রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেয়ার ২৯ দিনেও খুলনার ঘের ব্যবসায়ী আলতাফের সন্ধান মেলেনি 

খুলনা অফিস : র‌্যাব পরিচয়ে যশোর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া খুলনার ব্যবসায়ী আলতাফ হাওলাদারের সন্ধান মেলেনি ২৯ দিনেও। ফলে গভীর উদ্বেগ, উৎকন্ঠার মধ্যে হতাশায় রয়েছে তার পরিবার। বিশেষ করে দু’টি শিশু সন্তান নিয়ে তার স্ত্রী স্বামীর সন্ধান পেতে ছুটে ফিরছেন বিভিন্ন স্থানে।

এদিকে, নিখোঁজ আলতাফের সন্ধান দেয়ার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে তৎপর হয়েছে একটি দালাল চক্র। সে যশোর কারাগারে রয়েছে-দাবি করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে চক্রটি মোটা অঙ্কের অর্থও হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী সেলিনা বেগম।

এর আগে গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ কাজীর বেড় গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে র‌্যাব পরিচয়ে ঘের ব্যবসায়ী আলতাফ হাওলাদারকে (৩৭) তুলে নেয়া হয়। তারপর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। আলতাফ হাওলাদার খুলনা মহানগরীর বানরগাতি হাজী ইসমাইল রোডস্থ মৃত আব্দুল গণি হাওলাদারের ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটায়। তিনি খুলনার হরিণটানা থানাধিন পুঁটিমারী বিল এলাকায় যৌথভাবে ঘের ও মাছের ব্যবসা করতেন।

আলতাফের স্ত্রী সেলিনা বেগম অভিযোগ করেন, ‘তার স্বামী অপহরণের কয়েকদিন আগে র‌্যাব-৬ এর পরিচয়ে রহিম নামে এক ব্যক্তি আমার কাছে ফোনে বলেন, আলতাফ কোথায়, তাকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই গুলী করে হত্যা করা হবে’ বলে হুমকি দেন। এর কয়েকদিন পরই বাড়ির সামনে থেকে তাকে তুলে নেয়া হয়। তুলে নেওয়ার পর হুমকিদাতা রহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাকে জানান, ‘আলতাফ আমাদের কাছে আছে, আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। তার কোনো ক্ষতি হবে না।’

সেলিনা বেগম আরও বলেন, সম্প্রতি তুষার নামে জনৈক ব্যক্তি তার ভাসুর কামাল হাওলাদারকে জানায় ৩ লাখ টাকা দিলে তার ভাই আলতাফ হাওলাদারকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। সে মোতাবেক আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধার দেনা করে ১ লাখ টাকা দেন। টাকা পাওয়ার পর তুষার তাদের জানায়, আলতাফ হাওলাদার যশোর কারাগারে রয়েছে। সে অনুযায়ী তিনি যশোর কারাগারে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার স্বামীর কোনো সন্ধান পাননি। উল্টো কারাফটকে কর্মরতরা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। ঘের নিয়ে ব্যবসায়িক পার্টনার রফিকের সাথে বিরোধের জের ধরে তার স্বামীকে গুম করা হতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি স্বামীকে ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আলতাফের বড় ভাই কামাল হাওলাদার ও মেঝ ভাই রাজু হাওলাদার বলেন, তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে দু’টি মিথ্যা মামলা ছিল। সে ওই মামলায় আইনী লড়াই করে জামিনে ছিল। কিন্তু কে বা কারা তাকে তুলে নিয়েছে- সেটি তাদের কাছে পরিষ্কার নয়। তবে, কোনো অপরাধ থাকলে আইনের আওতায় এনে ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাকে আদালতে সোপর্দ করা উচিত বলেও মনে করেন তারা।  এদিকে, স্বামী আলতাফ হাওলাদারকে ফেরত পেতে স্ত্রী সেলিনা বেগম ২৮ আগস্ট দুই শিশু সন্তান পঞ্চম শ্রেণিতে পড়–য়া ইশরাত আরা লামিয়া ও শিশু শ্রেণির ইশরাত আরা সামিয়াকে নিয়ে খুলনা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। এসময়ে তারা অঝোরে কাঁদছিলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে যশোরের শার্শা থানাধিন নাভারণ কাজীর বেড় গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানের সামনে থেকে র‌্যাব পরিচয়ে সাদা পোশাকের সশস্ত্র ৫ জন লোক ঘের ব্যবসায়ী আলতাফকে একটি প্রাইভেটকারযোগে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পরের দিন শার্শা থানায় জিডি করতে গেলে ওসি জিডি না নিয়ে লিখিত অভিযোগ নেন। এরপর বিষয়টি যশোরের নাভারণ সার্কেলের এএসপির কাছে লিখিত আবেদন করেন। পরবর্তীতে ২৫ ও ২৬ আগস্ট ও আত্মীয়-স্বজনরা খুলনার র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে গিয়ে আলতাফ হাওলাদারের বিষয়ে কোনো তথ্য পাননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ