বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

ব্রহ্মপুত্র নদে ক্রস বাঁধ নির্মাণের ব্যাপক অগ্রগতি॥ এলাকাবাসী স্বস্তিতে

ব্রহ্মপুত্র নদে ক্রস বাঁধ -সংগ্রাম

জামালপুর ব্রহ্মপুত্র নদে শহর রক্ষা ক্রস বাঁধ নির্মাণ কাজের ব্যাপক অগ্রগতিতে ভাঙ্গন কবলিত এলাকাবাসিরা সন্তুষ্ট প্রকাশ করে অনেকটাই স্বস্তিতে রয়েছেন তারা। জামালপুর শহরের পূর্বাংশে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে অবস্থান করছে বিশাল আকারেরর নাওভাঙ্গা চর। এ চরের উজানে শেরপুর জেলার ডাকপাড়া কলুরচর এবং নাওভাঙ্গা  চরের মাঝ দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদটি দীর্ঘ দিন যাবত প্রবাহিত হয়ে আসছিল। কিন্তু শেরপুর জেলার চর পক্ষিমারী ইউনিয়নের হরিণধরা, জঙ্গলদি, বাগলদি, সাতপাইকা,ও ডাকপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা শেরপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যামুক্ত রাখতে বিগত দিনে বিশাল আকারের একটি বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মান করে।
এতে ব্রহ্মপুত্র নদটির স্বাভাবিক গতিপথে বাঁধাগ্রস্ত হয়ে রুদ্রমুর্তি ধারণ করে তীর বেগে তোড়ে প্রবাহিত হতে থাকে। বিগত দিনে নদের প্রবল স্রোতে নাওভাঙ্গা চরের সিংহভাগ এলাকা নদে বিলীন হতে থাকে। বিগত দিনে নদের প্রবল স্রোতে আঘাত হানলে জামালপুর শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ধ্বসে পড়ে জামালপুর দেওয়ানগঞ্জ প্রধান সড়কসহ জামালপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টার, পৌর ভবন, জামালপুর জিলা স্কুল, অফিসার্স কলোনী, ডিসি অফিস, এসপি অফিস, জেলা শহরের দেওয়ানগঞ্জ ও আমলা পাড়া শতশত বসতবাড়ীসহ অসংখ্য সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়ে। তাই এসব রক্ষার জন্য তীর সংক্ষণ বাঁধ মেরামতসহ ক্রস বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জামালপুর শহর রক্ষবাঁধ টেকসইয়ের জন্য ব্রহ্মপুত্র নদের চ্যানেলটি গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য একটি ক্রস বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প হাতে নেয় জামালপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। জামালপুর ফৌজদারী মোড়ের উজানে ক্রস বাঁধটি নির্মানের জন্য পাউবো গত অক্টোবর/১৭ মাসে ৩ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ৮’শ ৩০ মিটার দৈর্ঘ ক্রস বাঁধ নির্মাণ কাজের একটি দরপত্র আহবান করে। দরদাতাদের মধ্যে যাচাই-বাছায়ের পর ঢাকার এলএ- টিটিএসএল জয়েন্ট ভেঞ্চার কোং লিঃ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। বর্তমানে ক্রস নির্মাণ কাজটি ইতোমধ্যে ৮’শ ৩০ মিটারের মধ্যে প্রয় ৫০০ মিটার বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। বাঁধের দু’পাশে জিও টেক্স চাদরে ঢেকে দিয়ে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে চাপা দেয়ার কথা রয়েছে। বাঁধ নির্মাণ হলে আগামীতে আবারও জেগে উঠবে বিশাল আকৃতির নাওভাঙ্গাচর। তাই ভাঙ্গন কবলিত ভুক্তভোগী এলাকাবাসিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আবারও অনেকেই বসতিগড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। জাগ্রত হয়েছে মনে আশার আলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ