বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বগুড়ার আদালতে আইনজীবীদের  হাতাহাতি ॥ এজলাস ভাংচুর

বগুড়া অফিস: বগুড়ায় নারী-শিশু নির্যাতন মামলার তিন আসামীর জামিন নিয়ে আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এক পর্যায়ে আদালতের এজলাস ভাংচুর করা হয়। বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর আদালতে সোমবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। হাতাহাতির ঘটনায়  বিচারক বিব্রতবোধ করে এজলাস ত্যাগ করায় আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

আদালত সূত্র জানায়, বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা সদরের মরিয়ম বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে একই এলাকার আব্দুল কাদেরের এক বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়ম জানতে পারেন তার বিয়েটি রেজিস্ট্রি করা হয়নি এবং  কোন মোহরানাও ধার্য্য করা নেই। তিনি বিষয়টি তার স্বামী ও শ^শুর পরিবারকে জানিয়ে রেজিষ্ট্রি করতে বলায় তাকে বেদম মারপিট করা হয়। এই ঘটনায় তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলা দায়ের করেন। সোমবার সেই মামলায় আসনামীদের জামিন আবেদন শুনানির দিন ধার্য্য ছিলো। সেখানে আসামী আব্দুল কাদের এবং তার বাবা-মা হাজির হন। আসামী পক্ষে আতিকুল মাহবুব সালাম জামিন শুানানি করলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নরেশ মুখার্জ্জী আসামীদের জামিনের বিরোধিতা করেন। এসময় আসামী পক্ষের আরেক আইনজীবী আব্দুল খালেকের সাথে নরেশ মুখার্জ্জীর বাকবিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে নরেশ মুখার্জ্জীর পক্ষ নিয়ে আরেক আইনজীবী রাকেশ ঘোষের সাথে আব্দুল কাদেরের হাতাহাতি শুরু হয়। আদালত চলাকালে হাতাহাতি শুরু হলে বিচারক একেএম ফজলুল হক বিব্রতবোধ করে এজলাস ত্যাগ করেন। এসময় এজলাস ভাঙচুর করা হয় এবং আদালত চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নরেশ মুখার্জ্জী দাবি করেন, বিচারক একেএম ফজলুল হক রাষ্ট্র বা বাদি পক্ষের কোন বক্তব্য না শুনেই জামিন দিতে গেলে তারা বিরোধিতা করেন। এসময় আসামী পক্ষের আইনজীবীরা তাদের ওপর চড়াও হন। এদিকে, ঘটনার পরপরই আসামী পক্ষের আইনজীবী আদালত চত্বরে তার চেম্বার তালাবদ্ধ করে চলে যান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ