মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে লালমনিরহাটের কৃষকরা

লালমনিরহাটে জিংক সমৃদ্ধ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে

লালমনিরহাট সংবাদদাতা : ফলন ভালো হওয়ায় ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন পুষ্টি উপাদান জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে লালমনিরহাটের কৃষকরা। চলতি আউশ মৌসুমে লালমনিরহাট সদর, কালিগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার প্রায় ২শত কৃষক জিংক সমৃদ্ধ ধান ৭৪ও ৬২জাত চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। লালমনিরহাট সদর উপজেলায় আলুর চাষ বেশী হয় আর বাকি ৪টি উপজেলায় বেশী হয় তামাক ও ভুট্টার চাষ। সাধারণত আলু এবং তামাক মার্চ মাসের উত্তোলন হয়, তখন    বোরো ধান লাগানোর সময় থাকে না। কৃষকরা বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির হাইব্রিড জাতের ধান চাষাবাদ করেন, কিন্তু বেশীরভাগ জাতের ধানে ব¬াস্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা নজীর ও দাতা সংস্থা হার্ভেস্টপ¬াস বাংলাদেশ এর সহায়তায় চলতি আউশ মৌসুমে  জেলার ওই তিন উপজেলায় মোট ১শত৫০ জন কৃষককে জিংক সমৃদ্ধ ধানের বীজ প্রদান করেন এবং অনেক কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। এতে কৃষকরা ওই ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠে। চলতি মৌসুমে ওই জিংক সমৃদ্ধ ধান বপন থেকে কর্তন পর্যন্ত প্রায় ১২০ দিন সময় লেগেছে এবং ফলন প্রচলিত জাতের তুলনায় ৩ থেকে ৫ মন বেশী হয়েছে। সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের তালুকমৃতিঙ্গা গ্রামে জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষী সায়েদ আলী ও  মুসা মিয়া জানান, আলু উত্তোলনের পর জিংক সমৃদ্ধ ধান৭৪ চাষাবাদ করেছেন এবং বিঘা প্রতি ১৭ থেকে ১৮ মন ফলন পেয়েছেন। একই গ্রামের অবিয়ার রহমান, আফজাল হোসেন, হিতাষু মাস্টার জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান৬২ চাষাবাদ করেছেন এবং বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ১৭ মন ফলন পেয়েছেন। কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের বানীনগর এলাকার রুমেল মিয়া জানান, জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান৭৪ চাষ করেছেন তিনি। বিঘাপ্রতি ১৭ মন ফলন পেয়েছেন যা পার্শবর্তী হাইব্রিড ধান হিরা২ এর তুলনায় ২ মন ফলন বেশী পেয়েছেন। একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও হাব্বুল মিয়া জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান৬২ চাষাবাদ করেছেন এবং বিঘা প্রতি প্রায় ১৫ মন ফলন পেছেন। কৃষকদের প্রধান ফসল ধান, আর বর্তমান ধান চাষের বড় আতংক হলো ব্লাস্ট রোগ। কৃষকরা ব্লাস্ট  রোগ প্রতিরোধী জাত এবং ভাল ফলন হয় এমন জাত পছন্দ করেন। তবে সরকারিভাবে জাত ২টি কৃষকের মধ্যে সম্প্রসারণ করা হলে আউশ মৌসুমে ভালো ফলন পেয়ে লাভবান হবে কৃষকরা।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ