শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

চট্টগ্রামে পঞ্চরত্ন স্মরণে লেখক সম্মেলন

প্রাচীন চট্টগ্রামের কালজয়ী পাঁচ জন ঐতিহাসিক লেখক যথাক্রমে মহাকবি আলাওল (১৬০৭-১৬৮০), খান বাহাদুর হামিদ উল্লাহ্ খাঁ (১৮০৯-১৮৮০), শ্রী চৌধুরী পূর্ণচন্দ্র দেবব্রক্ষ্ম তত্ত্বনিধি (১৯-২০ শতক), মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী (১৮৭৫-১৯৫০) ও আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (১৮৭১-১৯৫৩) পঞ্চরতœ স্মরণে প্রথম লেখক সম্মেলন ২০১৮ গত ১৬ জুলাই সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর ষ্টেশন রোডস্থ একটি অভিজাত হোটেল অডিটরিয়ামে চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ভাষা আন্দোলনে চট্টগ্রাম গ্রন্থের লেখক অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। পঞ্চরত্ন প্রথম লেখক সম্মেলনের আয়োজক ও ইতিহাস গবেষক সোহেল মুহাম্মদ ফখরুদ-দীন সম্মেলনের প্রস্তাবনা ও পঞ্চজন লেখকের জীবন কর্ম তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাষাবিদ ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র নাতনি বিশিষ্ট কবি ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন প্রাবন্ধিক একে জাহেদ চৌধুরী, ইতিহাসবিদ এবিএম ফয়েজ উল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক আকরাম হোসেন, প্রাবন্ধিক ও লেখক এমএ সাত্তার, বাংলাদেশ ইতিহাস চর্চা পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ ইউনুচ কুতুবী, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও পরিবেশবাদী সংগঠক একেএম আবু ইউসুফ, চট্টগ্রামে বৌদ্ধ সমাজ ও সারমেধ মহাস্থবির গ্রন্থের লেখক দুলাল কান্তি বড়ুয়া, ভাষা আন্দোলন স্মৃতিরক্ষা পরিষদ এর কেন্দ্রীয় মহাসচিব ডাঃ এম.এ মুক্তদীর, সন্দ্বীপনা সাংস্কৃতিক একাডেমীর পরিচালক ভাস্কর ডিকে দাশ মামুন, প্রধান শিক্ষক মিন্টু কুমার দাশ, চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুর রহিম, মোঃ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, কবি শাহনুর আলম, অমর কান্তি দত্ত, অধ্যাপক দিদারুল আলম, নয়ন বড়ুয়া, কবি ও প্রাবন্ধিক লায়ন ডাঃ বরুণ কুমার আচার্য বলাই, প্রাবন্ধিক সাফাত বিন সানাউল্লাহ, মোঃ ওসমান গণি প্রমুখ।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ বলেন, লেখকগণ তাঁদের সৃষ্টিশীল লেখনীর মাধ্যমে তাঁদের চিন্তাধারার বিকাশ ঘটিয়ে আমাদের হৃদয়ে মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। লেখকদের অমরত্ব এই সৃষ্টি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে। তাঁদের সৃষ্টিশীল কর্মগুলো ও বিল্পবাত্মক ভূমিকা পালন করে, যার মাধ্যমে সুস্থ সাংস্কৃতিক ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁদের অনেকেই কালজয়ী হয়েছেন তাঁদের  লেখনীর নৈপুণ্যে। একজন লেখক তাঁর লেখনির মাধ্যমে সমাজ ও দেশকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে পারে। লেখকের গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে লেখক বেঁচে থাকেন হাজার বছর। তেমনি চট্টগ্রামের কালজয়ী লেখক মহাকবি আলাওল, খান বাহাদুর হামিদ উল্লাহ্ খাঁ, শ্রী চৌধুরী পূর্ণচন্দ্র দেবব্রক্ষ্ম তত্ত্বনিধি, মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ও আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ তাঁদের লেখনি কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে নিজেরাও বেঁচে আছেন এবং আমাদের কালের গর্বে হারিয়ে যাওয়া গৌরবময় ইতিহাসকেও বাঁচিয়ে রেখেছেন। চট্টগ্রামে এই ধরণের শত শত লেখক রয়েছেন কালের বিবর্তনে আমরা তাঁদেরকে হারিয়ে যেতে বসেছি। এই প্রজন্মের অনেকেই জানে না আমাদের গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাসের কথা। বর্তমান প্রজন্মকে অতীতের ইতিহাসের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে কালজয়ী লেখকদের বইগুলোর প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। -মোঃ আবদুর রহিম

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ