বুধবার ২৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

বায়োস্কোপ এখন খুলনা নগরীতে

খুলনা অফিস : ‘তোমার বাড়ির রঙের মেলায় দেখেছিলাম বায়োস্কোপ, বায়োস্কোপের নেশা আমায় ছাড়ে না।’ বাঙালির গানে এই বায়োস্কোপের কথা শুনলেও নতুন প্রজন্মের অনেকেই চেনে না এই বায়োস্কোপ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারাতে বসেছে গ্রাম বাংলার অনেক ঐতিহ্য। এমন একটি ঐতিহ্যের নাম বায়োস্কোপ।

খুলনা মহানগরীর জাতিসংঘ শিশু পার্কে ঈদ মেলা চত্বরে পা রাখতেই ‘কী চমৎকার দেখা গেলো’ সুর কানে ভেসে আসলো। পার্কের পশ্চিম গেটে ঢুকতেই দেখা গেল ছন্দে ছন্দে পুথি পাঠের মতো কিছু পাঠ করছেন বয়স্ক একজন লোক। তিনি পাঠ করছিলেন আর সামনে থাকা বাক্সে একটি চাবি ঘুরাচ্ছিলেন। পাঁচজন বসে মাথা নিচু হয়ে দেখছে এনায়েত আলীর বায়োস্কোপ। বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এই বায়োস্কোপ। এক সময় গ্রাম বাংলার এমনকি শহরের শিশু কিশোরদের বিনোদনের মাধ্যম ছিল এই বায়োস্কোপ। তখন রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের এমন প্রসার ছিল না। তাই গ্রামের হাট-বাজার বা মেলায় বায়োস্কোপ দেখা যেত। আবার বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরেও এই বায়োস্কোপ দেখানো হতো কিছু পয়সা কিংবা চাল, ডাল, ফল বা শাক-সবজির বিনিময়ে। কিন্তু এখন এই বায়োস্কোপ বিলুপ্ত প্রায়। নতুন আবিষ্কার ও হাতের কাছে মোবাইলফোন, টিভি, ডিভিডি, ল্যাপটপ আর ইন্টারনেটের যুগে বায়স্কোপ’র ঠাঁই নেই।

তবে, এই দিনেও দেশের নানা প্রান্তে বায়োস্কোপ নিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কুষ্টিয়ার এনায়েত আলী। বাঁশি বাজিয়ে সবাইকে আহবান জানিয়ে মক্কা-মদিনা, আজমির শরীফ, ক্ষুদিরামের ফাঁসি, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, দুলদুল ঘোড়া, তাজমহলসহ বিভিন্ন দেশীয় ইতিহাস ঐতিহ্যের বায়োস্কোপ দেখিয়ে আনন্দ দিয়ে চলেছেন তিনি। দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত বায়োস্কোপ নিয়ে বিভিন্ন মেলা, উৎসবে বায়োস্কোপ প্রদর্শন করে থাকেন।

বায়োস্কোপ দেখতে আসা ৭ম শ্রেণির রিয়া জানায়, টিভিতে বায়োস্কোপ দেখেছি কিন্তু বাস্তবে দেখিনি। আজ দেখলাম। স্থির ছবির সাথে ছন্দ মিলিয়ে সুরে সুরে যা বলেন ভালই লাগে। শহরে কোনো মেলার আয়োজন করতে গেলে এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী কিছু কিছু জিনিস থাকলে নতুন প্রজন্মের জন্য ভাল হয়। জেলা স্কুলের ছাত্র তাহমিদ জানায়, মাত্র ১০ টাকায় এমন পরিচ্ছন্ন আর কি হতে পারে। ক্ষুদিরামের ফাঁসির ইতিহাস দেখলাম। আমরা হয়তো ইউটিউবে এ ইতিহাস দেখতে পারতাম। কিন্তু বায়োস্কোপের মজাই আলাদা।

কথা হয় ইমনের বাবার সাথে। তিনি জানান, আমি একদিন গান শুনছিলাম ‘তোমার বাড়ির রঙের মেলায় দেখেছিলাম বায়োস্কোপ, বায়োস্কোপের নেশা আমায় ছাড়ে না।’ তখন আমার ছেলে আমার কাছে জানতে চেয়েছিল বায়োস্কোপ কি। আমি অনেকভাবে বোঝাতে চেষ্টা করে পরে ইউটিউব থেকে ছবি দেখিয়ে বোঝালাম। আজ মেলায় দেখে গিয়ে ছেলেকে সাথে নিয়ে দেখালাম। আমিও দেখলাম।

ষাটোর্ধ্ব আব্দুল করিম জানান, এখন আর আগের মত মানুষ দেখে না। তারপরও বাপ দাদার কাজ এখনও করছি। কোন মতে সংসার চালাই এই করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ