সোমবার ২৫ মে ২০২০
Online Edition

খুলনায় চোরাই পথে আসছে  বিদেশী মদ-বিয়ার  

 

খুলনা অফিস : খুলনায় চোরাই পথে আসছে বিদেশী মদ-বিয়ার। র‌্যাবের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে অভিযানে অর্ধকোটি টাকারও বেশি বিদেশী মদ ও বিয়ার আটক করেছেন। অভিযানে সত্ত্বেও থেমে নেই এই ব্যবসা। প্রতিরোধে বিশেষ অভিযানের লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালকের তত্ত্বাবধানে ১৬ সদস্যের একটি টিম গঠন করেছেন।

জানা গেছে, ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে খুলনায় পুলিশ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদী ও সড়ক পথে মাদক চক্রটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশী মদ-বিয়ার নিয়ে আসছেন। র‌্যাবের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে অবৈধ পথে আসা মদ-বিয়ারসহ বিক্রেতাদের আটক করছেন। দু’টি সংস্থা এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধকোটি টাকার চালান আটক করেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি চালানসহ মদ বিক্রেতা আটক হয়েছে। এর পরেও থামেনি এই ব্যবসা। চলতি বছরের গত ১৮ মার্চ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি টিম দাকোপ উপজেলার বানিয়াশান্তা নিষিদ্ধ পল্লীতে অভিযান পরিচালনা করেন। ওই অভিযানে বিদেশী মদ ব্লাক ক্লিয়ার ৩০ বোতল, দেশি মদ কেরু ৭ বোতল, বিয়ার (হ্যারিক্যান) ৬৫টি ক্যান, বাইহ্যানো বিয়ার ক্যান ২৯টি, চোলাই মদ ২০ লিটার ও গাঁজা উদ্ধার হয়। অভিযান টের পেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তালিকাভুক্ত চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আব্দুস ছত্তারের কন্যা জাহানারা (৩০) ও মহিদুলের স্ত্রী রুমা (৩০) পালিয়ে যান। এর আগে ২০১৭ সালে ৩০ ডিসেম্বর র‌্যাব-৬ এর একটি টিম দেশি-বিদেশি মদসহ মূল চোরাকারবারী শাহজাহানসহ ৭ জনকে আটক করে। আটককৃত অন্যরা হচ্ছে মো. সাগর বিশ্বাস, সুশীল জয়ধর, মেহেদী হাসান, মো. রুস্তম গাজী, রাসেল কবির ও মোসা. পপি ইসলাম।

ওই সময় কোম্পানি কমান্ডার এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, উদ্ধারকৃত অবৈধ মদ ও বিয়ার আটক শাহজাহান ঢাকা ও মংলা পোর্ট থেকে তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকারে করে এনে মজুদ করতেন।

এছাড়া ২০১১ সালের ২৭ মার্চ রাত ১২টার দিকে পুলিশ নগরীর ইউসুফ রো এলাকার ৩ নম্বর মির্জাপুরে শাহজাহানের ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালায়। ওই সময় বাড়ির সিঁড়ির নিচের দু’টি গোডাউন ও দোতলার বিভিন্ন কক্ষ থেকে ৬৪০ বোতল দেশী-বিদেশী মদ, এক হাজার ৬০৮ ক্যান বিয়ারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় তালাবদ্ধ ঘরের কক্ষ থেকে একটি একনলা বন্দুক ও ৮ রাউন্ড বন্দুকের কার্তুজ ও নগদ ৯০ হাজার ৭৫০ টাকা, একটি বুদ্ধমূর্তি, একটি স্বর্ণের সাদা পাথর সম্বলিত আংটি, বিভিন্ন মডেলের ৯টি মোবাইল সেট, এক গুচ্ছ চাবি ও ৮টি ৫শ’ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাহজাহানের স্ত্রী ফরিদা পারভীন, তার ছেলে জুলফিকার আলী খান ওরফে শুভ, মেয়ে ফাতেমাতুজ জোহরা মহুয়া, বাড়ির ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ ও কাজের মেয়ে রেশমা আক্তারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু তখন শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। এ মামলায় শাহজাহান ও তার পরিবারের সদস্যসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

এ ব্যাপারে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, শাহজাহানের মদ-বিয়ার বিক্রির পারমিট নেই। যার কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য তাকে বিদেশী মদ ও বিয়ারসহ আটক করেন। তিনি বলেন, খুলনায় ‘ক’ ও ‘খ’ সার্কেলের আওতাধীন ৬টি দেশীয় মদ (সিএস) বিক্রির অনুমোদন রয়েছে। যাদের সেবনকারীর পারমিট রয়েছে তাদের কাছে বিক্রেতারা বিক্রি করতে পারবেন। এর বাইরে বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ