সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

তাড়াশ-নিমাইচড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে চলছে গাছ কাটার মহোৎসব

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: সামাজিক বনবিভাগ পাবনার আয়ত্ত্বাধীন তাড়াশ-নিমাইচড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের তাড়াশ উপজেলার মান্নান নগর বিশ্বরোর্ড থেকে বাঘলবাড়ি পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার বাঁধে চলছে গাছ কাটার মহোৎসব। টেন্ডারের বিক্রিকৃত গাছ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর সহায়তায় ঠিকাদার অন্যান্য গাছও কেটে সাভার করছে। এদের হাত থেকে ছোট ছোট গাছও রেহাই পাচ্ছে না। অন্যদিকে সরকারি নিয়মে এ গাছের অংশ সুফলভোগী রোপনকারি সদস্যদের দেয়ার নিয়ম থাকলেও তা পালন করা হয়নি। প্রকৃত গাছ রোপনকারিদের বাদ দিয়ে বাইরের লোককে সুফলভোগী বানানো হয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, তাড়াশ-নিমাইচড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের তাড়াশ উপজেলার মান্নান নগর থেকে বাঘলবাড়ি পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার বাঁধে নতুন পুরাতন মিলে প্রায় ৫ হাজার ইউক্যালিপটাস, অর্জুন, ছাতিম, বাবলা, মেহগনি, আম, জাম, শিশু ও নিম গাছসহ নানা প্রকার গাছ রয়েছে। যার প্রকৃত মূল্য হবে প্রায় ১ কোটি টাকা। এ গাছ গুলো রোপন ও পরিচর্যা করে বড় করে তুলেছেন বাঁধে আশ্রয় গ্রহণকারী গৃহহীন মানুষেরা। বিদ্যুৎ লাইন বসানোর অজুহাতে ২ মাস পূর্বে পাবনার সামাজিক বনবিভাগ থেকে ৯টি লটে ১ হাজার একশত ২৬টি গাছ কাটার দরপত্র আহ্বান করে তা মাত্র প্রায় ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। সিডিউল অনুযায়ী যে গাছে মার্কিং থাকবে শুধু সেই গাছই কাটার নিয়ম থাকলেও তা পালন করা হচ্ছে না। ঠিকাদারের লোকজন ইচ্ছে মতো সব গাছই কেটে সাবাড় করে নিয়ে যাচ্ছে। ২৮ জুন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঠিকাদারের কাটা গাছে অনেকটিতেই মার্কিং নেই। সিডিউলে গাছের মোতা ৩ফিট থেকে ৬ ফিট কান্ডসহ মাটিতে রেখে গাছ কাটার নিয়ম থাকলেও তা পালন করা হচ্ছে না। ঠিকাদারের লোকজন বনকর্মীদের সামনেই মাটি খুঁড়ে বড় বড় গর্ত করে গাছের শিকড়সহ গাছ কাটায় বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। মার্কিং ছাড়া অবাধে গাছ কাটার সময় বাঁধে বসবাসকারিরা প্রতিবাদ করলে তাদের নানা আইন কানুনের ভয় দেখানো হচ্ছে। বাঁধে আশ্রয় গ্রহণকারি সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন, বনবিভাগ সরকারি বিধান না মেনে গাছ বিক্রির টাকা এলাকার একটি বিশেষ মহলকে দিয়ে তারা মোটা অংকের টাকা আতœসাৎ করছেন। সরকারি বিধানে যারা গাছ লাগিয়েছিল তাদেরকে সুফলভোগি না বানিয়ে বনবিভাগ বাইরের লোককে সুফলভোগি দেখিয়েছেন অবৈধভাবে। বাঁধে বসবাসরত বাসিন্দা শাহাজাহান আলী জানান,  বাঁধ থেকে প্রায় প্রায় ১০ ফিট দুরে তিনি ২৫ টি শিশু গাছ লাগিয়েছিলেন সে গাছগুলো এখনি কাঁটার উপযুক্ত সময় না হলেও তার গাছগুলো কেটে নেয়া হচ্ছে। দরপত্রে এ গাছগুলো উল্লেখ বা মার্কিং না থাকলেও ঠিকাদার ভয়ভীতি দেখিয়ে এ গাছগুলো কেটে নিচ্ছে। বাঁধে আশ্রয় গ্রহণকারী আঁছিয়া খাতুন জানান, তিনি ১৪ টি গাছ লাগিয়ে বড় করে তুলেছেন। এ গাছগুলোও কেটে নেয়ার পাঁয়তারা চলছে। ওরা পুলিশের ভয় দেখাচ্ছে। আরেক ভুক্তভোগী বাবু ইসলাম  জানান, তিনি ২০ টি গাছ রোপন করে বড় করে তুলেছেন এখন এ গাছগুলোও কাটার পায়তারা চলছে। বাঁধে আশ্রয় গ্রহণকারি রহিম, ইমাম, সুলতান, মজনু, সোনাউল্লাহ, রহিমা, আছিয়া, সাইদসহ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন সুফলভোগীদের এ গাছ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে ।
এলাকাবাসি জানিয়েছে, যেভাবে গাছগুলো কেটে উজাড় করা হচ্ছে তাতে এলাকার পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাসহ বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি করা হচ্ছে। এ গাছগুলোই চলনবিলের এ বাঁধটি রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। এভাবে গাছ উজাড় করলে বাঁধ ভেঙ্গে এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ রেঞ্জ অফিসার শরিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দরপত্র অনুযায়ি গাছগুলো কাঁটা হচ্ছে। গাছের মার্কিং কোথায়? মার্কিং বিহীনগাছগুলো কেন কাঁটা হচ্ছে এ প্রশ্ন করা হলে তিনি তার উত্তর দেননি। গাছ রোপনকারিদের অংশীদারিত্ব দেয়া হচ্ছে না কেন এবং বাইরের লোকদের সুফলভোগী সদস্য করা হয়েছে কেন তারও উত্তর তিনি দেননি।
এ প্রসংগে ঠিকাদার ও তাদের লোকজন কথা বলতে নারাজ। তাড়াশ উপজেলা বিট অফিসার মোসলেম উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না । এখন পর্যন্ত কোন নথি তার কাছে আসেনি। এ বিষয়ে সামাজিক বনবিভাগ পাবনা বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন পাটোয়ারীর সাথে টেলিফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি, বলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ