বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

যেভাবে ধামাচাপা পড়ে নারী স্যানিটেশন ইন্সপেক্টরকে যৌন নির্যাতনের ঘটনা

বান্দরবান সংবাদদাতা : বান্দরবানের সাবেক জেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর সুজন বড়ুয়ার বিরুদ্ধে উপজাতি মারমা সম্প্রদায়ের নারী স্যানিটারী ইন্সপেক্টরকে ধর্ষণ চেষ্টা, প্রতিনিয়ত কু-প্রস্তাব ও কর্মস্থলে নিয়মিত যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বিচার চেয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়াম্যোনকে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন ওই নারী স্যানিটারী ইন্সপেক্টর। তবে বিচার প্রার্থনার দীর্ঘ দু‘বছর গত হলেও ঘটনাটি কৌশলে চাপা দিয়ে রেখেছেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন। এতে ধর্ষণ চেস্টা ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বিচার পাওয়ার পরিবর্তে উল্টো প্রশাসনিকভাবে বিভিন্ন হয়রানির এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন ওই নারী স্যানিটারী ইন্সপেক্টর। বর্তমানে চাকরিচ্যুতের ভয় আর চরম আতংকে দিনাতিপাত করছেন অভিযোগকারী ওই নারী স্যানিটারী ইন্সপেক্টর।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা এই ধর্ষণ চেস্টা ও যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ওই নারী স্যানিটারী ইন্সপেক্টরের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরই সংস্থার আইনানুসারে জেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সুজন বড়ুয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগটি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য জেলা সিভিল সার্জনেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরে ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বান্দরবানের থানচির উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মংটিংঞোকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি তদন্ত শেষ করে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ইং তারিখে একটি প্রতিবেদন জমাদেন। নারী স্যানিটারী ইন্সপেক্টরের আনিত অভিযোগের ঘটনা সত্য বলে প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করা হয়েছে।
পার্বত্য বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা আরও বলেন, জেলা পরিষদ পরে একই অভিযোগের তদন্তে ওই বছরের ২৯ মার্চ একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটির আহবায়ক করা হযেছে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ক্যাসাপ্রুকে। আর সদস্য করা হয়েছে জেলা পরিষদের ডেপুটি সিভিল সার্জন ও নির্বাহী কর্মকর্তাকে। তবে ওই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কোনো প্রমান মিলেনি।
অভিযোগের বিয়য়টি স্বীকার করে বান্দরবানের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. অংশৈ প্রু চৌধুরী বলেন, আমি ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের দায়িত্বে আছি। এই অভিযোগটি দীর্ঘ দু‘বছর আগের । ওই সময় আরেক সিভিল সার্জন ছিলেন, তিনি কি করেছেন, আমার জানা নেই। খবর নিয়ে দেখতে হবে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ