বুধবার ২৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন খুব শীঘ্রই -ব্যারিস্টার মওদুদ

গতকাল বুধবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে বৃহত্তর নোয়াখালীর সাবেক বিএনপির এমপিদের উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে খুব শীঘ্রই রাজপথের আন্দোলনের কর্মসূচি আসছে বলে জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমানে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চলছে। আমরা জানি এতে ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারকে সরানো যাবে না। অল্প কিছুদিন ধৈয্য ধরুণ। যে ধরনের আন্দোলনে অতীতে স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়েছে ১৯৬৯ সালে এবং  ১৯৯০ সালে। সেই ধরনের আন্দোলনই বাংলাদেশে হবে। সেই আন্দোলনেই খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা হবে। গতকাল বুধবার দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দলের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান।
খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে ‘নিয়মতান্ত্রিক’ কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসবে মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী অবস্থায় আছেন। আমাদের কাছে তিনটি বিষয় মুখ্য। প্রথমত. বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা এবং তার জন্য প্রয়োজন হলে যে আন্দোলনের কর্মসূচি আমরা এতোদিন দিয়ে এসেছি সেটা আমাদেরকে পরিবর্তন করতে হবে। এমন কর্মসূচি দিতে হবে যে কর্মসূচি কার্যকর কর্মসূচি হবে। যার মাধ্যমে আমরা তাকে মুক্ত করে আনতে পারবো।
আমরা বলতে চাই, শুধু নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে কোনো স্বৈরাচারী সরকারকে পৃথিবীর কোথাও অপসারণ করা সম্ভবপর হয়নি। সুতরাং এদেশেও এটা সম্ভবপর হবে না। এই উপলব্ধি থেকে উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কর্মসূচি দেয়া হবে, সেই কর্মসূচি সফল হবে এবং দেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন ছাড়াও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে জাতীয় ঐক্য ও নির্দলয়ীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, তারা (সরকার) বিএনপিকে মাঠে নামতে দেবে না,  রাস্তায় নামতে দেবে না। এটাই তাদের উদ্দেশ্য। এর জবাব আমরা ইনশাল্লাহ দেবো। আর অল্প কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। যে ধরনের আন্দোলনে অতীতে স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়েছে ১৯৬৯ সালে এবং  ১৯৯০ সালে। সেই ধরনের আন্দোলনই বাংলাদেশে হবে।
নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঈদের দিন নোয়াখালীতের নিজের বাড়িতে পুলিশ অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি প্রতিবাদ জানাতে বৃহত্তর নোয়াখালীর নেতৃবৃন্দ এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পরিচালনায় এসময় বৃহত্তর নোয়াখালীর সাবেক সংসদ সদস্য বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, মাহবুব উদ্দিন খোকন, এ বি এম আশারাফ উদ্দিন নিজান, রেহানা আখতার রানু, নাজিম উদ্দিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালী বিএনপির দূর্গ। আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একটি আসনও পাবে না। ঈদের দিন বর্ষিয়ান নেতা মওদুদ আহমদকে পুলিশ অবরুদ্ধ করে রাখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশেই। আমরা এহেন ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি। রাজনীতির সহবস্থানের যে ঐহিত্য তিনি সেখানে বিনষ্ট করে দিয়েছেন।
ঈদের দিনের দলীয় নেতা-কর্মীও  সাধারণ মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে না দেয়া, বড় মসজিদের ঈদের জামায়াতে পড়তে না দেওয়ার ঘটনা তুলে ধরে মওদুদ আহমদ বলেন, আমাকে কোনো ইফতার পার্টিতে যেতে দেয়া হয়নি, সব ইফতার পার্টি পুলিশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলো। পুলিশ আমাকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখে ছিলো। আমার বাড়ির সামনে পুলিশ একটি ট্রাক আড়াআড়ি করে রেখে দিয়েছিলো। আজকে ওবায়দুল কাদেরের পায়ের নিচে মাটি নেই। তিনি এখন মিথ্যা কথা বলছেন। ঈদের দিনের ঘটনার পেছনে ওবায়দুল কাদেরই দায়ী। পুলিশই আমাকে বলেছেন যে, স্যার আমাদেরকে কোনো দোষ দিয়েন না। আমরা উপরের হুকুমে করছি। এই ঘটনা যে তারা ঘটিয়েছেন এটা  শুধু আমরা নই, বৃহত্তর নোয়াখালীর সাধারণ মানুষের বক্তব্য যে এটা তারই (ওবায়দুল কাদের) নির্দেশে করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ