বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

ইভিএম নিয়ে দ্বিমত ॥ পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে বাড়ছে উত্তাপ

বরিশাল অফিস : বরিশাল সিটি নির্বাচনে (বিসিসি) প্রার্থীরা বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চালাচ্ছেন জোর প্রচার-প্রচারণা। আওয়ামী লীগ-বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ ৭ মেয়র প্রার্থীই সকাল থেকেই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সিটি কর্পোরেশন এলাকার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত সকাল থেকে রাত অবধি প্রচারে ব্যস্ত সবাই। বরিশাল নগরবাসীর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন ভোটারদের কাছে প্রার্থীরা। কেবল সাত মেয়র প্রার্থীই নন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতার জন্য ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) জন্য আওয়ামী লীগ প্রার্থীর আগ্রহ থাকলেও অনিহা প্রকাশ করেছেন বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ অন্য প্রার্থীরা।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেছেন, যেহেতু সুষ্ঠু ভোট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিপক্ষ বিএনপি মেয়র প্রার্থী। সেজন্য আমার নিজের ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে ইভিএম’র জন্য আবেদন করেছি।
তবে ইভিএম পদ্বতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার। তিনি বলেন, ইভিএম এর ব্যাপারে প্রথম থেকেই আমাদের দ্বিমত রয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশই ইভিএম পদ্ধতি গ্রহণ করেনি। ইভিএম পদ্ধতি জনগণের কাছে এখনো বোধগম্য নয়। তাই এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। জনগণকে ট্রেনিং না করিয়ে তাদের অবহিত না করে ইভিএম পদ্ধতি চালু করা ঠিক নয়।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, ইভিএমকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি, কিন্তু ইভিএম নিয়ে মানুষের মধ্যে সংশয় রয়েছে। কারণ ইভিএম ভোট দেয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বরিশালের কোথায় ইভিএম’র ট্রেনিং প্রোগ্রাম করেছে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। এ কারণে একটু সংশয়, তবে এটা একটা ডিজিটাল প্রযুক্তি, এ প্রযুক্তিতে আমাদের আজ হোক, কাল হোক আসতেই হবে এবং এ প্রযুক্তির বিপক্ষে আমি নই।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরের ৪টি ওয়ার্ডের ১১টি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নেয়ার কথা চূড়ান্ত করে রেখেছেন নির্বাচন কমিশন।
এদিকে বরিশালে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। অন্যদিকে হাত পাখার সমর্থক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) দুর্নীতিগ্রস্ত ও অসাধুদের কবলে বলে মন্তব্য করেছেন।
বিএনপির মেয়র প্রার্থী এডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার গতকাল নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড ও বটতলা এলাকায় গনসংযোগ ও ঊঠান বৈঠকে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে তিনি বিকপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। খুলানা আর গাজীপুরের মত প্রশাসন নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল নির্বাচন হলে যা হবার তাই হবে। বরিশালের মানুষ বগত আওয়ামী আমলে যে নজিরবিহীন সন্ত্রাস দেখেছে তা বুলতে একশত বছর সময় লাগওেব। সেই সকল সন্ত্রাসীরা আবার এই সিটি নির্বাচনে মাঠে নেমেছে তাই জনগন ভোট কেন্দ্র গিয়ে ভোট দিতে পারবে কিনা এনিয়ে শংকা রয়েছে। তিনি বলেন, বরিশালের মাটি ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী চেতনার মানুষের ঘাটি এখানে ফ্যাসিবাদের স্থান কখনো ছিলনা এখনো নেই। সুষ্ঠু ভোট হলে ২০ দলীয় জোটে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।
জাতীয় পাটির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস আজ সকাল থেকে নগরীর বালুর মাঠ কলোনী থেকে তার হনসংযোগ শুরু করেন। তিনি বলেন বরিশাল সিটি নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকের সমর্থক আগের চেয়ে অনেক ভাল অবস্থানে। বরিশালে মানুষ লাঙ্গল প্রতীককে ভালবাসে যদি বরিশালে সুষ্ঠ নির্বাচন হয় তাহলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এছাড়া অপর চার মেয়র প্রার্থী তারাও কিন্তু বসে নেই বরিশাল নগরীর ত্রিশটি ওয়ার্ডের সকল স্থানে তাদের পায়ের পদচারনা পড়ছে তারা বরিশালকে একটি সুস্থ নগরী উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দোয়া চাইছেন। গতকাল স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী বশির আহমেদ তার ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ