বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

রূপসা নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে চিংড়ি জাহাজ নির্মাণ ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরিসহ বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান

খুলনা অফিস : খুলনার রূপসা নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে চিংড়ি, জাহাজ নির্মাণ ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরিসহ বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান। খুলনা-মংলা রেললাইন নির্মাণের পাশাপাশি চলছে অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কাজ। এরই মধ্যে মংলা বন্দরকে ঘিরে খুলনা-বাগেরহাট জোনে ব্যাপক শিল্পায়ন হয়েছে। যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ খুলনা কার্যালয়ের তথ্য মতে, সদ্য শেষ হওয়া ২০১৭-১৮ র্অর্থবছরে খুলনা বিভাগে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৯শ’ মিলিয়ন টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে এক হাজার মিলিয়ন টাকার বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিনিয়োগ হয়েছে ৬৪৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ওইসময় খুলনায় ৩৮টি শিল্প-কারখানা নতুনভাবে স্থাপনের জন্য নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। কয়েক বছরের ব্যবধানে এখানে বিনিয়োগ সম্ভাবনা বেড়েছে বহুগুণ। এই সুবিধা কাজে লাগানো গেলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সম্প্রতি খুলনায় ‘শিল্পায়নের ক্ষেত্রে সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সম্মেলনে এসব বিষয়ে আলোচিত হয়।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, খুলনা অঞ্চলে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রামের পর খুলনায় বেসরকারি বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এখন মংলা বন্দর এলাকায় গেলে শিল্পায়নের চিত্র দেখা যায়। বড় বড় লাভজনক কোম্পানি এখানে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। প্রতিনিয়ত এই অঞ্চলের চেহারা বদলে যাচ্ছে। সম্ভাবনাময় খুলনা হবে সেকেন্ড ক্যাপিটাল। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ খুলনার উপ-পরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, মংলা বন্দরকে ঘিরে এই অঞ্চলে ব্যাপক শিল্পায়ন হয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প-কারখানা স্থাপনে প্রতি বছর বিনিয়োগ বাড়ছে। এর মধ্যে খুলনা, বাগেরহাট ও যশোর অঞ্চলে কিছু কল-কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। অনেক কোম্পানি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে জমি ক্রয় করছে। জানা যায়, এরই মধ্যে যশোরে তৈরি পোশাক রফতানিকারক ‘গার্মেন্টস এক্সপোর্ট হাউস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানা স্থাপনের জন্য নিবন্ধন নিয়েছে। খুলনার ফুলতলা উপজেলার উত্তরডিহিতে ‘সুপার এক্স লেদার লিমিটেড’ নামে একটি চামড়া প্রক্রিয়াজাত ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাটাখালীতে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে যাত্রা শুরু করেছে ‘মুন স্টার সিরামিক’। তাছাড়া ফ্লাক ডোর নির্মাণ, বৈদ্যুতিক মিটার ও যন্ত্রাংশ নির্মাণ, তৈজসপত্র, গ্যাস এ্যাম্পুলসহ অসংখ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। তবে উদ্যোক্তাদের মতে, এতকিছুর পরও পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন ঘটবে না। এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠী কোনো সুফল পাবে না। এছাড়া বিমানবন্দর না থাকা, পানিতে লবণাক্ততা ও অপ্রতুল যোগাযোগের কারণে খুলনায় বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি শরিফ আতিয়ার রহমান বলেন, খুলনার শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক বেশি। গ্যাস সরবরাহ না থাকা, সময়মত মালামাল জাহাজীকরণের সমস্যা ও অত্যাধিক পরিবহণ ব্যয়ের কারণে শিল্প উদ্যোক্তারা পিছিয়ে পড়ছেন। এছাড়া পরিবেশ দূষণের দোহাই দিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে প্রতিবন্ধকতা, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বিনিয়োগে অনীহা সৃষ্টি হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের মতে, মংলা বন্দরের আধুনিকীকরণ, বিমানবন্দর স্থাপন, ইপিজেড চালু, ফার্নেস অয়েলে ভর্তুকি প্রদান ও উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণ সম্ভব হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ