ঢাকা, মঙ্গলবার 29 September 2020, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফরের অনুমতি না দেয়ার অভিযোগ

জেইদ রাদ আল হুসেইন

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের ঢাকা সফরের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না বলে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

গতকাল সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৩৮তম সেশনে জাতিসংঘ মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাদ আল হুসেইন তার সূচনা বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সহযোগিতা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রতিনিধিদের দেশটি সফরের অনুমতি দিচ্ছে না সরকার। এ পর্যন্ত মানবাধিকার কমিশনের ১০টিরও বেশি সফরের অনুরোধ অনিষ্পন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে আরো যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহী মানবাধিকার কমিশন।

জেইদ রাদ আল হুসাইন বলেন, সুশীল সমাজের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাওয়া ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে কমিশন উদ্বিগ্ন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দলের কয়েকটি সফরের অনুমতি না দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন কারণে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের অনুমতি দেয়া হয়নি। আর অনিষ্পন্ন সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক সনদের কথা উল্লেখ করে জায়েদ রাদ আল হুসেইন বলেন, "বাংলাদেশসহ আরো কয়েকটি দেশ দীর্ঘদিন ধরে সনদ অনুযায়ী প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তবে সম্পতি তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।"

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন মিয়ানমারের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। এটি নিয়ে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা রয়েছে যে, দেশটির রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। তবে শুধু রাখাইনে নয়, কাচিন ও উত্তরের শান প্রদেশেও গত বছরের অক্টোবর থেকে সংঘাত বাড়ছে। এ স্থানগুলোয় মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। এখানে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, অমানুষিক নির্যাতন, ধর্ষণসহ নানাভাবে যৌন নির্যাতন চালানো হচ্ছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন নিয়ে এরইমধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে ইউএনডিপি ও ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে বলে জানান তিনি।

-পার্স টুডে

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ