সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

ঈদের আগেই ওদের মুক্তি দিন

‘রেহাই পায়নি স্কুল-কলেজের ছাত্ররাও’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন মুদ্রিত হয়েছে প্রথম আলো পত্রিকায়। ১৯ আগস্ট তারিখে মুদ্রিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ যাদের গ্রেফতার করেছে, তাদের মধ্যে অন্তত চারজন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। এই চারজনের মধ্যে দু’জনকে আদালত শিশু গণ্য করে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, আন্দোলনের সময় সংঘাত, ভাঙচুর, উস্কানি ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত ৫১টি মামলায় ৯৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে ৫২ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া এজাহারে নাম থাকায় পলাতক আছেন ৬টি বেরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭ জন শিক্ষার্থী।
আন্দোলনের সময় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার না করতে এবং এদের কেউ আটক হলে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দিতে পুলিশের একটি নির্দেশনা ছিল। তখন পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, স্কুল-কলেজের একজন শিক্ষার্থীকেও গ্রেফতার করা হয়নি। তবে মামলার নথি থেকে দুই শিশুসহ স্কুল-কলেজের চার শিক্ষার্থী গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিকে মামলা প্রসঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা দীন ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ৫ আগস্ট বনানী থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার হন তিনি। এ ঘটনার সঙ্গে যুবদলের লোকজন জড়িত ছিল। তাহলে এত শিক্ষার্থীকে আসামী করলেন কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ নেতাদের পরামর্শে এ মামলা দেয়া হয়েছে।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে জড়িত শিক্ষার্থীদের সাথে যে আচরণ করা হচ্ছে তা অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষ মেনে নিতে পারছেন না। ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। গ্রেফতার আতঙ্কে অনেক ছাত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কারাগারে থাকার কারণে অনেক ছাত্র পরীক্ষা দিতে পারছে না। এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রথম আলোতে মুদ্রিত তাঁর কলামে লিখেছেন, ‘দেশে খুনের আসামি দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। ব্যাংকের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দিব্যি আছে অনেকে। এসব কৈশোর-উত্তীর্ণ ছেলেমেয়েদের ভুল বা অপরাধ ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা মানবিক রাষ্ট্রের কর্তব্য। এদের মুক্তি দিন-নাগরিক অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এই আমাদের আবেদন। সন্তানকে জেলে রেখে মা-বাবা, ভাই-বোন ঈদের আনন্দ করতে পারে না।’ আমরাও মনে করি, সৈয়দ আবুল মকসুদের আবেদন রাষ্ট্র মেনে নিতে পারে। এতে কল্যাণ আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ