বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

বিশ্বে বাস্তুচ্যুত ৭ কোটি মানুষ

২০ জুন, আল জাজিরা, লস অ্যাঞ্জেলস ও এনবিসি : জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে জোরপূর্বকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষ। এর মধ্যে কেবল গত বছরেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১ কোটি ৬২ লাখ মানুষ। 

দ্য গ্লোবাল ট্রেন্ডস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে অন্তত ৫৩ শতাংশ হচ্ছে শিশু। এদের অনেকেই অভিভাবকহীন। গত বছর প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ।

জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই-কমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, এমনটা বিশ্বজুড়ে হচ্ছে। এর জন্য বৈশ্বিক মাপে আন্তর্জাতিক সংহতি ও সহযোগিতা দরকার। বাস্তুচ্যুতদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা পুরো বিশ্বকে এটাই বলছে। শরণার্থীরা সহিংসতা, যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালাচ্ছে। তাদের সাহায্য করার একটা দায়িত্ব রয়েছে আমাদের।

এদিকে কয়েক হাজার শিশু-কিশোরকে বন্দি করে রাখা হয়েছে বন্দিশিবিরে। অপরিচিত স্থানে তাদের কেউই একে অন্যকে চেনে না। চোখে-মুখে প্রচ- ভয় নিয়ে শিবিরগুলোতে মা মা করে কাঁদছে শিশু-কিশোরগুলো। এই শিশুরা মেক্সিকোসহ মধ্য আমেরিকার দেশগুলো থেকে সীমান্ত পেরিয়ে তাদের মা-বাবার হাত ধরে ঢুকতে চেষ্টা করছিল মার্কিন মুল্লুকে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির ফাঁসে আটকে যায় ওই শিশুদের পরিবার।

পরিবার-পরিজন থেকে শিশুদের আলাদা করে নিয়ে তাদের মা, বাবাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় মার্কিন অভিবাসন পুলিশ। সেই থেকেই শিবিরে কার্যত অনাথ অবস্থায় দিনরাত কাটাচ্ছে ওই শিশুরা। এই শিশুদের জীবন যন্ত্রণার কথা এতদিন বাইরে আসেনি। ট্রাম্প প্রশাসন এতদিন প্রচার মাধ্যমের নজর থেকে তাদের দূরে সরিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

কিন্তু বন্দিশিবির থেকে শিশুদের কান্নার একটি অডিও বার্তা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর চোখের নিমিষে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। শিবিরে ঢুকে গোপনে সেই শিশুদের কথা রেকর্ড করে অলাভজনক সাংবাদিক সংস্থা ‘প্রোপাবলিকা’। সেই গোপন রেকর্ডিং সোমবার প্রকাশ পেতেই মার্কিন সীমান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে। শরিক হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির অনেক নেতাও।

ওই রেকর্ডে অডিওতে শোনা যাচ্ছে, শিশুদের আর্তচিৎকার। স্প্যানিশ ভাষায় ‘মা, মা ‘ড্যাডি, ড্যাডি’ বলে কাঁদতে শোনা যাচ্ছে শিশুদের। ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কঠোর অভিবাসন নীতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রায় আড়াই হাজার শিশু আটক রয়েছে আমেরিকা ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলোর সীমান্ত এলাকাগুলোতে।

ফাঁস হওয়া অডিওতে ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী ১০টি শিশুর কণ্ঠস্বর শোনা গিয়েছে। গত সপ্তাহেই সীমান্ত পেরিয়ে আমেরিকায় ঢোকার সময় যাদের মা, বাবাদের গ্রেফতার করা হয়। আর মা, বাবার থেকে ওই শিশুদের আলাদা করে নিয়ে অন্য একটি জায়গায় আটকে রাখা হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তজুড়ে ৯৬১টি বন্দীশিবির রয়েছে। এ শিবিরগুলোর বেশির ভাগই অস্থায়ী। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টাকালে অভিবাসীদের আটকে রাখার জন্য এগুলো ব্যবহার হয়ে থাকে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্তের ১৭টি রাজ্যে শিশুদের জন্য অন্তত ১০০টি বন্দীশিবির রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন বিভাগ ও পুলিশ এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বন্দীশিবিরগুলো তারকাঁটা দিয়ে ঘেরা খাঁচার মতো এবং বসবাসের অনুপযোগী। 

গত ছয় সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৪৬ জন নিরপরাধ অভিবাসী শিশুকে বন্দি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের সীমান্তজুড়ে প্রায় ৯৬১টি বন্দিশিবির রয়েছে। প্রত্যেকটি রাজ্যেই রয়েছে ১০-১২টি বন্দীশিবির। মেক্সিকো সীমান্তজুড়ে ১৭টি রাজ্যজুড়ে শতাধিক শিশু বন্দীশিবির রয়েছে। এর মধ্যে টেক্সাসের ম্যাকঅ্যালেন ও ব্রাউনসভিল বন্দীশিবির সবচেয়ে বড়। 

এসব শিবিরে বর্তমানে ১১ হাজার ৭৮৫ শিশু বন্দী অবস্থায় রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অবৈধ অভিবাসী নির্মূল অভিযানে এসব শিশুকে আটকে রাখা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ