শুক্রবার ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Online Edition

সাঁথিয়ায় ভুয়া শ্রমিকদের ১ কোটি টাকা কোষাগারে ফেরৎ দিলেন ইউএনও

সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা : পাবনার সাঁথিয়ায় ৪০ দিনের কর্মসৃজন কাজের অনুপস্থিত ভুয়া ৫০ হাজার শ্রমিকের প্রায় ১ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠালেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম। অনুপস্থিত শ্রমিক থেকে আর্থিক সুবিধা না পাওয়ায় চেয়ারম্যান মেম্বারদের ক্ষোভ প্রকাশ।
সরেজমিন ও উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা যায়, পাবনার সাাঁথিয়ায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্রকল্পে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে প্রতি দিন ২৪০৮ জন শ্রমিক প্রথম পর্যায় কাজের সুযোগ পান। যা মোট প্রকল্পের শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৬ হাজার ৩শত ২০ জন। প্রকল্প কাজ শুরু হলে প্রকল্প এলাকায় গণনা করে ১৮ হাজার ২শত ৮০ জন অনপুস্থিত ভুয়া শ্রমিকের সন্ধ্যান পান নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম। প্রথম পর্যায়ের অনুপস্থিত শ্রমিকের ৩৬ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরৎ পাঠান তিনি।
দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজে একই বরাদ্দকৃত শ্রমিকের ১৪ হাজার ২শত শ্রমিক অনুপস্থি পাওয়ায় প্রায় ২৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ফেরৎ পাঠানো হয়।
২০১৭/১৮ অর্থ বছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্রকল্পের জন্য প্রথম পর্যায় ১ লাখ ২ হাজার শ্রমিরে স্থলে ১৭ হাজার ১ শত ৭৪ শ্রমিক অনুপস্থি থাকেন। উক্ত অনুপস্থিত ভুয়া শ্রমিকের ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা সরকারি তহবিলে পূর্ণরায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে দুই অথৃ বছরে প্রায় ১ কোটি টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে। অনুপস্থিত ভ’য়া শ্রমিকদের হাজিরার টাকা মেম্বার ও চেয়ারম্যানরা না পাওয়ায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তা বলেন বর্তমান নির্বাহী অফিসার যোগদানের পর থেকেই প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত হয়ে হাজিরা গণনা করায় তারা ভ’য়া শ্রমিকের টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এদিকে জানা গেছে, উপজেলা প্রর্যায়ে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্রকল্পের শ্রমিকদের তালিকা ইউনিয়ন ভিত্তিক চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা করে থাকেন। এসময় বিভিন্নভাবে স্বজনপ্রীতির কারণে ভুয়া শ্রমিকের নাম তালিকাবদ্ধ হয়ে থাকে।
 ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুনসুর আলম পিনচু জানান, নির্বাহী অফিসার প্রকল্পে উপস্থিত হয়ে শ্রমিক গণনা করে ভুয়া শ্রমিকের বিল কর্তন করায় এ অর্থ ফেরত গেছে। যা অন্য উপজেলাগুলোতে করা হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক প্রতিটি প্রকল্পের অনুপস্থিত শ্রমিকের বিল কাটা হয়েছে। আগামীতে সঠিক তালিকা প্রণয়নে চেয়ারম্যানদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রকল্প এলাকায় যে পরিমাণ শ্রমিক উপস্থিতি পাওয়া গেছে ঠিক ওই পরিমাণ বিল পরিশোধ করেছি। অনুপস্থিত শ্রমিকের টাকা সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ