শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ইমরান খানের কঠোর ব্যয় সংকোচন ও কৃচ্ছ্র সাধন : পরিবারতন্ত্রের অবসান

খেলার জগতে বিশেষ করে ক্রিকেটের জগতে তিনি দুনিয়া কাঁপিয়েছিলেন।  প্রথমত নিজেই ছিলেন অল রাউন্ডার, তাছাড়া স্কিপার বা ক্যাপটেন হিসাবে তার অনন্য সাধারণ নেতৃত্ব পাকিস্তানকে ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন করেছিলো। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ৪ বছর পর ১৯৯৬ সালে সেই অল রাউন্ডার ইমরান খান রাজনীতির ঝড়ো হাওয়ায় প্রবেশ করেন। তাও আবার যে সে রাজনীতিতে নয়, পাকিস্তানের মতো একটি ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ  উত্তাল দেশে। তিনি কোনো বিদ্যমান রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি। নিজেই একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন যার নাম এখন সকলেই জানেন। সেটি হলো পিটিআই, তেহরিকে ইনসাফে পাকিস্তান। ১৯৯৬ সালের পর ২০১৮ সাল। ২২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে সাফল্যের তুঙ্গে উঠেছেন ইমরান। আজ ১৯ কোটি ৮০ লক্ষ অর্থাৎ ২০ কোটি লোকের দেশের প্রধানমন্ত্রী তিনি। সুতরাং এপর্যন্ত তিনি সফল, একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। কিন্তু সাথে সাথে একথাও বলতে হয় যে, এবছর রাজনৈতিক জীবনের অগ্নি পরীক্ষায় প্রবেশ করলেন তিনি। পাকিস্তানে এখন বিরাজমান রয়েছে বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্র, যেখানে পার্লামেন্ট সমস্ত ক্ষমতার উৎস এবং সেই পার্লামেন্টে মেজরিটি পার্টির লিডার হিসাবে প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। এখন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তিনি কতটা সফল হবেন,  সেটি দেখার জন্য প্রতীক্ষা করছেন পাকিস্তান এবং বহির্বিশ্ব।
গত মাসের অর্থাৎ আগস্ট মাসের ১৮ তারিখে ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন এবং ১৬ সদস্যের মন্ত্রী সভা গঠন করেন। অর্থাৎ তার মন্ত্রী সভায় রয়েছেন ১৬ জন ফেডারেল মিনিস্টার। এই ১৬ জন মন্ত্রী ছাড়াও আরো রয়েছেন ফেডারেল মন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন ৫ জন উপদেষ্টা। আজ ১৬ সেপ্টেম্বর রবিবার। তার নতুন সরকারের মাত্র ২৯ দিন অতিক্রান্ত হচ্ছে। এই ২৯ দিনে কোনো সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতা নিয়ে কোনো আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না। ২৯ দিন বা ১ মাস তো দূরের কথা, ৬ মাস আগে একটি সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করাটা সমীচীন নয়।
ইমরান সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতা নিয়ে কোনো কথা বলার আগে একটি বিষয়ে পাঠক ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। ইমরানের নির্বাচনী বিজয়ে এই উপমহাদেশে রাজনীতিতে একটি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সেটি হলো রাজনীতিতে বা সরকার গঠনে পরিবার তন্ত্রের অবসান। পাক-বাংলা-ভারত উপমহাদেশের রাজনীতি এবং ক্ষমতার মসনদে পরিবার তন্ত্রের দাপট প্রবল। ভারতে দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই নেহরুর পরিবার বিশাল ভারতের রাজনীেিত একক কর্তৃত্ব নিয়ে আবির্ভূত হয়। ভারতের স্বাধীনতার পূর্বে কংগ্রেসের প্রধান ছিলেন পন্ডিত নেহরুর পিতা মতিলাল নেহরু। ভারত স্বাধীন হলে সংসদীয় সরকারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন মতি লাল নেহরুর পুত্র পন্ডিত জওহর লাল নেহরু। পন্ডিত নেহরু ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত একটানা  ১৭ বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পন্ডিত নেহরুর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী মাঝখানে একবার বিরতি দিয়ে দুই দফায়  ১১ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এরপর আবার বিরতি দিয়ে ইন্দিরা গান্ধী ৪ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অর্থাৎ দুই দফায় ইন্দিরা গান্ধী ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর পুত্র রাজীব গান্ধী ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৯ সাল- ৫ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সুতরাং দেখা যায় যে শুধুমাত্র ইন্দিরা পরিবার ৩৭ বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এই মুহূর্তে ইন্দিরা পরিবার ক্ষমতায় না থাকলেও কংগ্রেসের নেতৃত্ব তাদের হাতেই রয়েছে। সোনিয়া গান্ধী ইটালির বংশোদ্ভূত হলেও রাজীব গান্ধীর পতœী হওয়ার সুবাদে দীর্ঘ সময় ধরে কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।  ড. মনমোহন সিং কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে দুই দফায় ১০ বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। মনমোহন সিংকে প্রধানমন্ত্রী করার আগে সোনিয়া গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। সোনিয়া গান্ধী ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক অসুবিধার কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনুরোধ সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন। সোনিয়া গান্ধীর পর তার পুত্র রাহুল গান্ধী এখন কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে ৬টি প্রজন্ম ধরে কংগ্রেসের নেতৃত্ব একটি পরিবার অর্থাৎ নেহরু পরিবারের হাতেই কুক্ষিগত রয়েছে।
॥দুই॥
একই অবস্থা বিরাজ করছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১০ই জানুয়ারি ১৯৭২ সালে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ফিরে এসে প্রথমে প্রেসিডেন্ট এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট তার মৃত্যু হলে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করে। এরপর জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট হন। তিনি ১৯৮১ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ৬ বছর ক্ষমতায় থাকেন। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর নির্বাচনের মাধ্যমে বিচারপতি সাত্তার প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেনারেল এরশাদ একটি নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা ছিনতাই করেন। ১৯৯১ সালে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পত্নী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এভাবে নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে বেগম জিয়া তিন বার প্রধানমন্ত্রী হন। প্রেসিডেন্ট জিয়া বিএনপি গঠন করেন এবং সেই দলের প্রেসিডেন্ট হন। তার মৃত্যু হলে তার পত্নী বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির প্রেসিডেন্ট হন। এখন পর্যন্ত তিনি সেই দলের প্রেসিডেন্ট। অর্থাৎ বেগম জিয়া ৩৭ বছর ধরে বিএনপির প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারে থাকায় তারেক রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত অর্থাৎ ৩৭ বছর ধরে তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট রয়েছেন। অন্যদিকে  ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। রেগুলার নির্বাচনে এ পর্যন্ত তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে বাংলাদেশের প্রধান দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে পরিবারতন্ত্র বহাল রয়েছে দাপটের সাথে  এবং রাষ্ট্র ক্ষমতাও পালাক্রমে ন্যাস্ত রয়েছে এই দুটি দলের ওপর।
॥তিন॥
শুরুতে পাকিস্তানে পরিবারতন্ত্র তাদের রাজনীতিতে বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলো না। কিন্তু মিলিটারি প্রেসিডেন্ট আইয়ূব খানের মন্ত্রী সভায় জুলফিকার আলী ভুট্টো মন্ত্রী হিসাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। অন্যদিকে আরেক মিলিটারি প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হকের মন্ত্রী সভায় মিয়া মোহাম্মদ নওয়াজ শরীফ মন্ত্রী হিসাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। জুলফিকার আলী ভুট্টো বা জেড এ ভুট্টো বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এবং পরে প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁর ফাঁসি হওয়ার পর পিপলস পার্টির নেতৃত্বে আসেন তাঁর অক্সফোর্ড ও হার্ভার্ডে লেখাপড়া করা উচ্চ শিক্ষিতা কন্যা বেনজির ভুট্টো। বেনজির ভুট্টো পাকিস্তানে দুই দফা প্রধানমন্ত্রী হন। বেনজির ভুট্টোর মৃত্যুর সময় তার জ্যেষ্ঠ পুত্র বিলওয়াল ভুট্টো ছাত্র ছিলেন। তাই বেনজিরের পর ক্ষমতায় আসেন তার স্বামী আসিফ আলী জারদারি।  বর্তমানে পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান হলেন বেনজির ভুট্টো ও আসিফ আলী জারদারির পুত্র বিলওয়াল ভুট্টো। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, পাকিস্তানেও পিপলস পার্টির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ভুট্টো পরিবারেই বন্দী হয়ে আছে।
ভারতের রাজনীতি বিশেষ করে কংগ্রেসের রাজনীতি পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্ত হয়নি। অনুরূপভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি এবং রাষ্ট্র ক্ষমতা দুইটি পরিবার অর্থাৎ মুজিব পরিবার ও জিয়া পরিবার থেকে অর্থাৎ পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্ত হয়নি। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতাও পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্ত হয়নি। কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এবারই ঘটলো তার বিরাট ব্যত্যয়। ইমরান খান এবার নিজে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তার দল ক্ষমতায় এসেছে এবং তার দল বৃহত্তম দল হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। শুধু ত্ইা নয়, তাঁর দল সারা পাকিস্তান ভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসাবে উত্থিত হয়েছে। রাষ্ট্র ক্ষমতায়  নেওয়াজ শরীফের মুসলিম লীগ এবং ভুট্টোর পিপলস পার্টির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। অন্য কথায় নেওয়াজ শরীফ এবং ভুট্টো পরিবার, অর্থাৎ পরিবারতন্ত্র থেকে পাকিস্তানের রাজনীতি এবং রাষ্ট্র ক্ষমতা মুক্ত হয়েছে। ভারত এবং বাংলাদেশে পরিবারতন্ত্র চালু রয়েছে। এটি কি দেশ এবং রাজনীতির জন্য খারাপ না ভালো সেব্যাপারে আমরা কোনো মন্তব্য করছি না। অনুরূপভাবে পাকিস্তানের রাজনীতি এবং রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্ত হয়েছে, সেটিও পাকিস্তানের জন্য ভালো না খারাপ হয়েছে সেব্যাপারেও আমরা কোনো মন্তব্য করছি না। আমরা শুধু এটুকু বোঝাবার চেষ্টা করেছি যে উপমহাদেশের তিনটি দেশের মধ্যে একমাত্র পাকিস্তানই পরিবারতন্ত্রের কবল থেকে মুক্ত হয়েছে।
॥চার॥
আগেই বলেছি, দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ২৯ দিন পার হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইমরান যেটা করেছেন সেটি হলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বাত্মক ব্যয় সংকোচন এবং কৃচ্ছ্র সাধন। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের শপথানুষ্ঠানে ব্যয় হয়েছিল ৯২ লাখ রুপি, ২০০৮ সালে জারদারির অনুষ্ঠানের ব্যয় ছিল ৭৬ লাখ রুপি। সেখানে গত রোববার নিজের শপথানুষ্ঠান সেরেছেন মাত্র ৫০ হাজার রুপিতে! তিনি আরো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রাসাদোপম বাসভবনে থাকবেন না তিনি। এটি হবে বিশ্ববিদ্যালয়। তার জন্য রাষ্ট্রের বরাদ্দ ৫২৪ জন কর্মচারীর সবাইকে ছুটি দিয়েছেন। বহাল রেখেছেন মাত্র ২ জনকে। প্রধানমন্ত্রীর বাসবভনে থাকা ৮০টি গাড়ির মধ্যে দুটি বুলেট প্রুফ গাড়ি রেখে বাকি ৩৬টি বুলেট প্রুফ গাড়িসহ সবগুলো নিলামে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। মন্ত্রী সভার  কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে আপ্যায়ন হিসাবে দেওয়া হয়েছিলো শুধু মাত্র চা ও বিস্কুট।  বৈঠকে ইমরান খান নতুন মন্ত্রীদেরকে অনুরোধ করেছেন যেন তারা তাদের এবং নিজেদের কার্যালয়ের দৈনন্দিন খরচ কমিয়ে আনেন। এছাড়া দৈনিক ১৪ ঘণ্টা কাজ করতে হবে বলেও জানান তিনি। নিজের ব্যপারে বলেন, আমি প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা কাজ করবো।
এছাড়া ইমরান বলেন, ঈদ না হলে কারো জন্যই কোনো ছুটি মঞ্জুর করা হবে না। ‘পরিবারের কথা ভুলে যেতে হবে’ বলেও মন্ত্রীদেরকে বলেন তিনি। পাকিস্তানের নতুন সরকার ‘ভিআইপি সংস্কৃতির’ বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। বিমানবন্দরগুলোতে রাজনীতিক, বিচারপতি, সামরিক কর্মকর্তাসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার নিয়ম বাতিল করেছে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকার। নতুন সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি ব্যয় কমাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিশেষ তহবিল (স্বেচ্ছাধীন খরচের তহবিল) বিলুপ্ত এবং প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি কর্মকর্তা ও নেতাদের প্রথম শ্রেণির উড়োজাহাজ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এরপর ভিআইপি সংস্কৃতি বাতিলের সিদ্ধান্ত এল, যা গত রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে। ক্ষমতায় এসেই দেশের সরকারি সংবাদ মাধ্যম পাকিস্তান টিভি এবং রেডিও পাকিস্তানকে পুরোপুরি সম্পাদকীয় স্বাধীনতা দিল ইমরান খান সরকার। পাকিস্তানের নতুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ফাওয়াদ হোসেন চৌধুরি টুইটারে জানিয়েছেন, তার মন্ত্রণালয় আগামী তিন মাসে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে থাকা সব গাড়ি নিলামে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিলেন পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। দেনার দায়গ্রস্ত পাকিস্তানের অর্থনীতির হাল ফেরাতে এমন অনেক কিছুই করছেন তিনি। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো মহিষ বিক্রির সিদ্ধান্ত।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে থাকা গাড়িগুলো নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে চারটি হেলিকপ্টারও বিক্রি করা হবে, যেগুলো ক্যাবিনেট ডিভিশনে পড়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশাল বাসভবন ছেড়ে মাত্র তিন রুমের বাসায় থাকছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বাসভবনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হতে পারে। আরো সিদ্ধান্ত হয়েছে যে সরকারি খরচে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না। পাকিস্তানের শিক্ষা সিলেবাসে পবিত্র কোরআন শরীফ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে আইন পাশ করারও অঙ্গীকার করেন। ভাষণে ইমরান খান একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা বার বার উল্লেখ করেন।
এসব পদক্ষেপ অবশ্যই প্রসংশার দাবি রাখে। তবে পাকিস্তানের সামনে বর্তমানে দুটি কঠিন সমস্যা হলো অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পররাষ্ট্র নীতিতে আমেরিকা ও ভারতের সাথে সম্পর্ক। এব্যাপারে এখন পর্যন্ত তিনি কিছু বলেননি এবং আমাদেরও এ সম্পর্কে বলার সময় আসেনি। তবে সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে, কিভাবে ইমরান তার অর্থনীতির বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধার করেন এবং সাম্য, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে আমেরিকা ও ভারতের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখেন। পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে তার অপর একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হবে আফগানিস্তান ও কাশ্মীর। এসব নিয়ে আমরা উপযুক্ত সময়ে কথা বলবো।
Email: asifarsalan15@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ