সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

দালালদের দৌরাত্ম চরমে সাইনবোর্ডেই সীমাবদ্ধ শ্রীপুরের ভূমি তথ্যসেবা

স্টাফ রিপোর্টার : শ্রীপুর উপজেলা ভূমি অফিস বর্তমানে বহুমুখী বাণিজ্যালয়ে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম হচ্ছে বেসরকারী বেতনে। অফিস চত্বরে সরকার কর্তৃক দেয়া দৃষ্টিনন্দন ভূমি তথ্য সেবা সংক্রান্ত সাইনবোর্ড থাকলেও বাস্তবে টাকা ছাড়া কোন সেবাই মিলেনা। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত আদায়ের রাশিদে যা আদায় হয় তার কয়েকশ গুণ আদায় হয় বেসরকারীভাবে হাতিয়ে নেন ভূমি কর্মকর্তারা।
অফিসের উমেদার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে তাদের কাছ থেকে এ টাকা আদায় করে থাকে। জানা যায়, সহকারী কমিশনার ভূমি কর্তৃক মোটা অংকের টাকা নিয়ে ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিসে বিপুল সংখ্যক উমেদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ সরকারী কাগজের বিভিন্ন অংশ তছনছ করে। তাদের নিকট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাগজ আদৌ নিরাপদ নয়।
এদিকে, নামজারীর সরকারি খরচ ডিসি আরসহ ১২১০ টাকা হলেও প্রতি একরে আদায় করা হয় কয়েক হাজার টাকা। সাধারণ ১ একর পর্যন্ত নাম জারীর ফাইলগুলো উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তারা লেনদেন করলেও এক একরের উপরে জমির নামজারীর লেনদেন করেন সরাসরি সহকারী কমিশনার ভূমি নিজে। নাম জারীর আবেদন করে যোগাযোগ না করলে (টাকা না দিলে) বিনা নোটিশে নামজারী আবেদন বাতিল হয়ে যায়।
একই ভাবে যৌথ সীমানা নির্ধারণ, মিস মোকদ্দমার বেলায়ও তিনি নিজে বাদী বিবাদীর সাথে চুক্তি করে যে পক্ষ বেশী টাকা দেন তার পক্ষেই আদেশ প্রদান করেন। বেশ কয়েকটি মিস মোকদ্দমার চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করার পর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মূল নথিতে আদেশ লিখে পুনরায় নথীর শুনানীর তারিখ দিয়েছেন তা নথি তদন্ত করলে প্রমাণ পাওয়া যাবে।
ভোক্তভোগী ডঃ জামিল হোসেন জানান, সম্প্রতি বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), গাজীপুর এর আদালতের মিস আপিল মো: নং ২৫/১১ তাং ১৪-০৪-১৪ একটি আদেশে বাদীর মালিকানা প্রমাণিত না হওয়ায় বেশ কয়েকটি নামজারী বহাল রাখা হয়। যাতে বিবাদী পক্ষ নিজ নামে নামজারী করে সীমানা প্রাচির নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে রয়েছে।
কতিপয় দালালের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার চুক্তিতে হোসেন, দুলাল গং এর নামে ১৫০৭/১৭-১৮ নং নথি মূলে নামজারীর আবেদন করেন। উক্ত নামজারী না করার জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি এর বরাবরে আবেদন করা সত্ত্বেও নামজারীটি অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছ।
স্থানীয় কেওয়া এলাকার মফিজুল ইসলাম জানান, আমি ৬ মাস পূর্বে জমি বিক্রি করার পর সেই জমির ভুয়া নামজারি নথি নং-১৮৪৬-১৭-১৮ করে অন্য নামে মালিকানা তৈরি করে বিক্রির চেষ্টা করছে।
স্থানীয়রা আরো জানান, সামান্য মুদ্রণজনিত ভুল সহ সাধারণ বিষয়ে সংশোধন করতে চাইলে বিভিন্ন রকম হয়রানী শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। কোন জায়গায় অভিযোগ করে লাভ হয় না।
ভূমি অফিসে কর্মরত অনেক কর্মচারী কর্মকর্তারা জানান, পূর্বের অফিসারের তুলনায় বর্তমান অফিসারের ঘুষের ধার্য অনেক বেশী যা আমাদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব হয় না। বর্তমান সহকারী কমিশনার ভূমি সোহেল রানা যোগ দান করার পর কিছু সংখ্যক দালাল হরহামেশায় তার সাথে থেকে সমস্ত লেনদেন তাদের মাধ্যমে করে থাকেন। ওই সমস্ত দালালদের সাথে আতাত করে ভেজাল জমির কাগজপত্র তৈরি করে বিক্রিয় করার অভিযোগ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে বর্তমান সহকারী কমিশনার ভূমি সোহেল রানা যোগদান করার পর থেকে বিভিন্ন হাট বাজারে, সরকারী খাস জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণসহ জমি জবর দখলের হিরিক চলছে। তহসিলদারের মাধ্যমে মোট অংকের টাকা নিয়ে জবর দখলে সহযোগিতা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে শ্রীপুর, বরমী, মাওনা, গোসিংগাসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে চান্দিনা ভিটির তালিকাভুক্ত জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে এক শ্রেণীর দখলবাজরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমির সাথে যোগাযোগ করে এ সকল ভবন নির্মান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভূমি সেবা পাওয়ার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কোন নিয়ম নাই। অন্যদিকে বাজারের অন্তর্ভুক্ত খাস জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ