূল সড়কের উপরের কাঁচা বাজার ও হকারদের দৌরাত্ম্য। সনি সিনেমা হলের পশ্চিম পাশ থেকে শুরু করে হযরত শাহ আলী বাগদাদী (র.) এর মাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশ এখন অবেধ দখলদারদের বাজারে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট থেকে হযরত শাহ্্আলী (র.) গালর্স কলেজ পর্যন্ত সড়কের উত্তর পাশে রয়েছে কাঁচা বাজার আর দক্ষিণ পাশের অংশে রয়েছে হকারদের বিভিন্ন পশারী দোকান। মাঝে মাঝে দেখা যায় পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট মিলে দোকানপাট উচ্ছেদ করে দেয়। দুঃখের বিষয় দুই দিন যেতে না যেতেই আবার কোন অদৃশ্য হাতের ইশারায় যেন পুনরায় বাজার বহাল তবিয়তে পূর্বরূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। হযরত শাহআলী বাগদাদী (র.) গালর্স কলেজের গেট থেকে দশ গজ পূর্বে একটি রঙিন ছাতার নিচে চায়ের দোকান করেন কেরামত আলী নামে একজন বয়স্ক লোক। তার মাথার উপর রয়েছে বিদ্যুতের একটি ট্রান্সফরমার। আর এই ট্রান্সফরমার থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে হকার দল বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রাষ্ট্রের বিদ্যুৎ সেক্টরের প্রভূত ক্ষতি সাধন করে চলছে। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যুতের ঐ স্থানের লাইনম্যানকে মাসোহারা দিয়ে এ অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কাজ বহাল রয়েছে। দোকানদারগণ প্রতিদিন বিদ্যুৎ বিল দিয়ে দেয় যে কোন আদায়কারীর নিকট। কিন্তু তা সরকার কতটুকু পায় দুর্নীতি মন কর্তৃপক্ষই কেবল তা তদন্ত করে বলতে পারবেন। চায়ের দোকানের সামনেই রয়েছে কয়েকটি টেবিলে লাগানো ডেন্টাল ক্লিনিকের সাইনবোর্ড, তারা দাঁত উঠানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, লাইসেন্স আছে কি নেই কে জানে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট থেকে উত্তর দিকে গোদারা ঘাট পর্যন্ত মূল সড়কের দুই ধারে রয়েছে রিকশাভ্যানের অবৈধ গ্যারেজ। এলাকার মানুষদের একটি প্রশ্ন দেশে কি কোন সরকার আছে, না সরকার ছাড়াই দেশ চলছে? যানবাহন চলাচলের রাস্তার অর্ধেকের বেশি দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ দখলদারদের বাজারে পরিণত, সেই সাথে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য তৈরি ফুটপাতও অবৈধ দখলদাররা গ্রাস করে হাঁটা-চলার সুযোগ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাধ্য হয়ে পথচারীরা দীর্ঘ গাড়ির জটের ফাঁকে ফাঁকে পা ফেলে গুতো-ধাক্কা খেতে খেতে কোনোরকমে ঐ এলাকাটি পাড়ি দিচ্ছে। যে এলাকাটির কথা বলছি তা হলো মিরপুর মডেল থানা, শাহআলী থানা ও দারুস সালাম থানার অন্তর্গত। এলাকাটি ঢাকা-১৪ নম্বর সংসদীয় আসনের অধীন। এসব অবৈধ বাজার যেখানে যানচলাচলের বাঁধার সৃষ্টি করছে, পথচারীকে চলতে হচ্ছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে চোখের সামনে, সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।
-মো. আবু তালেব মিয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ