মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

এক অশনি সংকেত এই নাগরিকপঞ্জী

রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বিষয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর ভার অনেক বেশি। সহসা এই সংকটের সমাধান আশা করা যাচ্ছে না। এখন আবার আসামের দিক থেকে সংকটের আর এক ঘনঘটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের শাসক দল বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে রীতিমতো দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে দলটির সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, আসামের নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি) তৈরি এবং অনাগরিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের অন্যথা হবে না। আর বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক রাম মাধব তিন ‘ডি’র উল্লেখ করে দলীয় ইতিকর্তব্যের ব্যাখ্যাও শুনিয়ে দিয়েছেন। প্রথম ‘ডি’ হলো ‘ডিকটেশন’ মানে বিদেশীদের চিহ্নিত করা। দ্বিতীয় ‘ডি’ হলো ‘ডিলিট’ অর্থাৎ ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে যাবতীয় সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে ‘বিদেশীদের’ বঞ্চিত করা যাতে ‘প্রকৃত’ ভারতীয় নাগরিকদের সুখ-স¦াচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পায়। তৃতীয় ‘ডি’ এই প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ ‘ডিপোর্টেশন’ অর্থাৎ নাগরিকপঞ্জিতে যাদের নাম উঠে না সেই ‘বিদেশীদের’ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো। এখানে উল্লেখ্য যে, দল হিসেবে বিজেপি নিজেদের ওই তিন ‘ডি’র মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে রাজি নয়। বিজেপির সদ্য সমাপ্ত জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য- নেতৃত্বকে বলা হয়েছে, তারাও যেন নিজ নিজ রাজ্যে নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি) তৈরির দাবিতে সরব হন। এদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বিজেপির পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আসামে যারা বিদেশি বলে চিহ্নিত হবেন তারা যাতে অন্য রাজ্যে গিয়ে সেখানকার ‘প্রকৃত’ ভারতীয় নাগরিকদের বিড়ম্বনার কারণ না হন সে জন্য অন্য রাজ্যগুলোতেও এনআরসি করা জরুরি।
রহস্যজনক বিষয় হলো, শাসক দল বিজেপি এনআরসি নিয়ে এতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও সরকার কিন্তু সম্ভাব্য ‘চিহ্নিত বিদেশীদের’ ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করছে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ বিষয়ে একবারও মুখ খোলেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মুখেও কুলুপ। তবে বাংলাদেশকে একাধিকবার নিশ্চিন্ত করে ভারত জানিয়েছে, আসামে যা হচ্ছে তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
শাসক দল বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে এনআরসি প্রসঙ্গে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যে ভাষায় কথা বলা হয়েছে এবং তিন ‘ডি’তে যেভাবে বাংলাদেশকে যুক্ত করা হয়েছে তাতে কি নিশ্চিন্ত হওয়া যায় যে, আসামে যা হচ্ছে তা একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়? আমরা জানি যে, বাংলাদেশ ভারতের অনুপ্রবেশ তত্ত্বকে বিশ্বাসই করে না। অথচ ভারতের শাসক দল এই তত্ত্বের মাধ্যমে ৪০ লাখ মানুষকে ধাক্কা দিয়ে বালাদেশে পাঠাতে চায়। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের জন্য এক বড় অশনিসংকেত। এই সংকেত সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো কিভাবে মোকাবিলা করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ