বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মালিককে দাবি মানতে বাধ্য করলে শ্রমিকের সাজার বিধান রেখে শ্রম আইন অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার : বল প্রয়োগ করে কারখানা মালিককে দাবি মানতে বাধ্য করা যাবে না। যদি শ্রমিকরা এ ধরনের অসদাচরণ করেন তাহলে অনধিক এক বছর কারাদন্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা যাবে। এমন বিধান রেখে বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) ২০১৮ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো: শফিউল আলম এসব কথা জানান।
তিনি জানান, কোনো শ্রমিক একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হলে এক মাসের সাজা প্রদান করা যাবে বলে আইনে বিধান রাখা হয়েছে। প্রসূতি নারী শ্রমিককে ৬ সপ্তাহ ছুটি না দিলে উক্ত কারখানা মালিককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে। এছাড়াও শ্রমিকদের পক্ষে বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে নতুন আইনে মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, কর্মক্ষেত্রে আহত হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে আহত হলে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। তিনি বলেন, শ্রম আইনের বেশকিছু ধারা সংশোধন করা হয়েছে। এ আইনের তিন ধারায় সরকারি চাকুরিজীবীদের মতোই উৎসব ভাতার পদ্ধতি রাখা হয়েছে। আইনের ৪৪ ধারায় বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ করা যাবে কিনা, সে সম্পর্কিত বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে।
আইনের ৪৭ ধারায় বলা হয়েছে, নারী শ্রমিকরা সন্তান প্রসবের ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত কাজে অনুপস্থিত থাকতে পারবেন। ৯৩ ধারায় বলা হয়েছে, সাপ্তাহিক ছুটি যৌথ দরকষাকষির ভিত্তিতে উৎসব ছুটির সাথে যুক্ত করে ভোগ করতে পারবে শ্রমিকরা। সেক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটির জন্য কোনো ভাতা পাওয়া যাবে না বরে জানান সচিব।
শিশুদের কোনোভাবেই কাজে নিয়োগ দেয়া যাবে না বলে জানান মন্ত্রী পরিষদ সচিব। যদি কোনো কারখানা মালিক শিশুদের কাজে নিয়োগ দেন সেক্ষেত্রে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে বলে আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই আইন পাস হলে ১৪ বছরের নিচে কাউকে কোনও ধরনের কারখানায় নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগ দিলে কারখানা মালিকের পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এর আগে বিশেষ শর্তসাপেক্ষে ১২ বছরের ওপরের শিশুদের শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যেতো। তবে এবার ১৪ বছরের নিচে কাউকে নিয়োগ দিলে নিয়োগকারীর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম জানান, ১৪ বছর বয়সের নিচের শিশুকে কোনও কারখানায় নিয়োগ দেওয়া যাবে না। তবে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের কারখানায় শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে। প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত করা যাবে না। উল্লেখ্য, সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ৩৫৪টি ধারাবিশিষ্ট বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন ২০১৮ নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাবে দুটি ধারা, চারটি উপধারা, আটটি দফা সংযোজন করা হয়েছে। ৬টি উপধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে। ৪১টি ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী বর্তমান বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-কে আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ