শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আগেভাগেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ

ইবরাহীম খলিল : পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে গ্রামে যেতে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। ঈদ যাত্রায় দুর্ভোগ এড়াতে একটু আগেই ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন অনেকে। রাজধানী থেকে বাড়ি ফেরার বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়ি ফেরার এই আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকেই গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আগেভাগেই বাড়ি ফেরার দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনেও। সড়কে গাড়ি কম থাকার আশঙ্কা একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কবলে পড়ার ভয় থেকে ট্রেনের ওপর নির্ভর করছেন অনেক সচেতন মানুষ। একারণে ট্রেনে একটু বেশি ভীড় হবে বলে অনেকে মনে করছেন।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শোক দিবসের একদিন পরেই শুক্র-শনি দুই দিনের ছুটি। এছাড়া ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলতে না দেওয়ার ঘোষণায় মানুষের মধ্যে একধরণের আতংক দেখা দিয়েছে। সেই আতংক থেকেই আগেভাগেই বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে ঢাকার মানুষ। আবার অনেকেই অতিরিক্ত সচেতনতা থেকেও পরিবারের অন্য সদস্যদের একটু আগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এসব কথা মাথায় রেখেই রাজধানী ঢাকার মানুষ বাড়ি ফেরা শুরু করেছে বলে মনে করেন পরিবহন খাতের  লোকজন।
গতকাল বুধবার সকাল থেকেই আন্তজেলা বাস টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের মোটামুটি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতেও অনেকেই গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। তা ছাড়া বুধবার থেকে অধিকাংশ স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষার্থীরা ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন।
গতকাল সকাল থেকে দেখা যায়, স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন অনেকেই। এদের বেশির ভাগই ছাত্র-ছাত্রী এবং পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যরা। অনেক চাকরিজীবী তাদের পরিবারের নারী সদস্য ও বাচ্চাদের আগেই গ্রামের বাড়ি পাঠাচ্ছেন ভোগান্তি এড়াতে।
গাবতলী বাস টার্মিনালে কথা হয় সরকারি চাকরিজীবী মোতালেব হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি বাড়ি যাবো আরো কিছুদিন পরে। এখন পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়ে দিচ্ছি। কিছু দিন পরে চাপ বাড়বে তাই আগে-ভাগেই পাঠাচ্ছি পরিবারের অন্য সদস্যদের। তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট সরকারি ছুটি থাকায় নিজেই স্ত্রী-সন্তানদের বাসে তুলে দিয়েছি। এখন ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভিড় কিছুটা কম।
গাবতলীতে হানিফ পরিবহনের ম্যনেজার মাইনুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকেই মানুষ রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন। তবে আজ বুধবার সকাল থেকে বেশি। তাই সকাল থেকে টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের চাপ বাড়ছে। বিকেল ও রাতে যাত্রীদের চাপ আরো বাড়বে। তিনি বলেন, আগামী শুক্রবার সারাদিন ঘরমুখো মানুষের চাপ থাকবে। তবে রোববার ও সোমবার থেকে যাত্রীদের চাপ অত্যাধিক বেড়ে যাবে।
এদিকে গতকাল বিকালে কমলাপুর স্টেশনে ঈদ যাত্রার আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিটি ট্রেন ঢাকা ছাড়ছে বোঝাই যাত্রী নিয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন ট্রেনের ছাদে করে হলেও অনেকেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা চলে যাচ্ছেন আগেই। কমলাপুর স্টেশনে কথা হয় রবিউল নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তার সঙ্গে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই শিক্ষার্থী গ্রামের বাড়ি চলে যাচ্ছেন। তারা ঢাকা টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিন বন্ধু জানালেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগেই তারা ঢাকা ছাড়ছেন। দিন যত যাবে যানবাহন ভীড় বাড়বে। সংকটও আরও বাড়বে এই আশঙ্কা থেকেই বাড়ি চলে যাচ্ছেন। এছাড়া ঈদের দিন কাছাকাছি চলে আসলে খরচও বেড়ে যায়।  ট্রেনের পরিচর্যক আতিকুল ইসলাম জানান, দিন যতই যাবে ভীড় বাড়বে। যারা এখনই চলে যাচ্ছেন তারা বুদ্ধিমানের কাজ করছেন। তিনি জানালেন অন্য ঈদের চেয়ে এবার বাসের চেয়ে ট্রেনে চাপ বেশি পড়বে। কারণ রাস্তায় এবার গাড়ি কম থাকায় মানুষের মধ্যে এক ধরণের আতংক কাজ করছে। বাড়ি আদোও ফিরতে পারবেন কি-না। এজন্য ট্রেনের ওপরই বেশি ভরসা করছে মানুষ।
স্টেশনে কথা হয় গৃহবধূ নাসরিন আক্তারের সঙ্গে। তিনি জানালেন, রোজার ঈদে বাড়ি যাওয়া হয়নি। কিন্তু কুরবানির ঈদে বাড়ি যেতেই হবে। স্কুল পড়ুয়া ছেলের ছুটি হওয়ায় তারা আগেই গ্রামের বাড়ি নাটোরে চলে যাচ্ছেন। তিনি জানান, আগে থেকেই প্লান করে রেখেছিলাম বাচ্চার স্কুল ছুটি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা গ্রামে চলে যাবো। তিনি আরও জানালেন আমার সাহেব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার ছুটি হবে ঈদের দুইদিন আগে। তাই আমরা আগেই চলে যাচ্ছি। যানবাহন সংকটের কথা চিন্তুা করেই এই কাজ। অনেক কষ্ট করে টিকিট সংগ্রহ করেছি। ট্রেনে করে একটু আরামেই যেতে পারবো বলে আশা করছি।
প্রসঙ্গ আগামী ২২ আগস্ট ঈদুল আযহা অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ই আগস্ট থেকে ট্রেনে করে ঈদ যাত্রা শুরু হবে। মূলত তখন থেকেই প্রচণ্ড ভীড় শুরু হয়। অত্যন্ত ভীড়ের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয় ঘরমুখো মানুষের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ