শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সঞ্চয়পত্রের সুদ হার না কমালে বেসরকারি খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খলিলুর রহমান বলেছেন, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেট ঘোষনার পরপর ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ কর্তৃক ১লা জুলাই ২০১৮ থেকে ব্যাংক আমানতের সুদের হার ৬% এবং ঋণের হার ৯% করার কথা বলা হয়েছে। আর্থিক খাতে সংস্কার, শৃঙ্খলা এবং বিনিয়োগে গতি সঞ্চার করতে প্রধানমন্ত্রীর এমন ইতিবাচক উদ্যোগ সময়োপযোগী বলে ব্যবসায়ী মহল স্বাগত জানাচ্ছে।  বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলারের মাধ্যমে স্প্রেড সীমা ৪% এর মধ্যে রাখার নির্দেশ প্রদান করেছে, অথচ ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের মতে স্প্রেড হবে ৩%।  এ প্রসংগে  চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি  খলিলুর রহমান তার পর্যবেক্ষণের আলোকে জানান, সঞ্চয় পত্রের সুদহার অনেক বেশি থাকায় এবং বেশি লাভের আশায় ব্যাংকের পরিবর্তে সকলেই সঞ্চয় পত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী হলে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ধীরগতি হবে। ইতিমধ্যে নানা কারনে বেসরকারী ব্যাংকের আমনত বৃদ্ধির হার নি¤œমূখী- ২০১২ সালে আমানত বৃদ্ধি ছিল ১৯.৪% যা ২০১৭ সালে এসে দাঁড়ায় ৯.৫%। চলতি বছরে তা ১০% বলা হচ্ছে।আরও উল্লেখ্য যে, বেসরকারী ব্যাংকে, সরকারী আমানতের পরিমান কমে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বেসরকারী ব্যাংক থেকে সরকারী আমানত তুলে নেয়ার কারনে এবং নতুন করে আমানত না আসায় সংকট তৈরী হচ্ছে। বলাই বাহুল্য যে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে অধিকাংশ ব্যাংকের পক্ষে ঋণের সুদ হার কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে আমানত সংগ্রহের বেলায়ও বেশি হার দিতে হচ্ছে।এমতাবস্থায় সঞ্চয় পত্রের সুদের হার কমানোর বিকল্প নাই। ব্যাংকের স্থায়ী আমানতের সুদ হারের চাইতে সঞ্চয় পত্রের সুদ হার বেশি হওয়া কাম্য নয়।  বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি প্রবাহ বাড়ানোর মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লাখ্যমাত্রা অর্জনের সরকারী পরিকল্পনার অংশ হিসাবে বেসরকারী খাতের সম্প্রসারণ অপরিহার্য। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সাথে সংগতি রেখে সঞ্চয় পত্রের সুদ হার সহনীয় পর্যায়ে কমিয়ে আনার বিকল্প নাই। তবে অবসর প্রাপ্ত, বিধবা, প্রতিবন্ধী ইত্যাদির বেলায় ব্যতিক্রম রাখা যায়।

খলিলুর রহমান আশা করেন যে, সরকারের নীতি নির্ধারনী মহল বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সংকট মোকাবেলার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিয়ে চলমান বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেবেন। বিষয়টি সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল এবং গতিশীল নের্তৃত্বের বহিপ্রকাশে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ