শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

লালমনিরহাটে নদী ভাঙ্গনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন 

লালমনিরহাট : ধরলার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে মোগলহাটের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি

লালমনিরহাট সংবাদদাতা : বন্যার পানি কমে গেলেও তিস্তা ও ধরলা নদীর ভাঙ্গন ভয়াবহ অবস্থায় গত কয়েকদিনে লালমনিরহাট সদর উপজেলা, আদিতমারী, হাতিবন্ধা ও পাটগ্রাম মিলে ৪ উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ শতাধিক বাড়ি ঘর ও ফসলি জমি নদী ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে। ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো। আদিতমারী উপজেলার কুটিরপাড় বালুর বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বাঁধটি রক্ষায় কাজ শুরু করেছে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তারা জরুরি প্রতিরক্ষা প্রকল্পের আওতায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ও বাঁশের পাইলিং দিয়ে বাধটি রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচেছন। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্র্তৃপক্ষ দাবি করেছে এ বাঁধে ২৯৮৬ টি জিও ব্যাগ নদীতে ফেলা হয়েছে। কিন্তুু তাদের এ হিসাব মানতে রাজি না স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি ৩ দফায় ২৫০০ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। কুটির পাড় বাঁধের বাসিন্দা নজরুল, সোলেমান, আতোয়ার জানান শুষ্ক মৌসুমে বাঁধগুলো সংস্কার করলে কাজটা মান সম্মত হত। কিন্তু তা না করে বর্ষাকালে তারাহুরো করে নামমাত্র কাজ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ঠিকাদার ও সরকারি কর্মকর্তারা এভাবে টাকা খরচ হলেও তাদের কষ্টের সমাপ্তি ঘটেনি বলে দাবি করেন তারা। ওই এলাকার তালেব , শরীফ, সাইদুল, শাকিরুল ও আলম মিয়া জানান গত  এক সপ্তাহ ধরে চোখে ঘুম নেই। রাত জেগে বাঁধ পাহাড়া দিচ্ছেন। বাড়ির লোকজন পালাক্রমে ঘুমাচ্ছেন। কখন করাল গ্রাসী তিস্তা ও ধরলায় ভেঙ্গে যায় বসতবাড়ী ও ফসলি জমি এ আতঙ্কে কাটছে তাদের দিন। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটির চন্ডিমারী স্প্যার থেকে বারঘড়িয়া পর্যন্ত ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানালেও কোন কাজে আসেনি। ফলে এ বাঁধটি  ভেঙ্গে গেলে আদিতমারী উপজেলা শহরের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে স্থানীয়দের দাবি। মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ মজমুল হক জানান গত সপ্তাহে ৪৫ টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। তবে কুটির পাড় বাঁধ ভেঙ্গে গেলে আরও প্রায় ১০ টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মঙ্গলবার ১০ জুলাই লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লাহ আল - মামুন জানান লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কালমাটির বাগডোরা, কুলাঘাটের দক্ষিন শিবিরকুঠি ও রাজপুর, হাতিবান্দার গড্ডিমারী, শিংঙ্গিমারী ও সির্ন্দুনা, পাটগ্রামের পৌর এলাকায় ধরলার ভাঙ্গন ও আদিতমারীর মহিষখোচার গোবরধন এলাকায় তিস্তা নদী ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। তবে মোগলহাট ইউনিয়নে ধরলার ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন দেখা গিয়েছে। নদী ভাঙ্গন রোধে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ (বালুর বস্তা) দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে তিনি দাবি করেন। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ শফিউল আরিফ জানান, ঝুকিপূর্ণ বাঁধগুলোতে কাজ চলমান রয়েছে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাঁধ রক্ষায় জরুরী ভাবে কোথায়ও প্রয়োজন পড়লে তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এসব দুর্গত এলাকা প্রতিনিয়ত স্ব -স্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ও জন প্রতিনিধীদের মাধ্যমে নদী পাড়ের খোঁজ খবর নিয়ে সে অনুযায়ী উর্ধ্বতন  কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসক জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ