বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে চান ট্রাম্প

২৫ জুন, রয়টার্স, সিএনএন : অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী অভিবাসীদের কোনও ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই দেশ থেকে বের করে দিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  রোববার টুইটারে দেওয়া পোস্টে নিজের এমন অবস্থানের জানান দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘এসব লোককে আমরা আমাদের দেশ দখলের অনুমতি দিতে পারি না। যখন কেউ আসবে, তখন কোনও বিচারক বা আদালত ছাড়াই তারা যেখান থেকে এসেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সেখানে ফেরত পাঠাতে হবে।’

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন অভিবাসী অধিকার বিষয়ক আইনজীবীরা। তারা বলছেন, মার্কিন সংবিধান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও দেশটিতে অবস্থানরত সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। ফলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হবে সংবিধানবিরোধী পদক্ষেপ।

গত সপ্তাহে তীব্র সমালোচনার মুখে অভিবাসী শিশুদের তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথা বলেন ট্রাম্প। ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার ঢেউ না থামতেই নিজের নতুন অবস্থানের জানান দিলেন ট্রাম্প।

এর আগে মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের শিশুদের তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তার এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান ফার্স্ট লেডি, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের নেতারা। ক্ষুব্ধ হন সাধারণ মার্কিনিরাও। দেশের বাইরেও ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো-ও এর সমালোচনা করেন। চাপের মুখে ট্রাম্প বিচ্ছিন্নকরণ ঠেকাতে নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা পরিবারকে একত্রিত রাখতে চাই। তবে একইসঙ্গে এটাও নিশ্চিত করতে চাই যে আমাদের খুবই শক্তিশালী সীমান্ত রয়েছে। এবং আমরা খুবই কঠোর।’

অতীতে দেখা গেছে, যেসব মানুষ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতো এবং অপরাধের কোনও রেকর্ড ছিল না, তাদের আইনের আওতায় অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত না করে শুধু অস্থায়ীভাবে আটক করা হতো কিংবা বিতাড়িত করার সুপারিশ করা হতো। মা ও শিশুরা সাধারণত একসঙ্গেই থাকতো। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীর বিরুদ্ধে আইনগত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করার প্রথম ছয় সপ্তাহেই প্রায় ২ হাজার শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অতীতে এমন নজির দেখা যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ