রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মনিরামপুরে চাষিদের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে 

প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাট চাষিরা পচনের (জাঁগ) জন্য পাট কেটে এভাবেই ১) রাস্তার ধারে রেখেছেন, ২) জাঁগ দিতে আলমসাধুতে এভাবেই  অন্যত্র নেয়া হচ্ছে, ৩) পানি স্বল্পতার কারণে এভাবেই হাঁটু পানিতে জাঁগ দেয়া হচ্ছে। ছবিটি আ¤্রঝুটা মাঠ থেকে তোলা                -সংগ্রাম

নিছার উদ্দীন খান আযম, মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা: মনিরামপুরের পাট চাষিরা পাট নিয়ে বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় বৃষ্টি এবং বাজারে উপযুক্ত মূল্য না থাকায় পাট চাষিরা এ বছর পাট চাষ করে চরম বিপাকে পড়েছেন। মনিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, চলতি বছর মনিরামপুর উপজেলায় মোট পাট চাষ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে। এসব জমির পাট চাষিরা প্রতি বছর জমিতে পাট কেটে পুনরায় আমন চাষ করে থাকেন। 

কিন্তু চলতি বছর চাষিদের সে আশার গুড়ে বালি। যেখানে দুটি ফসল ফলানো যেতো সেখানে একটি ফসল উৎপাদন হওয়ায় চাষিদের মগডালে হাত উঠেছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় উপজেলার অধিকাংশ এলাকার খাল-বিল ও মাঠ শুকিয়ে রয়েছে। যার ফলে জমি থেকে পাট কেটে পঁচানোর (জাঁগ দেওয়া) ব্যবস্থা না থাকায় পাট চাষিরাই মহা বিপাকে পড়েছেন পাট নিয়ে। না পারছেন পাট জাঁগ দিতে, আবার বাজার মূল্য ধস নেমেছে। উভয় দিক দিয়ে তারা মহাসংকটে দিনাতিপাত করছেন। 

আম্রঝুটা গ্রামের পাট চাষি মোঃ মকবুল হোসেন এ বছর ৫৩ শতক জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। পাট চাষে ফলনও খুব ভাল পেয়েছেন। সম্প্রতি জমি থেকে পাট কেটে কোন রকম উঠালেও বাজারে বিক্রয় করে তাতে তাকে লোকসান গুণতে হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। কারণ হিসেবে তার নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, গত বছরের চাইতে পাট চাষে এবার খরচ হয়েছে দ্বিগুণ। বপনের সময় প্রয়োজনমতো বৃষ্টিপাত না পাওয়ায় বিদ্যুৎ চালিত মোটর দিয়ে সেচ দিতে হয়েছে। আবার জমিতে নিড়ানী দিতে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে শ্রমিক কিনতে হয়েছে।  তারপরও মাত্র ১৬’শ টাকায় পাটের মণ বিক্রি করে ৫৩ শতক জমিতে উৎপাদিত পাট বিক্রি করে লোকসান গুণতে হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এমন লোকসানের পর আগামীতে পাট চাষে অনিহা প্রকাশ করেছেন তিনি। 

পাতন গ্রামের আবুল হোসেন, দেবিদাশপুরের চাষি জোহর আলী, কাজিয়াড়া গ্রামের হাসান আলী জানান, পাট চাষ করে এ বছর বিপদের পার নেই। কারন হিসেবে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না থাকায় পাট কেটে পঁচানোর জন্য কোন জায়গা না পাওয়ায় পাট তুলতে পারছিনা জমি থেকে। এছাড়া বাজার মূল্য একেবারেই কমতি। ফলে জমি থেকে পাট কাটার আপাততো ইচ্ছা নেই। আম্রঝুটা গ্রামের পাট চাষি ওহাব আলী জানান, পাট কেটে কি হবে ? পানির অভাবে পঁচানোর জায়গা না থাকায় পাট কাটা হচ্ছে না জমি থেকে। ফলে কিছুদিন পর এগুলো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। 

 নেহালপুর বাজারের পাট ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ জানান, বাজারে ভাল পাটের মূল্য বেশি একটা ভাল না। যে কারণে অধিকাংশ পাট চাষি আগামীতে পাট চাষে অনিহার কথা জানিয়েছেন। 

তবে জলবায়ুর প্রভাব নাও হতে পারে কিন্তু পাটের বাজার মূল্য যদি একটু উর্ধ্বগতি হতো তাহলে পাট চাষিরা আগামীতে পাট চাষে আরো বেশি আগ্রহী হতো। 

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার তরফদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ কম হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, সঠিক সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং পাট পঁচন (জাঁগ দেওয়া) প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ায় পাট চাষে কিছুটা অনিহা সৃষ্টি হয়েছে চাষিদের মধ্যে। যা যশোরের বাইরের জেলাগুলোতে এমন অবস্থা তেমনটি নেই। তবে তিনি আরো বলেন, আগামীতে পাট চাষে চাষিদের আরো বেশি আগ্রহী সৃষ্টি করতে উদ্বুদ্ধ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ