শুক্রবার ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Online Edition

উচ্চবিত্তরা ছুটছেন ফ্যাশন হাউসের দিকে ও মধ্যবিত্তদের ভরসা হকার্স ও হাসান মার্কেট

কবির আহমদ, সিলেট : আর ৯/১০ দিন পর মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঘনিয়ে আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর এর পাশাপাশি বাড়ছে মানুষের ব্যস্ততা। সিলেটের উচ্চবিত্তরা রং-বেরঙের ঈদের পোশাক কেনার জন্য ছুটছেন নগরীর অভিজাত ফ্যাশন হাউসগুলোতে। নিম্নমধ্যবিত্তদের ভরসা নগরীর হকার্স ও হাসান মার্কেট। জুন মাসের প্রথম দিকে চাকরিজীবী লোকজন বেতন-বোনাস পেয়ে ছুটছেন নগরীর শুকরিয়া মার্কেট, লন্ডন ম্যানশন, ব্লু ওয়ার্টার, কাকলী মার্কেট এবং মধুবন সুপার মার্কেটে। প্রিয়জনের মুখে হাসি ফুটাতে বিভাগীয় নগরী সিলেটে ব্যস্ত কেনাকাটা পুরোদমে চলছে। নিম্নমধ্যবিত্তরা আশা করছেন ঈদের ২/৩ দিন আগে ফুটপাতের বাজার জমে উঠবে। সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে পছন্দের  পোশাকটি কেনার চেষ্টা করবেন তারা।
আগামী ১৬ অথবা ১৭ জুন চাঁদ দেখা সাপেক্ষে পবিত্র ঈদুল ফিতর বাংলাদেশে উদযাপিত হবে। ঈদ কে সামনে রেখে  সিলেটের বিপনী বিতানগুলোতে শুরু হয়েছে  ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। প্রচন্ড গরমের কারণে দিনের বেলা ঈদ বাজারে লোকজনের সমাগম না থাকলেও ইফতারের পর থেকে সেহরীর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত প্রতিটি মার্কেটে নারী-পুরুষ এবং বাচ্চাদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো। প্রতিদিন বাড়ছে ক্রেতাদের আনাগোনা, বাড়ছে কেনাকাটা। পছন্দের জামা কাপড় কিনতে মানুষ ভিড় করতে শুরু করছেন মার্কেটগুলোতে। সেই সাথে নগরীর বিপণী বিতানগুলো বর্ণিল সাজে সেজেছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা।
নগরীর বিভিন্ন শপিংমল, দেশীয় শোরুম ও দর্জিপাড়াগুলো রঙ-বেরঙের আলোকসজ্জা আর দেশি - বিদেশি চোখ ধাঁধানো পোশাক ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। দেশী কাপড়ের পাশাপাশি পার্শবর্তী দেশ ভারত, দুবাই, ইতালি, পাকিস্তান, চায়না ও দেশীয় কারুকাজ করা বিভিন্ন পোশাক পাওয়া যাচ্ছে শপিংমলগুলোতে। সব মিলিয়ে বলা যায় জমে উঠছে সিলেটের ঈদ বাজার। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন মার্কেটের বিক্রেতারা আয়োজন করেছেন র‌্যাফেল ড্র সহ নানা কর্মসূচী।। এতে লটারীর মাধ্যমে ক্রেতাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় সব পুরষ্কার। মানুষ মাত্রই পছন্দের ভিন্নতা থাকে। পোষাকের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম নয়। কারো  পোশাক আধুনিক ফ্যাশন, কেউবা আবার ঋতুভেদে পোষাক পড়ে। তবে সবারই এক জায়গায় মিল রয়েছে সেটি হলো পরনের  পোশাকটি হতে হবে আনন্দদায়ক। বিক্রেতারা জানিয়েছেন জুন কিংবা জ্যেষ্ঠ মাসে ঈদুল ফিতর হওয়ায় গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে তারা মার্কেট সাজিয়েছেন মানুষের চাহিদা অনুযায়ী  পোশাক দিয়ে। এবারের ঈদে তরুণীদের উজ্জ্বল রঙের সূতি থ্রী পিছের চাহিদা বেশী।
সিলেটের নামী-দামী বিপণী বিতানগুলির পাশাপাশি মধ্যবিত্তের মার্কেট নামে খ্যাত হকার্স ও হাসান মার্কেটের দোকানগুলিতে ভিড় করছেন ক্রেতা সাধারণ।
গতকাল বুধবার সরোজমিনে ঘুরে দেখা যায় সিলেট নগরীর অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র আল-হামরা, শুকরিয়া, সিটি সেন্টার, প্লাজা, মধুবন, মিলেনিয়াম, মানরু, ব্লুওয়াটার, হাসান মার্কেট, কাজি ম্যানসন, মনিপুরী শোরুম, অভিজাত ফ্যাশন হাউস আড়ং, মাহা, মাম্মী, বুনয়ন, কাশিস, মনোরম, মেগাবাজারসহ শোরুমগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করার মত। এবার তুলনামূলত ভাবে কাপড়ের দাম অনেক বেশি বলে মন্তব্য ক্রেতাদের। নয়াসড়ক আবাসিক এলাকায় বড় বড় ফ্যাশন হাউস গড়ে উঠে বিগ মার্কেটে পরিণত হয়েছে। মহিলা তরুণী ও সোনামনিদের দামী কাপড়ের জন্য এসব প্রতিষ্ঠান দেশে-বিদেশে সুখ্যাতি অর্জন করেছে। মাহার সত্ত্বাধিকারী সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারী মাহিউদ্দিন সেলিম দৈনিক সংগ্রামকে জানান, এবার শুরু থেকে ঈদ বাজারে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেনাকাটা ভালো হচ্ছে তবে ঈদের কয়েকদিন আগে আরো বেচাকেনা ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদী। তাদের শো রুমে নিত্যনতুন পোষাকের স্টক রয়েছে। তিনি আরো জানান, ঈদের সময় বাড়তি মুনাফার কোন সুযোগ নেই। আমরা নিয়মিত যে হারে লাভ করি, ঈদের সময় ঠিক সেই মুনাফা ধরেই ব্যবসা করি। ২০০০ টাকা থেকে নিয়ে ৩০/৩৫ হাজার টাকায় থ্রী পিছ ও বাড়ী বিক্রি হচ্ছে এসব অভিজাত বিপণী বিতানে। নতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবীও চোখে পড়ার মতো।
এছাড়া ক্রেতাদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে ব্যাবসায়ীরা সালোয়ার-কামিজ, লেহেঙ্গা, থ্রি-পিসের ক্ষেত্রে ভারতীয় কাপড়কেই  প্রাধান্য দিয়েছেন। এদিকে নগরীর বিপণী বিতান ও দেশি শোরুম গুলোতে দেশীয় পোশাক ছাড়াও বিদেশি পোশাক নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। নগরীর শুকরিয়া মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ফৌজিয়া সুলতানা বলেন, ‘রোজার শেষ দিকে মার্কেটগুলোতে ভিড় থাকে। শেষ সময়ে কাপড়ের দোকানগুলোতে পছন্দের কাপড় হয়তো নাও থাকতে পারে। তাই আগে ভাগেই  পোশাক কিনতে আসা।’ এছাড়া এবার ঈদে অনেক প্রবাসী দেশে ঈদ করতে আসবেন তাই দেশী ক্রেতাদের পাশাপাশি প্রবাসীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও রেডিমেট পোষাকের দোকানগুলো অন্যরকম ভাবে সেজেছে। ব্লুওয়াটার মার্কেটের ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া বলেন, অন্যান্য ঈদের চেয়ে এবারের ঈদে তাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি । বিশেষ করে ঈদে এবার প্রবাসীদের ভাল উপস্থিতি আশা করছেন তারা। তিনি আরো বলেন, আশা করছি এবার ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া মিলবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর দেশে প্রত্যাবর্তন।
অবশেষে হকার্স লীগ নেতা রকিব গ্রেফতার : সিলেটের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটামের পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে পুলিশ গ্রেফতার করলো কথিত রাস্তার রাজা হাকার্স লীগ রকিবকে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌণে ১টার দিকে সিলেট মহানগর হকার্স সমিতির সভাপতি বহু মামলার আসামী আব্দুর রকিবকে নগরীর বন্দরবাজার এলাকা থেকে কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। গতকাল বুধবার কোতোয়ালী থানা পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল-হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। রকিবের বিরুদ্ধে গত সোমবার ইফতারের পূর্বে নগরভবনে হামলা, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ওসি মো. গৌসুল হোসেন।
গত সোমবার বিকেলে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রকিব আলীর নেতৃত্বে একদল হকার নগরভবনে হামলা চালায়। হামলায় সিটি করপোরেশনের ৩ জন কর্মচারী আহত হন। এছাড়া হকাররা করপোরেশনের গাড়ি ভাঙচুরেরও চেষ্টা চালায়। এসময় হকাররা মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর উপরও হামলার চেষ্টা চালায় রকিবের নেতৃত্বে হকাররা।
এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে সিটি করপোরেশনের আইন সহকারী শ্যামল রঞ্জন দেব বাদি হয়ে এসএমপির কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১১। মামলা দায়েরের পৌণে ৪ ঘন্টা পর রকিবকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলায় রকিব আলী ওরফে আবদুর রকিবের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো শতাধিক হকারকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রকিবকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ