মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ঈদে পশুর হাটে রাজস্ব আদায় ও নির্ধারিত সময়ে নগরীর বর্জ্য অপসারণে ঝুঁকির মধ্যে কেসিসি

খুলনা অফিস : ঈদ-উল আযহায় এবার খুলনা সিটি কর্পোরেশন ( কেসিসি) কর্তৃপক্ষকে কুরবানির পশুর হাটের ও নির্ধারিত স্থানে কুরবানির পশু জবাই এবং নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ নিয়ে কঠিন সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কারণ হিসেবে এবার ঈদের সময় থাকছেন না কেসিসির প্রধান রাজস্ব অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আব্দুর রহমান ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আব্দুল আজিজ। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদটি কয়েক মাস যাবৎ খালি। এই তিন অনুপস্থিতি হাটে রাজস্ব আদায়ে ও নগরীর বর্জ্য অপসারণে এবং নগরীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিজ্ঞমহল মনে করেন।

কেসিসির সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে  কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আব্দুল আজিজ পবিত্র হজ পালনে  সৌদী আরব অবস্থান করছেন। তিনি হজ্ব শেষে ঈদের পর দেশে ফিরবেন। এ ছাড়া কেসিসির নিজস্ব কোনো ম্যাজিস্ট্রেট নেই। ঈদের সময় অবৈধ পশুর হাট অপসারণসহ নানা প্রয়োজনীয় কাজ ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া করা অসম্ভব। ম্যাজিস্ট্রেট না থাকার কারণে এর প্রভাবটা ঈদের সময় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঈদ-উল আযহায় নগরীতে প্রায় ২০ হাজার পশু জবাই করা হয়। যত্রতত্র জবাইকৃত পশুর রক্ত ও বর্জ্য পরিবেশ দূষণের মারাত্মক কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব বর্জ্য অপসারণ করা নিয়ে এবার সংশয় দেখা দিয়েছে। কিন্তু ঈদকে সামনে রেখে তার হজ গমনে কর্তৃপক্ষ সঠিক সময়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত নিয়ে রয়েছেন দুঃচিন্তায়। 

তবে, হজ্বে যাওয়ার আগে এক সাক্ষাৎকারে আব্দুল আজিজ বলেন, তার দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. জাহিদ হোসেন। মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ঈদের সময় এ ব্যাপারে তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সকল সমস্যা সমাধানে তারা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান। এছাড়া কেসিসি পরিচালিত জোড়াগেট কুরবানির পশুর হাট পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধান রাজস্ব অফিসার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বিগত বছরে ঈদের আগের রাতে হাসিল ঘরে মেয়রের পাশাপাশি প্রধান রাজস্ব অফিসারকে সঠিক হিসাব নিকাশ নিয়ে তৎপর থাকতে দেখা গেছে। কিন্তু এবার তিনি ৫ আগস্ট হজ্ব পালনের উদ্দেশে খুলনা ত্যাগ করবেন। এতে করে হাসিল ঘরে তদারকিতে তার অভাব দেখা দিবে।

২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাউসুল আজম বলেন, কেসিসিতে অফিসার সঙ্কট চরমে। সম্প্রতি বাজেট কাম একাউন্টস অফিসার মারা গেছেন। ম্যাজিস্ট্রেট নেই কয়েক মাস। সচিবের পদ খালি। প্রধান রাজস্ব অফিসার থাকলেও তিনি হজে যাচ্ছেন। প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ ইতোমধ্যে হজে গিয়েছেন। তারপরও অভিজ্ঞ লোকগুলো তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এসব কর্মকর্তাদের অভাব দূর করবেন বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট না থাকলেও তারা জেলা প্রশাসনের নিকট ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে আবেদন করবেন। তাদের দিয়েই ম্যাজিস্ট্রেটের অভাব দূর হবে বলে তিনি মনে করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ