রবিবার ১২ জুলাই ২০২০
Online Edition

খুলনা বিভাগে বন্দুকযুদ্ধে ৩৪ মাদক বিক্রেতা নিহত

খুলনা অফিস : দেশব্যাপী মাদকবিরোধী র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি অভিযানে রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এ পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে র‌্যাব ও পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে ৩৪ জনের মতো নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক বিক্রেতাদের হাতে হামলার শিকার হয়ে আহত হচ্ছেন। অন্যসব বাহিনীদের অভিযানে আত্মরক্ষার্থে নিজস্ব অস্ত্র থাকলেও জন্মলগ্ন থেকেই নেই মাদকদ্রব্য সংস্থার কাছে অস্ত্র। যার কারণে এ সংস্থা বিভিন্ন সময়ে অভিযানে গেলে মাদক বিক্রেতাদের হাতে হামলার শিকার হচ্ছেন। যার কারণে অনেকটাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছেন।
খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এ পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাব ও পুলিশ বাহিনীর সাথে তাদের পাল্টাপাল্টি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ৩৪ জনের মতো। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে যশোর অভয়নগর এলাকার মাদক বিক্রেতা আবুল কালাম, হাবিবুর রহমান শেখ, মিলন কাসারী, শার্শায় মুক্তাজুর রহমান ও সিরাজুল ইসলাম, চৌগাছায় শফিকুল ইসলাম, ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে সবদুল হোসেন মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা জীবননগরে জোনাব আলী, মাগুরা সদরে আইয়ুব আলী ও মিজানুর রহমান কালু, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় কামরুজ্জামান সাদু, ঝিনাইদহে কালীগঞ্জে শামীম সরদার, সাতক্ষীরা কলারোয়ায় ইউনুস আলী দালাল, যশোর অভয়নগরে আবুল কালাম (নিহত খুলনা জেলা দিঘলিয়ায় এলাকায়), কুষ্টিয়া সদরে হালিম মন্ডল, মেহেরপুর গাংনীতে হাফিজুর রহমান হাফি, ঝিনাইদহ শৈলকুপায় রফিকুল ইসলাম লিটন, সাতক্ষীরা ভোমরায় খলিলুর রহমান পুটে, ঝিনাইদহ সদরে ফরিদ, যশোর সদরে মানিক, যশোর সদরে আহসান আলী, কুষ্টিয়া দৌলতপুরে মোকাদ্দেশ হোসেন ও ফজলুর রহমান টাইটেল, সাতক্ষীরা করারোয়ায় আনিসুর রহমান, মাগুরা সদরে বাচ্চু চোপদার, রায়হান আলী ব্রিটিশ ও কিশোর অধিকারী, সাতক্ষীরা কলারোয়া চুকনায় আনিছুর রহমান, যশোর বেনাপোলে লিটন হোসেন ও চাকমা বাদশা, নড়াইল সদরে সজিব, চুয়াডাঙ্গায় পৌর এলাকায় তানজিল আহম্মেদ এবং যশোর বাঘারপাড়া এলাকায় রাজু আহম্মেদ।
সূত্র মতে, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ তালিকা অনুযায়ী জেলায় মাদকের গডফাদার রয়েছে ২৩ জনের মতো। এছাড়া যশোর জেলায় রয়েছে ১৮ জন। খুলনা জেলার মধ্যে মাদক বিক্রেতার তালিকায় হিট লিস্টে নাম রয়েছে নগরীর ৫নং মাছ ঘাটের মোঃ গাউস হোসেন, মোঃ মোমিন গাজী, মহিরবাড়ি খালপাড়ে টেরা খোকন, সোনাডাঙ্গা সোনলীনগরে জাহানারা ওরফে জানু, একই এলাকায় হোসনেয়ারা বেগম, লবণচরা কৃষ্ণনগর এলাকার লিলি বেগম, রূপসা উপজেলার জাবুসা এলাকায় হোসেন আলী (কানা), আইচগাতীতে মোসারফ খলিফা ওরফে মোসা, নামনগর এলাকায় মোঃ হালিম শেখ, খালিশপুর থানাধীন এলাকায় শিউলি আক্তার, শেখ আওরঙ্গজেব, দৌলতপুর থানাধীন এলাকায় মোঃ শাহাবুদ্দিন খান, মায়া বেগম, আলম আজম, মোঃ শেরেকুল, খানজাহান আলী থানাধীন রেখা বেগম, ফুলতলায় শাহাদাৎ হোসেন ওরফে শাহ মোড়ল, ডুমুরিয়া আহম্মেদ আলী বিশ্বাস, রেনু বেগম, আকরাম, তেরখাদায় আরিচুল ও দাকোপে আসমা বেগম।
খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, অস্ত্র ছাড়াই মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে কর্মকর্তারা থাকেন আতঙ্কে। বিভিন্ন জায়গায় মাদক বিক্রেতাদেরকে ধরতে গিয়ে হামলার কবলে পড়ছেন। ঘটনার পর থানা পুলিশকে ইনফর্ম করলে তারা এসে উদ্ধার করছেন। তিনি বলেন, মাদক বিক্রেতারা নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য অস্ত্র ব্যবহার করছে, সেখানে আমরা অভিযানে গেলে জীবনের ঝুঁকিতো থাকবেই। বিষয়টি আমাদের মাদকদ্রব্য’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অস্ত্র দেয়ার বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আলাপ আলোচনা করছেন। আশা করি খুব শিগগির সরকার এ বিষয়ে সিদ্বান্ত নেবেন।
খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক পারভীন আক্তার বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে আমরা নিরস্ত্রভাবে অভিযান পরিচালনা করি। বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকে। অভিযানে গেলে যদি কোনো মাদক বিক্রেতা আমাদের ওপর হামলা চালায় আমাদের তখন করণীয় কিছুই থাকে না, কারণ আমার নিরস্ত্র অবস্থায় অভিযান পরিচালনা করি। তারপরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ অভিযানে আমাদের যেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিদিনই মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তালিকাভুক্তরা এখন গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। তারপরেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ব্যাপারে (ডিআইজি) পিপিএম, এনডিসি পরিচালক (অপারেশনস ও গোয়েন্দা) সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, তাদের বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে মাদক বিক্রেতাদের হাতে হামলার শিকার হচ্ছেন। এতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ শোনা মাত্রই তাদেরকে সাহায্যে এগিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনী আসার আগে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হলে তা ওই মুহূর্তে এড়ানো সম্ভব নয়, কারণ তাদের কাছে অস্ত্র থাকে না। এ সব বিষয়ে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। চলতি বছরের গত মে মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনায় ক্ষুদ্রাস্ত্র নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহি থেকে পরিদর্শককে অস্ত্র প্রদানের বিষয়টি ভেবে দেখছেন সরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ